উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার প্রীতি ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে

 Jetpack

অনলাইন ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে গত শুক্রবারের ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা দলে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। ফেরাটা স্মরণীয় করে রেখেছেন দলকে জেতানো একমাত্র গোল করে। গত সোমবারও আর্জেন্টিনার ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মেসি।

এবার দলকে জেতাতে পারেননি, তবে যোগ করা সময়ে গোল করে আর্জেন্টিনাকে হার থেকে বাঁচিয়েছেন। বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের পেনাল্টি গোলে প্রীতি ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে আর্জেন্টিনা।

প্রীতি ম্যাচ হলেও দুই দলই নিজেদের সেরা একাদশটাই মাঠে নামিয়েছিল। এদিন প্রথম থেকেই উরুগুয়ের উপর প্রভাব বিস্তার করে খেলেছে আর্জেন্টিনা। বলের দখল, নান্দনিক পাস, লক্ষ্যে ছুটে চলা সবই ছিলো মেসিদের খেলায়। তবে এগিয়ে যায় উরুগুয়েই।

৩৪ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এডিনসন কাভানি। অবশ্য প্রথমার্ধ শেষের আগেই সেই গোল শোধ করার ভালো সুযোগও পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসির সঙ্গে নেমে ভালোই খেলছিলেন দিবালা। কিন্তু মার্কোস আকুনিয়ার ক্রস গোলের সামনে থেকেও প্রথম দফায় পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন, দ্বিতীয় চেষ্টায় অবশ্য বল জালে জড়িয়েছিলেন, কিন্তু এর আগেই একবার বলে হাত লেগেছিল দিবালার, তাই সেই গোল আর পাওয়া হয়নি তার।

উরুগুয়ে নিজেদের স্বভাবসুলভ কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলটাই খেলছিল। স্কালোনির অধীনে গত ছয় মাসে বদলে যাওয়া আর্জেন্টিনা বল পজেশন ধরে রেখে আক্রমণ সাজাতে ধুঁকেছে। জার্মানি, ব্রাজিলের বিপক্ষে আশাজাগানিয়া ফুটবল খেললেও তাই কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর দলের বিপক্ষে তাই সুযোগ তৈরিতে ঝামেলায় পড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে।

এ ম্যাচেও বড় একটা সময় নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি পারছিল না লা আলবিসেলেস্তেরা। ৬৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা সমতয়ায় ফেরে সেট পিসে ভর করে, মেসি-আগুয়েরো জুটিতে।

উরুগুয়ের বক্সের বাম দিকে ফ্রি-কিক পেয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা, মেসি বাম পায়ে বাঁকানো কিক মেরেছিলেন আগুয়েরোকে উদ্দেশ্য করে। ম্যান সিটি স্ট্রাইকার লাফিয়ে উঠে সিক্স ইয়ার্ড বক্সের মাথা থেকে গ্ল্যান্সিং হেডারে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচে ফেরান আর্জেন্টিনাকে।

অবশ্য আর্জেন্টিনার স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। আরেকটি ফ্রি-কিক থেকে আবার পিছিয়ে পড়েন মেসিরা। সুয়ারেজেই আর্জেন্টিনার বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক আদায় করে নিয়েছিলেন। এর পর সরাসরি ফ্রি-কিক থেকেই গোল করে দ্বিতীয়বারের মতো দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন সুয়ারেজ। ওই গোলে অবশ্য আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদার দায়ও অনেকখানি। সুয়ারেজের ফ্রি-কিক টপ কর্নারে ছিল না, এক হাতে বল আটকাতে গিয়ে গতির কাছে হার মেনে আরেক গোল খেয়ে বসেন আন্দ্রাদা।

আগুয়েরোর গোলের পরই ব্রাজিলের বিপক্ষে দারুণ খেলার সেই ম্যাচের ছাপ ছিল আর্জেন্টিনার ফুটবলে। মেসির একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্য মিস করে যায় মিনিট দুয়েক পরই। তবে সুয়ারেজের ৬৯ মিনিটের গোলে আবার পিছিয়ে পড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে। এর পর ম্যাচে ফেরার সবরকম চেষ্টাই করে গেছে আর্জেন্টিনা। দিবালা-মেসির দারুণ এক সমন্বয়ের পর আগুয়েরো শট মেরেছেন বাইরে দিয়ে। দিবালাও প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে অল্পের জন্য গোল পাননি। ওই শটের পরই লাউতারো মার্টিনেজের বদলি হয়ে ৭৬ মিনিটে মাঠ ছাড়েন দিবালা।

মার্টিনেজ বাকি সময়ে তেমন কিছু করতে পারেননি। ৯০ মিনিটে আগুয়েরোর হেড কাম্পানা আবার ঠেকিয়ে দিলে হারটাই অনুমিত মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনার জন্য। তবে এর দুই মিনিট পরই মার্টিনেজের অবদান থাকল আর্জেন্টিনার ফেরায়। তাতে নেতৃত্ব দিলেন মেসি।

আগের ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেও পরে বল জড়িয়েছিলেন জালে। এবার কাম্পানা আগে থেকেই নিজের বামদিকে ঝাঁপ দিয়ে ফেলেছিলেন। মেসির গড়িয়ে মারা শট তাই কোনো বাধা পায়নি গোল পর্যন্ত পৌঁছাতে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে টানা দুই ম্যাচেই গোল করলেন মেসি, জাতীয় দলের হয়ে বছরের শেষটা তাই একেবারে মন্দ হলো না আর্জেন্টিনার জন্য। আর উরুগুয়ে একটি বছর পার করে দিল কোনো ম্যাচ না হেরেই।

Jetpack

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *