অনিশ্চয়তা অনেকের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি

অনলাইন ডেস্ক:

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির মতো অভিন্ন বা গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি দেশের সব ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) সাথে বৈঠকে এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। যদিও চলতি বছর থেকে দেশের কৃষিভিত্তিক সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে।

দেশের অপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সব সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে এখনো একমত হতে পারেনি। দেশের বড় তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শত অনুরোধের পরও অভিন্ন বা গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় একমত হতে পারেনি। এ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ’৭২-এর অডিন্যান্স দ্বারা পরিচালিত। তাদের স্বায়ত্তশাসনে খবরদারির কোনো সুযোগ নেই। ফলে চ্যান্সেলর, শিক্ষামন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুরোধের ধার ধারে না এ তিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিন্ন বা গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তিতে অনাগ্রহের সুযোগ নিচ্ছে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

অপর দিকে দেশের উচ্চ শিক্ষার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ (ইউজিসি) সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিন্ন বা গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার কথা বলা হলেও, বিড়ালে গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? এ ধরনের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কৌশল ঘোষণা হয়নি। কারা বা কে হবে এর নিয়ন্ত্রক? কাদের দ্বারা এ পরীক্ষা পরিচালিত হবে? ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কারা প্রণয়ন করবে? প্রশ্নের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে? সরকারের বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ জন্য কোনো কমিশন বা কাউকে বিশেষভাবে দায়িত্বও দেয়নি। ফলে কিভাবে শুরু হবে এ পদ্ধতিটি? এরূপ নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নয়া দিগন্তকে বলেছেন, গুচ্ছভর্তি পরীক্ষার কথা বলা সহজ। কিন্তু কোন নীতিমালার ভিত্তিতে এটি পরিচালিত হবে, এ ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের শঙ্কা তো রয়েছেই। এ সব দিক নিয়ে কোনো পরিকল্পনা বা কৌশল ঠিক না করে শুধু ঘোষণা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চান নীতিনির্ধারকেরা। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পৃথক ভর্তি পরীক্ষার জন্য অর্থ লাভের অভিযোগও আনা হয়েছে।

 

সময় নিউজ ২৪.কম/এএসআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *