ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্য ধরা ও ইয়াবা সেবনে এসআই-৪৫০ কোটি টাকা ভারতে পাচারের অভিযোগ ওসি’র বিরুদ্ধে

 managed wordpress hosting

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

সাদ্দাম নামে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার সহযোগীকে ৩ শত ৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল তাদের আটক করা হয়।আটকৃত দুইজনেরর বাসা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে। কনস্টেবল সাদ্দামের পিতার নাম আলতাফ হোসেন ও সহযোগী মিলনের পিতার নাম আবেদ আলী। তারা দু’জন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ মাদক সাপ্লায়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে মুক্তিপণ হিসেবে টাকা আদায় করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এসআই আতাউল ও কবীর সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের পালিচড়ার ফতেপুর রোড এর ছোট পুল নামক এলাকা থেকে ৩ শত ৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ হাতে নাতে গ্রেফতার করা হয়। এসময় পুলিশ কনস্টেবল সাদ্দামের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। গ্রেফতার সাদ্দাম হোসেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কনেস্টবল পদে চাকরি করছেন। তিনি পুলিশ লাইন্সে ক্যান্টিন দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন।

এদিকে যশোর কোতয়ালী থানার দুই কর্মকর্তার মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাদের একজনকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। তিনি হলেন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিরুজ্জামান। থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আজ রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সম্প্রতি যশোরে এসআই আমিরুজ্জামান ও এসআই ইকবাল হোসেনসহ তিনজনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এতে দেখা যায়, এসআই আমিরুজ্জামান ও এসআই ইকবাল হোসেনসহ আরো একজন খালি গায়ে একটি বেড়ার ঘরে বসে তাস খেলছেন। খেলার ফাঁকে ইয়াবা সেবন করছেন এসআই আমিরুজ্জামান।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা যায়, যশোর উপশহর বাবলাতলা এলাকার জনৈক পিয়ালের গাড়ি সার্ভিসিংয়ের গ্যারেজে মাঝে-মধ্যেই আসর বসান যশোর কোতয়ালী থানার এসআই আমিরুজ্জামান। বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে তিনি রাতের বেলায় সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় সেখানে জমে ওঠে ইয়াবা ও তাসের আসর। সম্প্রতি সেই ইয়াবা সেবন ও তাস খেলার একটি ভিডিও ও ছবি ফাঁস হয়ে যায়। অভিযোগের বিষয়ে এসআই আমিরুজ্জামানের সেল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে সেলফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি। জানতে চাইলে থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমিরুজ্জামানের বিষয়ে পুলিশ সুপার ব্যবস্থা নিয়েছেন।

আজই তাকে যশোর পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এসআই ইকবাল বলে কেউ কেউ বলছেন। তবে এই বিষয়ে ওসি বলেন, ওই নামে কোনো পুলিশ অফিসার কোতয়ালী থানায় নেই। এর থেকে বেশি কিছু বলতে চাননি ওসি। ওদিকে ৪৫০ কোটি টাকা ভারতে পাচারের অভিযোগে ওসি আহাদসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা ৪৫০ কোটি টাকা ভারতে পাচারের অভিযোগে ওসি আহাদসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা ভারতে পাচার এবং সাড়ে ৪ কোটি টাকা ঘুষ আদায়ের মাধ্যমে ভারতীয় চোরাই ও চোরাচালানের গবাদিপশুর হাট বসিয়ে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে সিলেটের আলোচিত ওসি আহাদসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সিলেটের স্পেশাল জজ আদালতে এ মামলা করেন এম মঈনুল হক বুলবুল নামে এক আইনজীবী। তার অভিযোগ, আদালত আমলে নিয়ে সিলেট দুর্নীতি দমন কমিশনকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্যতম আসামি পুলিশ পরিদর্শক মো. আবদুল আহাদ দুই মাস আগে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় যোগদান করেন। রবিবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখায় পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসির সম্মাননা দেন পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন। সম্মাননা পাওয়ার একদিন পরই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হলো।

এর আগে তিনি কানাইঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। সেখানেই আবদুল আহাদ দুর্নীতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আদালতসূত্র জানায়, ১০ ও ১৩ অক্টোবর মামলার দুদফা শুনানি শেষে সোমবার সিনিয়র স্পেশাল জজ এবং সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো. বজলুর রহমান এ মামলা আমলে নিয়ে দুদক সিলেটের উপপরিচালককে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন কানাইঘাটের দীঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন কাজল, দর্পনগর পশ্চিম গ্রামের তাজিম উদ্দিন, জহিরুল ইসলাম জহির, মো. আবু রায়হান পাভেল, মুসলিম উদ্দিন, মাছুগ্রাম গ্রামের এম মামুন উদ্দিন, দক্ষিণ কুয়রেরমাটি গ্রামের শাহাব উদ্দিন এবং কানাইঘাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ ও গোয়াইনঘাট থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. আবদুল আহাদ।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সড়কের বাজারে আবদুল গফুর ওয়াকফ স্টেটের ভূমি ব্যবহার করে কানাইঘাট থানার তৎকালীন ওসি মো. আবদুল আহাদের প্রত্যক্ষ মদদে দীঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন কাজল ও সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এম মামুন উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে দীঘিরপাড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো আবু রায়হান পাভেলকে বাজারের হাসিল আদায়কারী সাজিয়ে অবৈধ পশুর হাট বসিয়ে পুলিশ ও বিজিবির নামে ঘুষের টাকা আদায় করেন।

এ বাজারে ভারত থেকে গবাদিপশু চোরাইভাবে আনতে বাংলাদেশি ৪৫০ কোটি টাকা আলী হোসেন কাজল ও তাজিম উদ্দিন তাদের নিযুক্ত লোকজন দিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার করেন।টাকা পাচার ও চোরাচালানের পশুর হাট পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে সাড়ে ৪ কোটি টাকা এ অবৈধ বাজার থেকে আদায় করা হয়।

মামলার বাদী এম মঈনুল হক বুলবুল জানান, গত ১ আগস্ট এ বাজারে কোরবানির পশু কিনতে গেলে তার কাছেও আসামিরা পুলিশের লাইনের (ঘুষ) নামে ৮০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটি হলে বিষয়টি ওসি মো. আবদুল আহাদকে জানালে তিনি এর কোনো প্রতিকার না করে ম্যানেজ করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এর পরই বিশাল দুর্নীতির বিষয়টি তার নজরে এলে তিনি ১৮ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আদালতে মামলা করেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব হুসাইন জানান, এটি একটি বড় দুর্নীতির মামলা। এ মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় চোরাচালনের গরুর হাট এটি। প্রতিদিন শত শত ট্রাকে এ বাজার থেকে সিলেট ও দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাচালানের গরু সরবরাহ করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে ওসি আবদুল আহাদ বলেন, আদালত কী আদেশ দিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তি কী তা আপনাদের যাচাই করে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। বাদীর সঙ্গে আমার একটু দূরত্ব রয়েছে। আমি যদি ৪৫০ কোটি টাকা পাচার করে থাকি, তা হলে এখনই আমাকে নজরবন্দি করা উচিত। 
managed wordpress hosting

সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *