এটা কাশ্মির নয়! নড়াইলে নিজের জমি বিক্রি করার অপরাধে একটি পরিবার আজ অবরুদ্ধ


Search and buy domains from Namecheap

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি ;

রবিবার (১৮,আগস্ট) এটা কাশ্মির নয়! নড়াইলের কুচিয়াবাড়ী গ্রামে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। হঠাৎ করে বেড়া দিয়ে ঘরের তিন পাশে ঘিরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সাংবাদিকরা জানার পর থানার ওসিকে অবগত করা হলেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভূক্তভোগী নড়াইলের কুচিয়াবাড়ী গ্রামের তরিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে নিজের বসতভিটায় বসবাস করছেন তিনি। মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তার সংসার। তার বসতভিটায় প্রায় ৩০ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতক নিজের কেনা জমি এবং পাঁচ শতক মায়ের প্রাপ্ত জমি। পৈতৃকভিটা ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার কামার গ্রামে বসবাস করার জন্য তরিকুল নড়াইলের লোহাগড়ার তালবাড়িয়া গ্রামের জহিরসহ তার তিন ভাইয়ের কাছে প্রায় ৩০ শতক জমি বিক্রি করেন। ভূমি অফিসে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাচাই শেষে গত ৩১ জুলাই ওই জমি নড়াইলের লোহাগড়ায় রেজিস্ট্রি হয়।

এছাড়া গত ৮ আগস্ট বিলের প্রায় ২১ শতক জমি তরিকুলের প্রতিবেশি শিমুল মোল্যা ক্রয় করেন। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, জমি বেচাকেনার এ বিষয়টি তরিকুলের মামা পাশে নড়াইলের ঝিকড়া গ্রামের হাফিজার রহমান জানতে পেরে ক্ষুদ্ধ হন। এ ঘটনায় হাফিজার হঠাৎ করে তরিকুলের ঘরের তিন পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া হাফিজার রহমান জমির ক্রেতাদের জমিতে আসতে দিবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে তরিকুল ইসলাম বলেন, মায়ের সঙ্গে প্রায় ২৫ বছর ধরে নড়াইলের কুচিয়াবাড়ির জমিতে বসবাস করছি। আর বাবা আছেন ফরিদপুরের বাড়িতে। তিনি মাঝে-মধ্যে আমাদের খোঁজখবর নেন। এখন নিজের বাড়ি ফরিদপুরের কামার গ্রামে বসবাস করার উদ্দেশ্যে এখানকার (কুচিয়াবাড়ী) জমি বিক্রি করেছি। অথচ আমার মামা নড়াইলের ঝিকড়া গ্রামের হাফিজুর রহমান আমাদের পরিবারকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। ঘরের তিন পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছে।

এ কারণে ঘরের মালামাল নিয়ে ফরিদপুরে যেতে পারছি না, যেন বন্ধীশালার মধ্যে আছি। এছাড়া জমিগ্রহীতাকেও জমিতে আসতে দিচ্ছেন না তিনি (হাফিজুর)। আমার প্রশ্ন-নিজের জমি বিক্রি করা কী অপরাধ? আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। তরিকুলের মা বলেন, আমি এবং আমার ছেলে, বেটার বউ ও দুই পুতনি (ছেলের মেয়ে) ঘর থেকে বের হতে পারছি না। বৈধ জমি বিক্রির পরও আমরা হুমকির মধ্যে আছি।

অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান বলেন, পৈতৃকসূত্রে ওই জমিতে আমার অংশ রয়েছে; তাই আমি বেড়া দিয়েছি। শনিবার (১৭ আগস্ট) সকালে এদিকে, বিষয়টি জানার পরও নড়াইলের লোহাগড়ার থানার পুলিশ এ পর্যন্ত কোনো ভূমিকা নেয়নি বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগী তরিকুলের পরিবার।

সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *