আজকের শিশু আগামী দিনের কর্ণধার এ শ্লোগানকে ধারণ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে—-রঙ বেরঙ

মেহেরাজ মেহের 

আসছে আগামী ৪ই মার্চ রোজ সোমবার বিকাল ৫টায় কুমিল্লা টাউন হল অডিটোরিয়ামে এই শিশুদের সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে আমদের এই ইভেন্ট। আপনার আশেপাশের এসব সুবিধা বঞ্চিত পথশিশুদের ওইদিন আমদের ইভেন্টে যোগ দেয়ার জন্য উৎসাহিত করুন। চাইলে আপনিও আমাদের ইভেন্ট যোগ দিয়ে একটা দিন এসব অবহেলিত শিশুদের পাশে কাটাতে পারেন….

বৃহত্তর কুমিল্লা ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার পথশিশু রয়েছে। রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, অফিস চত্বর, পার্ক ও খোলা আকাশের নিচে তাদের বাস। তারা বড় অসহায়।

শিশুদের মানসিক বিকাশ পাওয়ার জন্য যা যা দরকার এই পথশিশু গুলো সবকিছু থেকে বঞ্চিত। পায় না ভালো আচরণও। ওদের মাঝে খুব রুক্ষতা ফুটে উঠলেও আছে ভালোবাসা।

সর্বনাশা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পথশিশু। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, পথশিশুদের ৮৫ ভাগই কোনো না কোনোভাবে মাদক সেবন করে।

একটি শিশু কখনো পথশিশু হয়ে জন্ম নেয় না। জন্মের সময় প্রতিটি শিশুই তার নাগরিক অধিকার নিয়েই জন্ম নেয়। আজ যে শিশু ভালোভাবে কথা বলতে শেখেনি তাকেও জীবিকার তাগিদে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। তার কাছে জীবনের মানেই হলো ক্ষুধা নিবারণের জন্য পথে পথে ভিক্ষাবৃত্তি করে বেঁচে থাকার লড়াই।

এদের দুরবস্থার জন্য দায়ী সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিবছর পালিত হয় শিশু দিবস।

চিকিৎসকদের ভাষায়, শিশুরা মোটামুটি ৭ বছরের মধ্যে যা শেখে পরবর্তী জীবনে এ শিক্ষা বিরাট প্রভাব ফেলে। তাই এ সময়ে পথশিশুরা যদি লাঞ্ছিত হয়, অপমানিত হয়, কুশিক্ষা গ্রহণ করে, ছিনতাই, ভিক্ষা, সমাজের বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে পরিচিত হয় তাহলে সেটা তাদের জন্য এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বিরাট হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে।’

যে সব শিশুর নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব রয়েছে তারা অন্যায়ের দিকে পা বাড়ায়। শিশুদের নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশের ওপর জাতীয় সমৃদ্ধি নির্ভরশীল। পথশিশুদের উন্নয়নের ব্যাপারে শুধু সরকারি কার্যক্রম নয় সচেতনতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

আজকের শিশু যেহেতু আগামী দিনের কর্ণধার। তাই পথ শিশুর অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। পথ শিশুদের শৈশব কেড়ে নিয়ে তাদের অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়া কখনও ঠিক হবে না। ওদের ও স্বপ্ন আছে, সেটা কারো কাছে লাঞ্চিত না হওয়ার, দু’ বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ার।

চাইলেই সম্ভব এই পথ শিশুদের ভালো থাকার ব্যবস্থা করা। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন একটু স্বদিচ্ছা। আর ওদের জন্য বরাদ্দ হওয়া অর্থ লুটে না খাওয়ার মানসিকতা। তাহলেই ওরা ভালো থাকবে, বেড়ে উঠবে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে।

সময়নিউজ২৪.কম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *