‘অতিরিক্ত খাবার রেখে যান, প্রয়োজনীয় খাবার নিয়ে যান’ নওগাঁর মহাদেবপুরে মানবতার ঘর

শহিদুল ইসলাম (জি এম মিঠন) নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান মিলন আর এনায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিঞার অনন্য কীর্তি সচ্ছল ও অসচ্ছল মানুষের স্বপ্নের সেতুবন্ধন ‘মানবতার ঘর’। দেশজুড়ে ঘাতক করোনার যাঁতাকলে পিষ্ট গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া আপামর মেহননতি মানুষের ভূলুন্ডিত মানবতাকে জাগ্রত করতে জনতার ভালবাসার ছোঁয়ায় সাজিয়েছেন এই অনবদ্ব ঘর।

উপজেলার কালুশহর হাট এলাকায় এনায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশে টিনের ছাউনি দেয়া একটি পুরাতন ছোট্ট ঘরকে মনের মাধুরী দিয়ে সাজিয়ে তৈরী করা হয়েছে এই ঘর। এ ঘরে নেই কোন আসবাব, খাট, সোফা, চেয়ার টেবিল, ড্রেসিং। কিন্তু রয়েছে বিত্তবানদের ভালবাসা, আর অসহায় গরীবদের আশা।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ঘরে থাকা কর্মহীন মানুষেরা যাতে করে না খেয়ে না থাকেন, সেজন্য বিত্তবানদের কাছ থেকে নিয়ে গরীবদের জন্য এঘরে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে খাবার। চাল, ডাল, আলু, তেল, লবন।

গত রবিবার বিকেলে এই ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৮ জন করে মোট ৭২ জন কর্মহীন নারী পুরুষকে ডেকে এই খাবারগুলো দেয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদেরকে বসতে দেয়া হয়। আগে থেকে ওই ঘরে এসব খাবারের ৭২ টি প্যাকেট তৈরী করে সাজিয়ে রাখা হয়। নামের তালিকা থেকে তাদেরকে ডেকে একে একে ওই ঘরে ঢুকতে দেয়া হয়। তারা ঘরে ঢুকে একটি করে প্যাকেট নিয়ে অন্য দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসেন।

ওই ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিঞা জানালেন, ঘুনেধরা সমাজ ব্যবস্থাকে ভাঙতে, গতানুগতিক ব্যবস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভীড় করে খাবার বিতরণ না করে মানবতার ঘরে রাখা খাবার দু:স্থরা নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করবেন।

তিনি জানান, এলাকায় মাইকিং করে বিত্তবানদের এঘরে খাবার রেখে যেতে, আর গরীবদের এখান থেকে খাবার নিয়ে যেতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকার ৩০ জন দানশীল ব্যক্তি নগদ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা, ৭৫০ কেজি চাল ও ২৫০ কেজি ডাল এ মানবতার ঘরে দান করেছেন। স্বচ্ছতার জন্য তাদের
নামের তালিকা এবং দানের পরিমাণ মানবতার ঘরের বাইরের দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে। ‘অতিরিক্ত খাবার রেখে যান, প্রয়োজনীয় খাবার নিয়ে যান’ এই শ্লোগানে এ মানবিক কার্যক্রম এলাকায় সাড়া জাগিয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সূষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য তার নেতৃত্বে ইউপির অন্যান্য মেম্বার, শিক্ষক, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া যে কোন ব্যক্তি যে কোন সময় এর হিসাব নিকাশ দেখতে পারেন।

তিনি জানান, মহাদেবপুর ইউএনও সম্প্রতি উপজেলার ১০ ইউপি চেয়ারম্যানকে ডেকে এধরনের একটি করে ঘর সাজানোর পরিকল্পনা দেন। তার উৎসাহেই এই ঘরটি চালু করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান মিলন বলেন, সরকারী উদ্যোগে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে ওয়ার্ড করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির দেয়া তালিকা অনুযায়ী কর্মহীন পরিবারের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। একাজে বিত্তবানরাও এগিয়ে আসলে মানবতায় জয় হয়।

তিনি জানান, মানবতার ঘরে বিত্তবানরা খাবার রেখে যেতে পারবেন, আবার যে সব অসহায় গরীব মানুষের খাবার প্রয়োজন, তারা এখান থেকে খাবার নিয়ে যেতে পারবেন। এমনকি যারা লজ্জায় ত্রাণ নিতে যেতে চান না, তারাও পরিচয় গোপন রেখে এখান থেকে খাবার নিয়ে যেতে পারবেন।প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মানবতার ঘর তৈরী করা হবে বলেও তিনি জানান।

মানবতার ঘর থেকে খাবার বিতরণ দেখতে আসা উপজেলা চেয়ারম্যান আহসান হাবীব ভোদন জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সকল মানুষকে বাড়ীতে রাখতে সরকার বদ্ধ পরিকর। জননেত্রী শেখ হাসিনা হাসিনা বলেছেন, আপনারা ঘরে থাকুন, আপনাদের খাবার পৌঁছে দেয়া হবে। এরই আলোকে সরকারের পাশাপাশি অনেক বিত্তবান নিজ
উদ্যোগে বিচ্ছিন্নভাবে খাবার বিতরণ করছেন। তাদের বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে এবং প্রকৃত গরীবদের খাবার পাওয়া নিশ্চিত করতে মানবতার ঘর অনন্য অবদান রাখবে।

সময়নিউজ২৪.কম /বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *