এক যুগ পার করে ১৩ বছরে পা রাখলো সিডর ও সিডরা আজ সিডরের জন্মদিন

 

মোংলা প্রতিনিধিঃ

১২ বছর আগে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে দেশের উপকুলীয় ১১টি জেলায় আঘাত হানে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর। ঘূর্ণিঝড় থেকে বাঁচতে সেদিন মোংলা উপজেলার চিলা প্রামের সেন্ট মেরিস গির্জাসংলগ্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিল শত শত মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চিলা খালের পাড়ে ছোট্র একটি কুড়ের ঘরের অসহায় অন্তঃসত্তা সাথী সরকার ও তাঁর স্বামী জর্জি সরকারও। সুর্যাদয়ের কিছু আগে সাথীর কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে এক শিশু। ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসলীলার মধ্যে নতুন প্রানের বারতা বয়ে আনা শিশুটির নাম রাখা হয় ‘সিডর’। সেই সিডর সরকার আজ ১২ পেরিয়ে ১৩ বছরে পা দিল।

খুলনার দাকোপ উপজেলার হরিনটানা গ্রামে হোম অব লাভ নামের একটি মিশনারি স্কুলের বোডিংয়ে প ম শ্রেনীর ছাত্র সে। ওই ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশী মানুষ প্রাণ হারায়। আহত হয় ৫৫ হাজার মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৮৫ লাখ মানুষ। উপকুলীয় এলাকার অন্য পরিবারগুলোর মতো সিডরের পরিবারকেও এখনো অভাব অনটনে দিন কাটাতে হচ্ছে।

গত কয়েক বছর বিভিন্ন সংবাদকর্মীরা তাকে নিয়ে লেখা-লেখীর এক পর্যায় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন এবং কয়েকজন মানবদরদি তার পরিবারের পাশে দাঁড়ীয়ে কিছুটা সাহায্য করেন। মোংলার উপজেলা পুর্বের নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের সহায়তায় একটি টিনের ঘর পায় পরিবারটি।

সিডরের দাদা রঞ্জিত সরকারের চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঋণগ্রস্ত হয়ে মৃত্য ববরন করে। অভাবের তারনায় সিডরের বাবা তার আগের পুরানো ঘরটি বিক্রি করতে বাধ্য হন। পরে জর্জিয়েস সরকারের একমাত্র সম্বল তিন কাঠা জমির ওপর সরকারের দেয়া নতুন করে ঘর তোলেন সিডরের বাবা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সিডরের বাড়ি গেলে তার দাদি রিভা সরকার বলেন, জর্জি সাগরে মাছ ধরতে গেছেন। সাথী ঢাকায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

রিভা সরকার আরও বলেন, পড়াশোনায় সিডরের মেধা অনেক ভাল কিন্ত লেখা-পড়ার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়ায় সিডরকে মিশনারি বোর্ডিং স্কুলে পাঠানো হয়েছে। অর্থাভাবে সিডরের জন্য খাবারদাবার, কাপড় ও লেখাপড়ার জন্য কিছু কিনে দিতে পারেন না তাঁরা। মায়ের কোলে সেদিনের সিডর, এখন সিডর সরকার নামে পরিচিত। তাকে নিজের কাছে না রেখে দাকোপের হরিণটানা গ্রামের হোম অব লাভ-এ মিশনের বোর্ডিংয়ের রেখে লেখাপড়া সিখানো হচ্ছে।

ওই বোডিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মাইকেল হালদার বলেন, সিডরের পরিবারের অনেক অভাব অনাটনে দিন কটে। তাই ওকে লেখাপড়া সিখানোর জন্য তাদের সম্মতি সিডরকে নিয়ে এসেছেন। বোর্ডিং স্কুলটিতে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পাঠদান এবং মৌলিক সব চাহিদা পুরন করা হচ্ছে।

একই সময় অন্য এক এলাকায় জন্মনেয়া সিডরা নামে আর এক কন্যা সন্তান। তারও নাম রাখা হয় সিডরা। কথা হয় সিডরার সাথে, সে বলেন, বাবা থাকতেও বেচে নাই। মা অভাবের তারনায় লেখাপড়ার জন্য সেন্টপলস মিশনারীজ স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। সেখানে বর্ডিংয়ে থেকে পরাশুনা করছি,‘পড়াশোনা করে অনেক বড় হতে চাই।’ সেবা করতে চাই দেশের মানুষের, কিন্ত কেমনে করবো, ভাল লেখাপড়া করতে হলে অনেক টাকা দরকার, মাতো একা আমাদের তিন ভাই বোনকে লেখাপড়া করাচ্ছে। বডিংয়ে থাকি, বাড়ি যেতে ইচ্ছে করে কিন্ত এখান থেকে যেতে পারছিনা। মা মাঝে মাঝে এসে দেখে যায়।

প্রলংকারী ঘুর্নিঝড় সিডরের সময় জন্মনেয়া একই ইউনিয়নে আমরা দুইটি শিশু। সরকারও দেশের ভিত্তবানদের কাছে অবেদন আমাদের একটু সাহয্য ও সহনুভতি করলে লেখাপড়া করে মানুষ হতে পারতাম।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *