একাধিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ হিলি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে 

মোসলেম উদ্দিন, হিলি দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
উপজেলার সব বিদ্যালের কাজ না করেও ৩০ লাখ টাকার বেশি ভাউচার জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহামুদুল হাসানের বিরুদ্ধে। বিদ্যালের সভাপতিদের অভিযোগ জোর করে প্রধান শিক্ষকরা আমাদের নিকট সই করে নেয়। এদিকে একটি বিদ্যালয়ের মহিলা সভাপতি বলছেন আমি সই করিনি,তথাপি আমার সই নকল করে ভাউচার ট্রেজারি অফিসে জমা হয়েছে। আবার প্রধান শিক্ষকরা বলছেন শিক্ষা অফিসার স্যারের নির্দেশে আমরা এগুলো করেছি।
বুধবার (২৩ জুন) হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, কোন বিদ্যালয়ে চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দকৃত কোন উন্নয়ন মুলক কাজ বিদ্যালয়ে হয়নি। অথচ ঐসব উন্নয়ন মুলক কাজের জন্য বিল ভাউচার তৈরি করে সভাপতি এসএমসিদের সই নিয়ে টাকা উত্তোলনের জন্য উপজেলা ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, স্লিপ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা, রুটিন মেরামত বাবাদ ৪০ হাজার টাকা ও ওয়াস ব্লক বাবদ ২০ হাজার টাকা। আরও জানা যায়, বিদ্যালয়ের কমিটির উপর কোন রকম দায়িত্ব দিতে চান না এই শিক্ষা অফিসার। বিদ্যালয়ের সকল কাজ এই শিক্ষা অফিসারের হুকুম মাফি হয়ে থাকে। সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ভয়ে তার নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে থাকে।
উপজেলার ১২ নং খাটাউচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইয়েদা সুলতানা বলেন, আমাদের বিদ্যালের কিছু উন্নয়ন মুলক কাজ করতে হবে। এর বরাদ্দ আসছে, এখনও কোন কাজ শুরু করিনি। স্লিপ বাবদ ৩৫ হাজার, রুটিন মেরামত বাবদ ৪০ হাজার টাকা ও ওয়াসব্লক বাবদ ২০ হাজার টাকা। কোন কাজ এখনও হয়নি, কিন্তু শিক্ষা অফিসারের হুকুমে সভাপতির সই নিয়ে ৯৫ হাজার টাকার ভাউচার জমা দিয়োছি।
ঐবিদ্যালের সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র সিল বলেন, আমার বিদ্যালয়ের কোন কাজ হয়নি। কিন্তু শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে ৯৫ হাজার টাকার ভাউচারে সই দিয়েছি। হাকিমপুর ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোছাঃ লিমা আক্তার বলেন, আমার স্কুলের জন্য ৪০ হাজার টাকা স্লিপ এবং আর অন্যান্য ৭০ হাজার টাকা ও আরও কিছু বাবদ ২০ হাজার টাকা এসেছে। কিন্তু আমি জানিই না, কে বা কাহারা আমার সই জাল করে ভাউচার তৈরি করে উপজেলা ট্রেজারি অফিসে জমা দিয়েছেন।
হাকিমপুর উপজেলার টুব্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইজার রহমান জানান, বিদ্যালয়ের কোন কাজ হয়নি। কিন্তু আমি শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে বিদ্যালয়ের স্লিপ, রুটিন মেরামত ও অন্যান্য বাবদ ভাউচার উপজেলা ট্রেজারি অফিসে জমা দিয়েছি। হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসানের নিকট জানার জন্য বার বার ফোন দিয়েও ফোনটি রিসিভ হয়নি।
হাকিমপুর উপজেলা ট্রেজারি কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বলেন, উপজেলার সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেশি ভাউচার জমা দিয়েছেন। তবে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন স্যারের নিকট সব বিদ্যালের সভাপতি ও এসএমসি’ এই ভাউচার গুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তখন চেয়ারম্যান স্যার আমাকে ডাকেন এবং ভাউচার গুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেন।
হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, ৩০ লাখ টাকার ভাউচারের বিরুদ্ধে প্রতিটি বিদ্যালয়ের সভাপতি এসএমসিদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এবং একজন মহিলা সভাপতির সেই নকল করে ভাউচার তৈরি করেছে। এই কারণে ট্রেজারি অফিসে ভাউচারগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুর-এ আলম বলেন, বিদ্যালয়ের সকল উন্নয়ন মুলক কাজ উক্ত বিদ্যালয়ের কমিটির সভাপতি এবং এসএমসি করে থাকবে। আবার কাজ না করে ভাউচার তৈরি করে জমা দেওয়াও যাবে না। এগুলো নিয়মবহির্ভূত। তিনি আরও বলেন, একজন মহিলা সভাপতির সই জাল তৈরি করা আইন বহির্ভূত কাজ। এই অভিযোগও আমার হাতে আসছে। এবিষয়টি আমি উপজেলা শিক্ষা কমিটিকে সহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অবগত করবো।
সময় নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *