অর্ধেক এমপিও নিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ, সেই জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা..! 

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠনঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার উত্তরা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নিজে ভুয়া নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে চাকরি দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বরখাস্তকৃত সমাজ কর্ম বিষয়ের প্রভাষক রমেন কুমার সাহা।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই জাল নিবন্ধন সনদধারীর নিয়োগ দাতা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হক তার নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য এনটিআরসিএ অফিসে পাঠান। যাচাই-বাছাইয়ের পর তার নিবন্ধন সনদ ভুয়া বলে প্রমাণিত হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছেন। এবং ভুয়া সনদে চাকরির অপরাধে ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের সহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্যও বলা হয়।
কিন্তু তৎকালীন অধ্যক্ষ ফজলুল হক দীর্ঘ ৫/৬ মাস স্বপদে থাকা কালীন সময়ে সেই জাল নিবন্ধন ধারীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় কোন মামলা দায়ের  করেননি তিনি। সুকৌশলে সময় পার করে অবসরে গেছেন তিনি।
তিনি অবসরে যাওয়ার পরে বিষয়টি চাপা পড়ে যায় কিন্তু প্রতিনিধির অনুসন্ধানে ধরা পড়ার পরে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে এবিষয়ে জানানো হলে তিনি ঐ জাল সনদধারী প্রভাষকের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় বুধবার (১৭ নভেম্বর) মামলা দায়ের করেছেন, মামলা নং-৩৯/২০২০ জি আর নং ৫৫৬/২০২০ ধারা ৪০৬,৪২০,৪৬৮ ও ৪৭১।
এনটিআরসিএ থেকে প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ব্যাচের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদের মালিক অন্য ব্যক্তি। দাখিলকৃত নিবন্ধন সনদের রোল নম্বর- ২২০৬০০৭২, রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ০৬৪১৩৫৮৯ যাচাইকালে সনদটি ভুয়া প্রমাণিত হয়।
এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জালিয়াতির আশ্রয়ে ভুয়া সনদে রমেন কুমার সাহা নিয়োগ নিয়েছেন। সেই জাল নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের পূর্বক এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে অবহিত  করতে  নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠান সুত্রে জানা যায়, ঐ প্রভাষকের সনদ জাল সন্দেহ হওয়ায় তার নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয় এনটিআরসিএতে। সনদ যাচাইয়ে সেই  নিবন্ধন সনদ ভুয়া প্রমাণিত বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এনটিআরসিএর সহকারী পরিচালক মোঃ মোস্তাক আহমেদ স্বাক্ষরিত ১৯৫ স্মারকে সনদ যাচাই সংক্রান্ত চিঠি গত ৩০ মে  ২০১৯ তারিখে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
এবিষয়ে অভিযুক্ত “রুমেন কুমার সাহা”র কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ করতে পারিনি। অধ্যক্ষ ফজলুল হক আমাকে ওই জাল সনদ সংগ্রহ করে নিয়োগ দেন তার কলেজে। এবং আমার এমপিও সে করে দেন। আমি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতি মাসে আমার বেতনের অর্ধেক টাকা অধ্যক্ষ নিয়ে নিত। এবং আমি সোনালী ব্যাংক থেকে সর্বশেষ ৪ লক্ষ টাকা ঋণ উঠিয়ে তাকে দিয়েছি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মার্চ/ ২০১৯ থেকে আমার এমপিও বন্ধ করে দেন।
এব্যাপারে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হকের কাছে থেকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনাকে আমি কেন বলতে যাবো, যদিও তৎক্ষণাৎ তিনি সাংবাদিকদের কাছে তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি ওই জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে কেন থানায় মামলা করেননি এমন প্রশ্নের তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি তাকে বরখাস্ত করার বিভিন্ন অজুহাত দেখান। তিনি বলেন, আমি এনটিআরসিএ এর পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়ার সাথে সাথেই তার বেতন বন্ধ করেছি। তাহলে এনটিআরসিএ এর চিঠি আসার ২ মাস আগেই ওই জাল সনদধারীর বেতন কিভাবে বন্ধ করলেন? এ প্রশ্নের তিনি কোন উত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এবিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, সাংবাদিকদের কাছে থেকে জানার পর আমি পুরোনো ফাইল খুঁজে এই চিঠি পাওয়া মাত্রই সরকারি নির্দেশ মত থানায় ওই জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।
মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান বলেন, উত্তরা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মজিদ অভিযুক্ত জাল সনদধারীর বিরুদ্ধে বাদী হয়ে সোমবার (১৭ নভেম্বর) থানায় মামলা করেছেন।
সময় নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *