অহিদুর রহমান গংদের হামলায় বাগিচাগাঁও বড় জামে মসজিদের অনুমোদিত কমিটির সেক্রেটারী আহত। অবশেষে বিজ্ঞ আদালতে মামলা।

স্টাফ রিপোর্টার :

পূর্ব বাগিচাগাঁও বড় জামে মসজিদের ওয়াকফ প্রশাসক অনুমোদিত কমিটির সেক্রেটারী হাজী মোঃ আলমগীর হোসেন আলমের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিজ্ঞ ১নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের ।

ঘটনার বিবরনে জানা যায় ,সৈয়দ ওসমান হায়দার চৌধুরী ওয়াকফ এস্টেট পূর্ব বাগিচাগাঁও বড় জামে মসজিদের বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক এর একাধিক অনুমোদিত ১১ সদস্য বিশিষ্ট মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী কর্তৃক। অহিদ গংদের বিরুদ্ধে মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি ২০ শতক ভূমি যার মূল্য ৯৯ লক্ষ টাকা, দৌলতপুর মৌজা বিক্রয়, মসজিদের দান বাক্সের টাকা আত্মসাৎ এবং মসজিদের নামে দানকৃত এসি, অহিদুর রহমান, ফরিদ উদ্দিন রতনের এর বাসায় ব্যবহার করার কারনে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী গত ১৫/১১/২০১৮ইং সনে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করেন।

দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা স্মারক নং-দুদক স.জে.কা/কুমিল্লা, তাং-০১/০১/২০১৯ইং তারিখ বিষয়টির উপর এক মাসের মধ্যে আবেদনে উল্লেখিত বিষয়টি অনুসন্ধান ও মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন করেন। সেই মোতাবেক জেলা প্রশাসক তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য সহকারী ভূমি কমিশনার দায়িত্বে ন্যস্ত করিলে তিনি সার্বিক কাগজপত্র পর্যালোচনা করিয়া অহিদুর রহমান, ফরিদ উদ্দিন রতনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সঠিক এবং সত্যতা পেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দাখিল করেন মর্মে জানা যায় এবং মসজিদের অর্থ কৃষি ব্যাংক, পুলিশ লাইন শাখায় সেক্রেটারী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেন প্রশাসন। যার মধ্যে ইমাম, মোয়াজ্জেন, ক্লিনার ও সহকারীর বেতন হিসাব নং ১০১৭৬ থেকে বেতন-ভাতাদি প্রদান করেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী।

যা বর্তমান চলমান রহিয়াছে বলে জানা যায়। তাছাড়া মুসুল্লিগণ প্রশাসনের এই নিয়মকে সাধুবাদ জানান। যার ফলে এখন মসজিদের অর্থ আর লুটপাট হওয়ার সম্ভাবনা নাই- একটি সুন্দর নিয়ম দীর্ঘ বৎসর পর চালু হইল। কিন্তু মসজিদের সর্বখাতের আয় আত্মসাৎ কারীগণ এই নিয়মটি এবং মসজিদের অর্থ তাহাদের হস্তগত না হওয়ার কারনে মসজিদের সেক্রেটারীকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করিতে থাকে। প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে নামে বেনামে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে নাম, ঠিকানা অভিযোগ সঠিক না, কাগজপত্র ওয়াকফ সম্পত্তি দাবীদার না হওয়ার কারনে অভিযোগগুলি বাতিল হয়ে যায়। এইভাবে মসজিদের সেক্রেটারীকে মিথ্যা অপমান অপদস্ত করিতে থাকেন প্রতিনিয়ত।

এ বিষয়ে এস্টেটের নায়েবে মোতাওয়াল্লী ও কমিটির সেক্রেটারী জেলা প্রশাসক এর বরাবরে তার প্রতিকার চেয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। উক্ত অভিযোগখানা তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রেরন করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) গত ২৪/০১/২০২০ইং তারিখে মসজিদে জুমায় নামায পড়ার জন্য আসেন এবং মসজিদের মুসুল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য পেশ করবেন বলে ইমাম সাহেব মাইকে ঘোষনা প্রদান করেন।

নামাজ শেষ করার পর মসজিদের সেক্রেটারীকে উপস্থিত মর্মে তাহার বক্তব্য পেশ করার পর তিনি সরকারী কমিটিকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য মুসুল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন এবং ইমাম সাহেবকে মসজিদের দানবাক্সের টাকা গুনে ব্যাংক একাউন্টে (একাউন্ট নং-১০১৭৬) জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাহেব তাহার সুন্দর বক্তব্য এর পক্ষে মুসুল্লিরা সাধুবাদ জানান কিন্তু অহিদ গংরা মিথ্যা অজুহাতে প্রশাসন এর বিরুদ্ধে আচরন করিয়া এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ) সাহেব এর কথায় কোন আমলে না নিয়ে মসজিদের অভ্যন্তরে চিল্লাচিল্লি করিয়া সহকারী ভূমি কার্যালয়ের উপস্থিত কানুনগো ইউনুসসহ প্রশাসনের অন্যান্য ব্যক্তিদের সামনেই মসজিদের মুসুল্লিদেরকে আক্রমন করেন এবং সেক্রেটারীকে মারধর করিয়া গুরুতর জখম করেন সন্ত্রাসী চক্রটি।

পরবর্তীতে মুসুল্লিগণ অহিদ গংদের পরিকল্পিত উদ্দেশ্যর প্রতি ঘৃনা প্রকাশ এবং সর্বমুসুল্লিগণ অহিদের পরিকল্পিত হামলার ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। মুসুল্লিগণ অহিদের সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে মামলার জন্য সেক্রেটারীকে পরামর্শ প্রদান করেন। মসজিদ সেক্রেটারী, জেলা প্রশাসক ও সভাপতি, ওয়াকফ উন্নয়ন কমিটি, পুলিশ সুপারকে অবগত পূর্বক গত ১৩/০৩/২০২০ইং তারিখে বিজ্ঞ ১নং জুডিশিয়াল আমলী আদালতে সি.আর নং ২৫২/২০ইং, দঃ বিঃ ১৪৩, ৩২৩, ৫০৬ (২) ধারায় মামলা দায়ের করেন।

বিবাদী অহিদুর রহমান, পিতা-মৃত মফিজ উদ্দিন, ফরিদ উদ্দিন রতন, পিতা-মৃত মনিরুল ইসলাম, আইয়ুব আলী কানু, পিতা-মৃত আশকর আলী, জামাল ড্রাইভার (ওয়াকফ এস্টেটের অবৈধ দখলদার), পিতা-মৃত মানিক মিয়া, খোরশেদ, পিতা-মৃত কালু মিয়া, আশিকুর রহমান, পিতা-অহিদুর রহমান, রাজিব, পিতা-আইয়ুব আলী কানু, বজলুর রহমান (বইজ্জা), পিতা-মৃত মোসকত আলী, সর্বসাং-পূর্ব বাগিচাগাঁও, কোতয়ালী, কুমিল্লাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করিলে বিজ্ঞ কোর্ট বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়া পি.বি.আই কে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য প্রেরন করেন।

এই বিষয়ে স্থানীয় এলাকার একজন মুসুল্লি প্রতিবেদককে বলেন, মসজিদ একটি প্রার্থনার জায়গা হলেও এই ধরনের ঘটনা মসজিদের অভ্যন্তরে করা ঠিক হয় নাই। তাছাড়া যেহেতু অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মসজিদ প্রাঙ্গনে উপস্থিত হয়েছেন এবং তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অনুমোদিত কমিটিকে তাহার দায়িত্ব পালনে সু-পরামর্শ দেওয়ার প্রাক্কালে এই ধরনের হামলা মোটেই মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া আরো জানান, এলাকার মুসুল্লি এবং পথচারী, চা দোকানদার, রিক্সাওয়ালা, ঠেলা গাড়ীসহ এলাকার অসামাজিক কাজে যারা জড়িত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত আইয়ুব আলী কানু কর্তৃক লোকদের নিকট থেকে জোরপূর্বকভাবে গণ স্বাক্ষর গ্রহন করছেন। অনেকেই স্বাক্ষর গ্রহন না করার দ্বিমত পোষন করিলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে এবং স্বাক্ষরের বিষয়ে জানিতে চাহিলে অহিদ গংরা জানান, গণ স্বাক্ষর করে ওয়াকফ প্রশাসক, জেলা প্রশাসক দপ্তরে দাখিল করে কমিটি এবং মসজিদের কাজ করার জন্য এই গণ স্বাক্ষর গ্রহন করছেন বলিয়া অহিদ গংরা জানান।

এই বিষয়ে কুমিল্লা ওয়াকফ পরিদর্শক, জনাব আলাউদ্দিনকে অবগত করিলে তিনি জানান, এই ধরনের গণ স্বাক্ষরের কোন বৈধতা নাই, তা বেআইনী ও নিয়ম পরিপন্থী। এস্টেটের মোতাওয়াল্লী ও নায়েবে মোতাওয়াল্লী ব্যতীত বহিরাগতদের কমিটি করার কোন সুযোগ নাই। গণ স্বাক্ষর গ্রহনের বিষয়টি আমি অবগত হইয়াছি।

উল্লেখিত ওয়াকফ এস্টেটটি পারিবারিকভাবে ওয়াকফ করা। এখানে দলিল শর্ত মতে মোতাওয়াল্লী ও নায়েবে মোতাওয়াল্লীর আবেদন ব্যতীত ওয়াকফ প্রশাসন কোন কমিটি অনুমোদন করার কোন অবকাশ নাই। যেহেতু উক্ত গণ স্বাক্ষরের মাধ্যমে কমিটি করার নিয়ম কোন ওয়াকফ অধ্যাদেশে আছে তা আমার জানা নাই, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব আইনের পরিপন্থী। কেউ যদি মোতাওয়াল্লী ও নায়েবে মোতাওয়াল্লীর নাম ব্যবহার করিয়া মসজিদ কমিটি করার আবেদন দাখিল করিলেও তাও আমলযোগ্য নহে।

সময়নিউজ২৪.কম/বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *