আমরা অনেক সুন্দর প্রায়শই দেখে থাকি ধন-সম্পদ জীবনে সুখে ভরে উঠে না

Jetpack

উজ্জ্বল রায়, নিজস্ব প্রতিবেদক:

আমরা অনেক সুন্দর প্রায়শই দেখে থাকি ধন-সম্পদ জীবন সুখে ভরে উঠে না!!! ধান, দূর্বা, কুলা, প্রদীপ, উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, জল, ফুল ইত্যাদি সনাতনীদের দৈন্দদিন কাজে ব্যবহৃত করা হয়। পূজা কিংবা অতিথি আপ্পায়ন, এছাড়াও আবির্ভাব তিথি, মঙ্গল সূচক এইগুলো ব্যবহার করা হয় কেন কি কারনে হয় উত্তরে বলবো এই যে,এই সমস্ত কিছুর পিছনেই গভীর তাৎপর্য লুকিয়ে আছে। আমরা অনেকেই হয়তো এইগুলো না জেনেই করে থাকি।

কিন্ত আসলেই এইগুলো র প্রত্যেকটিরই আধ্যাত্মিক কারন লুকায়িত থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, ধান আর ধান হলো ধন,সম্পদ ও ঐর্শয্য এর প্রতীক। এই ধান দিয়ে পূজিত করার সময় কামনা করা হয় যে, আমাদের যেন অথবা যাকে উদ্দ্যেশ্য করে কামনা করা হয়। তার যেনো জীবনে কর্ম করে অভাব থেকে সর্বদা মুক্ত থাকে। আর তার যেনো ধন-সম্পদ দিয়ে জীবন সুখে ভরে উঠে। দূর্বা, দূর্বাকে বলা হয়, এর প্রতীক। কারন এই দূর্বা প্রচন্ড তাপে,প্রচন্ড বৃষ্টি,ঝড় অথবা প্রবল বন্যায়ও সাধারনত মারা যায়না। সে সর্বদা অক্ষত থাকে এবং নিজেকে সকল পরিস্থিতিতে সহনশীল হয়ে সমস্ত কিছু মানিয়ে নেয়।

তাই পূজিত করার সময় দূর্বাকে প্রতীক করে কামনা করা হয়, যেন আমরাও সেরুপ দীর্ঘায়ু ও সহনশীলতা লাভ করতে পারি। কূলা, কূলা কে বলা হয় সংশোধন ও আগলে রাখার প্রতীক। কারন কূলা যেরুপ ধান হইতে চিট এবং চাল হইতে খুদ গুলো আলাদা করে ধান ও চালকে আলাদা করে সংশোধনের মাধ্যমে পূর্নতা দান করে এবং কূলার মধ্যে ধান, দূবা,প্রদীপ সমস্ত কিছুই আগলে রাখা হয়। তাই পূজিত করার সময় কামনা করা হয়, আমরাও যেনো নিজেকে সংশোধন করে সবাইকে আগলে রেখে সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করতে পারি। প্রদীপ, প্রদীপ কে বলা হয় জ্ঞান ও উজ্জীবিত করার প্রতীক।

কারন প্রদীপ যেথা প্রজ্বলিত হয় সেথা অন্ধকার দূরিভুত হয় এবং প্রদীপের আলোয় আমরা সমস্ত কার্য সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে পারি। এছাড়াও প্রদীপ জ্বালিয়ে কোন চেতনা যা আমরা ভুলতে বসেছি, তা পুনরায় নিজের মাঝে উজ্জ্বীবিত করা যায় তা হিসেবে দেখা হয়। তাই পূজিত করবার সময় প্রদীপ জ্বালিয়ে কামনা করা হয়, প্রদীপের আলোর ন্যায় আমাদের মধ্যে জ্ঞানের আলো উজ্জীবিত হোক। উলুধ্বনি, উলুধ্বনি হলো জাগ্রত করার প্রতীক। কারন এই উলুধ্বনি র আওয়াজে আমাদের মধ্যে কার বোধ জাগ্রত হয়। প্রায়শই দেখা যায়, পূজা অথবা কোন কার্য করার সময় আমাদের মন নানাদিকে ধাবিত হয়ে নানাদিকে চলে যায়।

কিন্ত যখন উলুধ্বনি র আওয়াজে চারদিকে জয়জয়কার হয়ে উঠে তখন আমাদের মন ওইদিকে ই ধাবিত হয়। তাই পূজিত করার সময় কামনা করা হয়, আমাদের মন যেনো বিপথে ধাবিত না হয়ে ইশ্বরের দিকে, উপসনায় ধাবিত হয়। শঙ্খধ্বনি, শঙ্খ ধ্বনি কে বলা হয় উত্থিত হওয়ার প্রতীক। কারন এই শঙ্খ ধ্বনি র আওয়াজে মহাভারত যুদ্ধ সূচনা হয়েছিলো। আর যুদ্ধ হয়েছিলো ধর্ম ও অধর্মের বিরুদ্ধে। সেই ধ্বনি দিয়ে নিজের মধ্যে অধর্ম থেকে সড়ে এসে ধর্মের দিকে উত্থিত হওয়া যায়। তাই পূজিত হওয়ার সময় এই ধ্বনি র মাধ্যমে কামনা করা হয় যে, আমরা যেনো সর্বদা অধর্ম এর পথ থেকে সড়ে এসে ধর্মের পথ অনুসরণ করার জন্য উত্থিত হতে পারি।

আরেকটি বিষয় তা হলো, অনেক সময় ভূমিকম্প হলে সাধারণ সনাতনীরা উলু,শঙ্খ, খোল,করতাল বাজায়। অনেকেই ভাববে যে, এইগুলো বাজালে ভূমিকম্প থেমে যায়। আসলে ভূমিকম্প কখনই এইগুলো বাজালে থামবেনা। কিন্ত এই গুলো এই কারনে বাজায় যাতে, অন্যরা ওইদিকে লক্ষ্য করে এবং বিষয়টি বুঝতে পারে যে কিছু একটা হয়েছে। আর তার জন্য তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে পারে এবং নিরাপদ হতে পারে। এটাই হলো মূল কারন। ফুল আর জল হলো স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের প্রতীক এবং ফুল হলো সৌন্দর্যের প্রতীক। কারন জল সর্বদা সমস্ত কিছুকে পরিস্কার করেও নিজেকে স্বচ্ছ রাখে।

ঠিক তেমনি সংসারের সমস্ত কিছু করেও আমরা যেনো নিজের মনকে স্বচ্ছ ও ন্যায় করার জন্য জীবন চালনা করতে পারি। আর ফুল সর্বদা ই মানুষকে কাছে টানে এবং ফুল সর্বদা উত্তম স্থান প্রাপ্তি হয়। তাই পূজিত করার সময় কামনা করা হয়, তেমনি আমরা যেনো ধর্মকে ধারন করে সবাইকে কাছে টানতে পারি এবং আমাদের ও যেনো উত্তম স্থান প্রাপ্তি ঘটে। আশাকরি পাঠকগন বিষয়গুলো বুঝতে পারবেন। আপনারা বিষয়টি বুঝলেই আমার লেখাটি স্বার্থক হবে। আশাকরি আপনারা পড়বেন বুঝবেন এবং জেনে অন্যকে জানাতে পারবেন। এছাড়াও অনান্য বিষয় সম্পরকে জানতে কমেন্টে অথবা ইনবস্কে জানাতে পারেন আমি ঈশ্বরের সহায় সহয়তা করতে পারি।

Jetpack

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *