অবশেষে না ফেরার দেশে আনজিলা, ননদ আটক

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠনঃ
অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বগুড়ার গোকুলে যৌতুক দাবি করে না পাওয়ায় নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আনজিলা আক্তার (২০)। এঘটনায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ আনজিলা আক্তারের ননদকে আটক করেছে।
বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল পলাশবাড়ী মোন্নাপাড়া গ্রামে দাবিকৃত যৌতুক না পেয়ে আনজিলা আক্তার (২০) কে স্বামী ও তার পরিবাবের লোকজন নির্যাতন ও বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় নিহতের একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহত গৃহবধূ আনজিলার ননদকে আটক করেছেন।
এলাকাবাসী ও বগুড়া সদর থানায় মামরা সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের গড়-মহাস্থান পূর্বপাড়া গ্রামের আজমল হোসেনের মেয়ে আনজিলা আক্তার (২০) এর সাথে ১বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ী মোন্নাপাড়া গ্রামের মজিবুর রহমানের পুত্র জিন্নাহ মিয়া (২৫) এর আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়েতে কোন যৌতুকের কথা না থাকলেও বিয়ের পর থেকেই জিন্নাহ ও তার পরিবারের লোকজন আনজিলা ও তার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিল। মেয়ে আনজিলার সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে মহাস্থানহাটে ভ্রাম্যমাণ পানের দোকানী পিতা আজমল হোসেন যৌতুক অর্থও দেয়। সম্প্রতি আবারও মোটর সাইকেল কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে আনজিলার উপর অমানুষিক নির্যাতন করেন স্বামী জিন্নাহ সহ পরিবারের লোকজন। যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আনজিলাকে গত ১০দিন পূর্বে অমানুষিক নির্যাতন করেন এবং জমি’র ঘাঁসমাড়াইএ ব্যবহারীত বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ান তার স্বামী সহ পরিবারের লোকজন।
এক পর্যায়ে আনজিলা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে জিন্নাহর পরিবার গভীর রাতে তার পিতা আজমল হোসেন কে মোবাইলে বলেন, আপনার মেয়ে অসুস্থ্য দেখতে হলে চলে আসেন।
তখন আনজিলার পিতা আজমল হোসেন মনে করেন বরাবারের মতই যৌতুকের জন্য ডাকছেন। রাতে বিষয়টি তিনি আমলে না নিয়ে সকালে যাবেন বলে মোবাইল ফোনে জানায়। পরের দিন সকালে আজমল হোসেন, তার পরিবারের লোকজন নিয়ে সেখানে গেলে প্রথমেই মেয়ে জামাই জিন্নাহ সহ তার পরিবারের লোকজন মেয়েকে বনসই(জিম্মা নামা লিখে) নিয়ে যেতে বলেন। একপর্যায়ে আনজিলার অবস্থা আশংকাজনক দেখে তার স্বামী সহ স্বজনরা মৃত্যুর দ্বায়ভার এড়াতে তড়িঘড়ি করে আনজিলাকে তার পিতার কাছে বুঝিয়ে দেয়। এরপর অসুস্থ্য মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে এসে তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত শুনার পরই তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
এবিষয়ে বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ূন কবীর জানান, এ ঘটনায় আনজিলার বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন এর পূর্বে একটা জিডিও করা ছিলো।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এস আই বেদার উদ্দিন জানান, গৃহবধূ আনজিলা আক্তারের ননদ মর্জিনা বেগম(৩৫) কে  আটক করা হয়েছে। মামলার অপর  আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নিহত আনজিলার অসহায় পরিবার ও এলাকাবাসী সুষ্ঠ তদন্ত স্বাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবী জানিয়ে প্রশাসনের আশুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *