অধিনায়ক থেকে বিদায় মাশরাফি বিন মর্তুজা !!!

অনলাইন ডেস্কঃ

বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মর্তুজার অধিনায়কত্বের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১২৩ হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের সবকটিতে জয় পেয়েছে স্বাগতিকেরা।

৩৪২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২১৮ রানে থেমে যায় জিম্বাবুয়ে। এর আগে পাহাড়সম রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। সর্বোচ্চ সিকান্দার রাজা করেন ৬১ রান। বাংলাদেশের পক্ষে সাইফুদ্দিন নেন ৪ উইকেট।

এর আগে শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার লিটন দাস ও তামিম উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ ২৮২ রানের রেকর্ড গড়েন। আগের ম্যাচের তামিমের রেকর্ড ভেঙে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের নতুন রেকর্ড গড়েন লিটন। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ৪৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৩২২ রান। তামিমের অপরাজিত ছিলেন ১২৮ রানে।

বৃষ্টির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ওভার নির্ধারণ হয় ৪৩ ওভারে। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ৪৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩২২ রান।

অধিনায়ক হিসেবে বিদায়ী ম্যাচে সম্ভাব্য সেরা উপহারই পেয়েছেন। ইতিবাচক সব রেকর্ডে দেশের ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়েছে। নিজেও ছুঁয়েছেন অনন্য এক মাইলফলক। বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ওয়ানডেতে ৫০ জয় পেয়েছেন মাশরাফি। বাংলাদেশের হয়ে এ কীর্তি যে এই প্রথম সেটা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সফল অধিনায়ক হাবিবুল বাশারই তাঁর চেয়ে পিছিয়ে আছেন ২১ ব্যবধানে। নিকট ভবিষ্যতে মাশরাফির পর এমন কিছু বাংলাদেশের হয়ে করার সম্ভাবনা আছে শুধু সাকিব আল হাসানের। তবে সে পথটাও বেশ কঠিন। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে এলে দলের দায়িত্ব যদি বুঝে পানও, তবু আরও ২৭ ম্যাচে দলের জয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে সাকিবকে।

সব পাওয়ার দিনেও অপূর্ণতা ছিল মাশরাফির মনে। মাঠে যে ছিলেন না দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা, খুব কাছের ছোট ভাই সাকিব আল হাসান। নিষেধাজ্ঞা থাকায় মাঠে উপস্থিতের কোনো সুযোগ ছিল না সাকিবের। আগের দিন মাশরাফির বিদায়ের ঘোষণা শুনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধিনায়ককে নিয়ে আবেগঘন বিবৃতি দেন সাকিব। ‘প্রিয় মাশরাফি ভাই’ও ভুলেননি সাকিবের কথা। তাইতো বিদায় বেলায় সাকিবকে নিয়ে আবেগ সংবরণ করতে পারেননি। সম্প্রচার চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, বিদায়ের দিনে সাকিবকে সবচেয়ে বেশি মিস করছেন।

‘আমাকে এত সম্মান দেওয়ার জন্য আমার সকল সতীর্থকে জানাই ধন্যবাদ। তবে আমি বলতে চাই, আমি মাঠে আজ সাকিবকে মিস করছি। সে আমার সঙ্গে সবসময় ছিল। আই মিস ইউ বয়।’ –সাকিবকে নিয়ে বলেন মাশরাফি।

সাকিব-মাশরাফির এ রসায়ন চলছে বহু আগের থেকে। যখন ফয়সাল থেকে সাকিব হওয়ার মিশনে নামে বাংলাদেশের সেরা অল রাউন্ডার। এছাড়াও অধিনায়কত্বের ব্যাটন দিতে সাকিবকে সবচেয়ে বেশি যোগ্য মনে করেন মাশরাফি। বিভিন্ন সময় এই কথা বলেছেন বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক। এমনকি ২০১০ সালে টেস্ট, ওয়ানডেতে মাশরাফি যখন অধিনায়ক হন। তার ইনজুরিতে অধিনায়কত্ব চলে আসে সাকিবের কাছে। তখন টিম টাইগারকে সাকিব যেভাবে সামলিয়েছেন তার প্রশংসাও বিভিন্ন সময় ঝরে মাশরাফির কণ্ঠ থেকে। এমনকি মাশরাফির শেষ টি-টোয়েন্টি! প্রিয় বড় ভাইকে বিদায় জানাতে সব দায়িত্ব তো একাই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন সাকিব।

তাই মাঠে সাকিবকে মিস না করে উপায় ছিলো কি মাশরাফির! নাকি বিদায়বেলা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আলোকবর্তিকা সাকিবের হাতে তুলে দিয়ে যেতে পারেননি বলেই আক্ষেপ ঝরেছে মাশরাফির কণ্ঠে।

ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে ৫০ জয় বাংলাদেশের জন্য প্রথম হলেও ক্রিকেট বিশ্ব এমন কিছু আরও ২৪ বার দেখেছে। অর্থাৎ ২৫ জন অধিনায়কের ওয়ানডেতে জয়ের ফিফটি আছে। তিনজন তো দলকে জেতানোর সেঞ্চুরিই করেছেন। আর নার্ভাস নাইনটি নাইনে ‘আউট’ হয়েছিলেন হ্যান্সি ক্রনিয়ে। ফলে ওয়ানডের সফল অধিনায়কদের তালিকায় মাশরাফি বেশ পিছিয়েই আছেন। নিখুঁত হতে চাইলে বলা যায় মাশরাফির চেয়েও সফল অধিনায়ক আছেন আরও ২২ জন।

অধিনায়কত্ব শুধু জয় দিয়ে হিসাব করলে ভুল হবে। জয়গুলো পেতে কার কত ম্যাচ দরকার হয়েছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। অধিনায়কত্বের শুরুতে জয়-পরাজয়ের অনুপাতে সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের সঙ্গেই পাল্লা দিয়েছেন মাশরাফি। কিন্তু ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ধীরে ধীরে সেটা কমে এসেছে। তবু ৮৮ ম্যাচে ৫০ জয় হেলায় উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয় কারও পক্ষেই। মাশরাফির অধিনায়কত্বে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৫৬.৮২ ভাগ ম্যাচেই জয় পেয়েছে।

জয়ের শতকরা হিসেবে কম পক্ষে ৫০ ম্যাচ জেতা অধিনায়কদের মাঝে মাশরাফি বেশ এগিয়েই আছেন। সেরা পঁচিশে জয়ের হারে মাশরাফির চেয়ে পিছিয়ে আছেন আরও দশজন। তাঁদের মাঝে ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো ও ১১০ ম্যাচ জেতা মহেন্দ্র সিং ধোনি (৫৫ ভাগ) আছেন। বিশ্বকাপজয়ী আরও দুই অধিনায়ক ইমরান খান (৫৩.৯৫) ও অর্জুনা রানাতুঙ্গাও (৪৬.১১ ভাগ) আছেন এ দলে। আরও আছেন ভারতকে বদলে দেওয়ার কৃতিত্ব পাওয়া সৌরভ গাঙ্গুলী (৫১ ভাগ)।

মাশরাফির চেয়ে তাহলে এগিয়ে আছেন কারা? এখানেও আছেন বিশ্বজয়ীরা। অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল ক্লার্ক মাশরাফির মতোই ৫০ জয় পেলেও তাঁর অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ খেলেছে ৭৪টি। ফলে জয়ের হারে ক্লার্ক বেশ এগিয়ে (৬৭.৫৭ ভাগ)। ক্লার্কের চেয়েও এগিয়ে আছেন এখন পর্যন্ত কোনো বৈশ্বিক ট্রফি না জেতা বিরাট কোহলি (৬৯.৬৬)। ক্লার্ক ও মাশরাফির মাঝে দেখা যাচ্ছে এবি ডি ভিলিয়ার্স (৫৭.২৮), ইনজামাম-উল-হককে (৫৭.৭৮)। দুজন বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার (৬১.১১) ও এউইন মরগান (৬০.৫৩) আছেন এখানেই। অধিনায়ক হিসেবে সফলতায় পিছিয়ে ছিলেন না ওয়াসিম আকরাম (৬০.৫৫), গ্রায়েম স্মিথ (৬১.৩৩), শন পোলকরাও (৬১.৮৫)। সমান ৬৭টি ম্যাচে জয় পেলেও স্টিভ ওয়াহকে (৬৩.২১) একটুর জন্য পেছনে ফেলেছেন ভিভ রিচার্ডস (৬৩.৮১)।

ক্লার্ক আর কোহলির ওপরে থাকা তিনটি নাম অবশ্য আন্দাজ করাই যায়। সবার স্পর্শের বাইরে আছেন ক্লাইভ লয়েড। দুটি বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক মাত্র ৮৪ ম্যাচেই পেয়েছেন ৬৪টি জয়। ৭৬.১৯ ভাগ সাফল্যের গল্পের পরেই আছেন রিকি পন্টিং ও হ্যান্সি ক্রনিয়ে। জয় পাওয়ার রেকর্ডে পন্টিংয়ের ১৬৫কে ছাড়িয়ে যাওয়া হয়তো কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না। কিন্তু জয় পাওয়ার হারে তাঁর সঙ্গে সমতায় আছেন ৯৯ ম্যাচে বিজয়ীর হাসি হাসা ক্রনিয়ে। দুজনই নেতৃত্ব দিয়ে ৭১.৭৪ ভাগ ম্যাচেই জয় পেয়েছেন।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *