অতিমাত্রায় দৈহিক স্বাস্থ্যবিধির অনুসরণ এবং অ্যালার্জি

অনলাইন ডেস্কঃ

স্বাস্থ্যবিধির ওপর প্রথম হাইপোথিসিস(অনুকল্প তথা প্রাথমিক গবেষণা) প্রদান করা হয় ১৯৮৯ সনে। ডেভিড স্ট্রাকান নামক বিজ্ঞানী দেখান যে, পরিবার ছোট বড় হওয়ার সাথে অ্যালার্জি রোগের বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। পরিবার যত বড় হয় অর্থাৎ পরিবারের শিশুর সংখ্যা যত বেশি হয় সেই পরিবারের শিশুদের অ্যালার্জি তত কম হয়।

এথেকে তিনি হাইপোথিসিস দাঁড় করান, গত ৩০ থেকে ৪০ বছরে অ্যালার্জি বেড়ে যাওয়ার কারণ হল, শিশুদের দেহে গুপ্ত অ্যালার্জির জীবাণুগুলো বড় ভাইবোনদের  সাথে সংস্পর্শে আসলে দ্রুত বাড়তে থাকে। স্ট্রাকান আরো বলেন, অ্যালার্জির জীবাণুগুলো প্রকাশ না পাবার কারণ শুধু ছোট পরিবারই নয় বরং উন্নত গৃহব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা উৎকর্ষও। সুতরাং ছোট পরিবারে বেশি পয়-পরিষ্কার থাকার কারণে অ্যালার্জি আর ধরা পড়ে না। কিন্তু এই অ্যালার্জির জীবাণুগুলোই যখন শিশুর শরীর থেকে বড় ভাই বা বোনের শরীরে গোপণে প্রবেশ করে তখন অ্যালার্জি সবার হয়ে যায়।

যেহেতু স্বাস্থ্যবিধিবিষয়ক ব্যাপক গণসচেতনতা জাগানো যায়নি, তাই এখনো অনেক মানুষ ধারণা করে যে, নোংরা-অপরিষ্কার থাকাটাই স্বাস্থ্যকর এবং স্বাস্থ্যবিধির নিয়মকানুন অবাস্তব ও অপ্রাকৃতিক। এজন্য স্বাস্থ্যবিদগণ মোটামুটি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। প্রাত্যহিক জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এইসব স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা আসলেই উদ্বেগজনক। ঘর-বাড়িতে দৈনন্দিন জীবনের স্বাস্থ্যবিধির লক্ষ্য পূরণ্যে উদ্দেশ্যে, ইন্টারন্যাশনাল সাইন্টিফিক ফোরাম অন হোম হাইজিন সংস্থাটি কটি ঝুঁকি-ভিত্তিক পদ্ধতি বের করেছে। একে “টারগেটেড স্বাস্থ্যবিধি”ও বলা হয়। টারগেটেড স্বাস্থ্যবিধির ভিত্তিমূল হল, ঘর-বাড়ির মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোগের পথ চিহ্নিতকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সংক্রমণের ধারা ভেঙে স্বাস্থ্যবিধি প্রবর্তন করা।  এছাড়াও এর আরো একটি লক্ষ্য হল, যতদূর সম্ভব আমাদের পরিবেশের অণুজীবদের প্রকাশ পাবার স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক অবস্থা বজায় রাখা যাতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠন করা যায়।

অতিমাত্রায় অন্তকর্ণ পরিষ্কার করা

কানের ভেতরের অংশ অতিরিক্ত পরিষ্কার করা থেকে কানের ভেতরে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে। কানের ভেতরের অংশ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই দেহের অন্যান্য অংশের তুলনায় কোমলভাবে একে পরিষ্কার করতে হবে।  বেশিরভাগ সময় কান নিজেই এর ভেতরের অংশ পরিষ্কার করে ফেলে। যেহেতু কানের পর্দা থেকে কানের বাইরের অংশ পর্যন্ত একটি নালি বিদ্যমান। কানের খইল সাধারণত কানের ভেতরের গভীর অংশ থেকে ধারবাহিকভাবে বাইরের অংশে পরিবাহিত হয় এবং বাইরে এসে শুকিয়ে যায় এবং পড়ে যায়। কান খোঁচানির মাধ্যমে খুঁচিয়ে ময়লা বের করতে গেলে কানের ভেতরের অংশ স্বাভাবিকের চাইতে বেশি অপরিষ্কার করে ফেলতে পারে। বাইরে আসা কানের খইলকে ভেতরে ঠেলে দিয়ে অথবা তুলা বা অন্য কোন উপাদান কানে ঢুকিয়ে কানের ভেতরের অংশ আরো অপরিচ্ছন্ন করার চাইতে স্বাভাবিকভাবে খইল বের হতে দেয়াই শ্রেয়।

তাছাড়া অতিরিক্ত সাবান, ক্রিম, মলম ইত্যাদি ব্যবহারও চামড়ার ক্ষতি করতে পারে। যেমন, সাবান এবং মলম ত্বকের স্বাভাবিক  প্রতিরক্ষামূলক তেল, চর্বি-দ্রবণীয় উপাদান যেমন, কোলেক্যালসিফেরল (cholecalciferol যা ভিটামিন ডি৩ হিসেবেও পরিচিত) নিঃশেষ করে দিতে পারে। এছাড়া সাবান বা মলম কানে ঢুকে ভেতরে চলে গিয়ে কানের স্বাভাবিক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। 

অতিরিক্ত মুখের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ

প্রাপ্তবয়স্ক সকলের জন্য দৈনিক দুবার ব্রাশ করা উচিৎ, কোমলভাবে সঠিক প্রক্রিয়ায়। কয়েক মাস(অনুর্ধ্ব তিন মাস) পর পর একদফা অসুস্থতা হবার পর টুথব্রাশ পরিবর্তন করাও উচিৎ।

কিন্তু মুখ পরিষ্কার করা  নিয়ে কিছু ভুল ধারণাও আমাদের আছে। ব্রাশ করার পরে মুখে পানির ছিটা দেয়া উচিৎ নয়, এসিডজাতীয় কোন কিছু খাওয়ার পরেই ব্রাশ ফেলারও কোনো নিয়ম নেই। দিনে একবার দাঁত খোঁচানো ভাল, প্রতিবার আলাদা সুতা ব্যবহার করে। দাঁতের ক্রিম(Tooth Mousse) ব্যবহারের কার্যকারিতা এখনও বিতর্কিত। দাঁতের বছরে কমপক্ষে একবার দাঁতের ডাক্তার দেখানোও উচিৎ।

সময় নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *