মধুমতি লবনের গোডাউনে অভিযান, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদালতের নিষিদ্ধ ৫২টি পন্য এখনো মোংলা বাজারে

মোংলা প্রতিনিধি:

পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ, মেয়াদউত্তীর্ণ খাবার বিক্রয় ও ন্যয্যমূল্যে মালামাল বিক্রয় নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোংলায় বেশ কয়েকদিন যাবত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আসছে। ইতো মধ্যে নামীদামী কয়েকটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠিানে মোটা অংকের জরিমানাও করেছে এ মোবাইল কোটের মাধ্যমে।

মোংলায় ক্ষমতাসীন কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা সরকারের নিয়োম নিতি তোয়াক্কা না করে তারা অবৈধ এ ব্যাবসা দেধারছে চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১৫ মে বিকেলে মোংলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খন্দকার রবিউল ইসলাম মিষ্টির কড়াই এবং সিরকার মধ্যে তেলাপোকা ও অন্যান্য মরা পচা পোকা মাকর থাকায় সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারী মালিক উত্তম ঘোষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে।

এছাড়া একই সময়ে নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও বেচা-কেনার অভিযোগে আল মদিনা হোটেলকে ৩ হাজার ও বাংলাদেশ হোটেলকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এসময় ব্যাবসায়ীরা প্রতিজ্ঞা করে এধরনের নোংরা পরিবেশ বা সরকারের নিষিদ্ধ কোন মালামাল বিক্রয় করবেনা কিন্ত তার পরেও ওই ব্যাবসায়ীরা পুনরায় তাদের এ অবৈধ ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

২২ এপ্রিল মোংলা বাজারে বেশ কয়েকটি দোকানে আদালতের ৫২ নিষিদ্ধ পন্য বিক্রির দায়ে ভ্রম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের জরিমানা করা হয়। মোংলার কলেজ রোডস্থ মধুমতি লবনের একটি গোডাউনে অভিযান চালায় মোবাইলকোটের একটি টিম। হাইকোর্ট এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাতিলকৃত মধুমতি লবণ রাখার দায়ে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কে আর ট্রেডিংকে নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রবিউল ইসলাম ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। সাথে সাথে ওই গোডাউনে সকল লবন নদীতে ফেলে নষ্ট করারও নির্দেশনা দেন নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রবিউল ইসলাম  জানান,আদালতের ঘোষনার পরে নিষিদ্ধ এ মালামালগুলো সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিল এ ব্যাবসায়ী। গোপন সংবাদের সুত্রধরে হাইকোর্ট এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’র বাতিলকৃত লবণ রাখার জন্য মেসার্স কে আর ট্রেডিং’এ অভিযান চালিয়ে মালিককে ৫০ হাজার জরিমানা করা হয়েছে। কে আর ট্রেডিং’র মালিক কলেজ রোডের বাসীন্দা খন্দকার তারিক। এ গুদামে মজুদ রাখা ৭ হাজার ৭শ কেজি লবন ছিলো যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫২ ধারা মোতাবেক এই জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা টাকা পরিশোধের পর বাতিলকৃত মধুমতি লবণ খালে ফেলে বিনষ্ট করা হয়েছে। নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট বাতিলকৃত আরো যে ৫১টি পন্য রয়েছে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। আর মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

কে আর ট্রেডিং’র পক্ষে খন্দকার তারিখের ভাই তুরান বলেন, এ ব্যাবসায়ীকে বার বার বলা সত্বেও মধুমতি কোম্পানী লবণ সরিয়ে নেয়নি যার ফলে সরকারের নিষিদ্ধ পন্য রাখার দায়ে এ জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

অন্যদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ করে  বলেন, কলেজ রোড সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত খন্দকার তারিক সরকারের খাস ১ একর ৬৮ শতক জমি দখলে নিয়ে ভোগ দখল করে স্থাপনা নির্মানসহ মৎস্য চাষ করছে। যা ইতো মধ্যে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখা লেখী হয়েছে। এছাড়া আবার আদালতের নিষিদ্ধ পন্য বিক্রি করে আসছে।
সময়নিউজ২৪.কম/ এ এস আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *