উৎসুক দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভীড়, আশুড়ার বিল জাতীয় উদ্যানে শেখ ফজিলাতুন্নেছা কাঠের সেতু দেখতে

মোসলেম উদ্দিন,হিলি (দিনাজপুর):
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ অংশের ২৫১ হেক্টর এবং বিরামপুর অংশের ১০৯ হেক্টর নিয়ে মোট ৩৬০ হেক্টর এলাকাজুড়ে এই আশুরা বিল। এখানে বিভিন্ন দেশীয় মাছসহ লাল খলশে, কাকিলাসহ আট প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ পাওয়া যায়।

এই বিলের তিন দিক ঘিরে আছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শালবন। আর এই বনেই আছে অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সীতারকোর্ট বিহার। যা নিয়ে ‘সীতার বনবাস’ কিংবদন্তি রয়েছে।পর্যটকদের আকর্ষনের জন্য ৯০০ মিটারের একটি কাঠের আঁকাবাঁকা সেতুটি নির্মান থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারে মুগ্ধ হয়েছে দেশের পর্যটকরা, এমনকি বিদেশেও সাড়া পড়তে
বাদ থাকেনি। এত বড় কাঠের সেতু উত্তরবঙ্গে নেই।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা আঁকাবাঁকা কাঠের সেতুটি এক নজর দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছে হাজার পর্যটক/ উৎসুক দর্শক। ৫১৭.৬১ হেক্টর সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিয়ে নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান। ২০০৮ সালে এটি জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। তবে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হলেও বরাদ্দ না দেওয়ায় তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই বনে শাল ছাড়াও সেগুন, গামার, কড়ই, জামসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ প্রজাতির গাছগাছড়া রয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী জাতীয় উদ্যান ঘেষা আশুড়ার বিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মনমাতানো নান্দনিক এই বিলটি বর্ষা মৌসুমে দেশি প্রজাতির মাছ। হারিয়ে যাওয়া জাতীয় ফুল শাপলার বিস্তার। এমন পরিবেশ মনমাতানো দৃশ্য ও আশুড়ার বিলের উপর আঁকাবাঁকা কাঠের সেতু দর্শানার্থীর মন কাড়ার যাদু।

সেতুর দু’পাশে বিশাল বন, আর বনের ভেতরে বসার জায়গা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এত মানুষের ভীড় সব মিলে পর্যটকদের যেন মুগ্ধ করেছে। লাল-নীল শাপলা ফুলের বংশ বিস্তারে ফুলের চারা রোপন আশুড়ার বিলের ধারে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা লাগানো, জাতীয় উদ্যানের শাল গাছে পাখির আশ্রয়ের জন্য মাটির হাড়ি ঝুলিয়ে পাখির আবাসস্থানের ব্যবস্থা করণ করা হয়েছে।

সময়নিউজ২৪.কম/বি এম এম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *