ইডেন গার্ডেন্সে ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্টে বাংলাদেশকে ১০৬ রানে অলআউট করে ভারত

 

অনলাইন ডেস্কঃ

ইডেন গার্ডেন্সে ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্টে বাংলাদেশকে ১০৬ রানে অলআউট করে ভারত। জবাবে প্রথম দিনেই ৩ উইকেটে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে ৬৮ রানের লিড নেয় স্বাগতিকরা। হাতে আছে ৭ উইকেট। ৫৯ ও ২৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানে।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিক। এছাড়া ২৪ রান করে ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে রিটায়ার্ডহার্ট হয়ে ফেরেন লিটন দাস। ইশান্ত শর্মার বাউন্সারে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে যেতে হয় লিটনকে। চোট গুরুততর হওয়ায় চলতি ইডেন টেস্ট আর খেলতে পারবেন না তিনি। এছাড়া ১৯ রান করা তরুণ পেসার নাইম হাসানও চোট পেয়েছেন। তিনি মোহাম্মদ সামির বলে বাউন্সারের শিকার হন।

ভারতীয় পেস বোলারদের তাণ্ডবে রানের খাতা খুলার সুযোগ পাননি অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ, মোহাম্মদ মিঠুন, ও মুশফিকুর রহিম। ভারতের হয়ে ৫টি উইকেট শিকার করেন ইশান্ত শর্মা। এছাড়া ৩টি উইকেট নেন উমেশ যাদব। ২ উইকেট নেন মোহাম্মদ সামি।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ১০৬ রানে অলআউট হওয়ার হতাশা কম নয়। রোহিত শর্মাকে মাত্র ১২ রানে আউট করার সুযোগ পেয়েও ক্যাচ ফেলে দেওয়ার দুঃখটাও পোড়ানোর মতো। কিন্তু প্রথম দিনেই যেভাবে কাঁধ ঝুলে গেল বাংলাদেশের ফিল্ডারদের সেটা মেনে নেওয়াটা কঠিন। ঠিক যেমন মেনে নেওয়া কঠিন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আউট হওয়ার দৃশ্যও, অন্তত কৃত্রিম আলোতে ভারতের ব্যাটিং দেখার পর।

বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের একপর্যায়ে টিভি ক্যামেরা মাঝে কিছুক্ষণ মাহমুদউল্লাহকে খুঁজে নিয়েছে। সহজ বল হাতছাড়া করে কিংবা অন্যের ফিল্ডিং মিস করার পর মাহমুদউল্লাহর হতাশা আর হাল ছেড়ে দেওয়া শরীরী ভাষাটা বড্ড চোখে লাগছিল। শুধু মাহমুদউল্লাহ কেন। দলের সবার মধ্যেই যেন হতাশা ভর করেছিল। অথচ ক্রিকেটারদেরই সবার আগে জানার কথা, এটা টেস্টের মাত্র প্রথম দিন। মাত্রর তিনটি সেশন খারাপ গেলেও হাতে এখনো সময় আছে। কিন্তু বাংলাদেশ দল যেন হারার আগেই হেরে যাচ্ছে ভারতের কাছে।

অথচ আশা করার মতো অনেক কিছুই ছিল। আগের ম্যাচে ২৪৩ রান করা মায়াঙ্ক আগারওয়াল (১৪) ভুল এক শটে উইকেট উপহার দিয়েছেন। ১২ রানে জীবন পেয়েও রোহিত শর্মার মতো ব্যাটসম্যান ২১ রানে ফিরে গেছেন। সেট হয়েও ফিফটির পরই ফিরে গেছেন চেতেশ্বর পূজারার (৫৫) মতো ব্যাটসম্যান। অধিকাংশ সময়ই লাইন লেংথের বালাই না থাকলেও মাঝে মাঝে দু-একটা বলে ভালোই কাজ দেখাচ্ছিলেন এবাদত-আল আমিন ও আবু জায়েদ। কিন্তু দিনের শুরুটাই যে ম্যাচের সমাপ্তি টেনে দিয়েছে দেড় সেশনের মাঝে।

গোলাপি বল নিয়ে এত আলোচনার কারণ, এ বলে বাড়তি সুইং পাওয়া যায়। আর কৃত্রিম আলোতে বাতাসে বাড়তি মুভমেন্ট হয়। এ সবই কিন্তু দিনের আলো ফুরালে। কিন্তু বাংলাদেশ দল যে এর আগেই শেষ। শুরুতেই বলের লাইন না বুঝে এলবিডব্লু হয়েছেন ইমরুল কায়েস। শুধু আউটই হননি, রিভিউ নিয়ে সেটা নষ্টও করেছেন এই ওপেনার। কিন্তু নষ্ট হওয়া রিভিউ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ হয়নি। এর আগেই যে দলের টপ ও মিডল অর্ডার শেষ। অযথা বল খেলতে গিয়ে কেউ স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন, কেউবা স্টাম্পে টেনে এনেছেন। ৩৮ রানে ৫ উইকেট হারানো দলের হয়ে শুধু লিটনই (২৪*) একটু সাহসী ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু সাপার বিরতির (লাঞ্চের দিবারাত্রি সংস্করণ) একটু মাথায় দুবার আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকেও।

৩০.৩ ওভারে ১০৬ রানেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। পুরো ইনিংসে দাপট দেখালেন ভারতীয় পেসাররা। এই প্রথম এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন ইশান্ত শর্মা। তিন উইকেট পেলেন উমেশ যাদব। দুই উইকেট এল মোহাম্মদ শামির ঝুলিতে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। দুই ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়াল ও রোহিত শর্মা ফিরে গেলেন দ্রুত। প্রথম টেস্টে ডবল সেঞ্চুরি করা মায়াঙ্ক ১৪ রান করে আল-আমিনের বলে মেহেদি হাসানকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। প্রথম টেস্টের পর দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ব্যর্থ রোহিত শর্মা। ২১ রান করে ইবাদত হোসেনের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি।

এরপর ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন চেতেশ্বর পূজারা ও বিরাট কোহলি। প্রথম ইনিংসকে তারা দিনের শেষ পর্যন্ত ভরসা দিলেন। হাফ সেঞ্চুরি করলেন পূজারা ও কোহলি। বাংলাদেশের হয়ে এদিন একটি করে উইকেট নেন আল-আমিন হোসেন ও ইবাদত হোসেন। ৫৫ রান করে শেষ মুহূর্তে আউট হন চেতেশ্বর পূজারা। ইবাদত হোসেনের বলে শাদমানকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। দিনের শেষে ভারত ৪৬ ওভারে ১৭৪-৩। ক্রিজে রয়েছেন বিরাট কোহলি ও অজিঙ্ক রাহানে।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *