ওস্তাদ সুমন আহম্মেদ রঞ্জন কিশোরগঞ্জ সঙ্গীতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ:

 

মার্টিন লুথার কিং এর অমর বাণী “ঈশ্বরের বাণীর পরেই সঙ্গীত চর্চা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ”। সেই সঙ্গীত চর্চাকেই হৃদয়ে ধারণ করে ওস্তাদ সুমন আহম্মেদ রঞ্জন কিশোরগঞ্জের সংস্কৃতি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম হয়েছিলেন। জন্ম ১৯৫৮ সালে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল শ্রীধরখিলা গ্রামে। লিভার সিরোসিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৫ সালের ৭ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় তিন যুগ ধরে সঙ্গীত চর্চার সাথে জড়িত ছিলেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক আঙ্গুর প্রথম তাকে শিল্পী পুলের প্রভাষক হিসাবে নিয়োগ দেন। একজন সুগায়ক, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসাবে তার নিরলস কর্ম তৎপরতা অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের গ্রেড- এ’র তালিকাভূক্ত সুরকার ও সংগীত পরিচালক ওস্তাদ সুমন আহম্মেদ রঞ্জন তার দৃপ্ত পদচারণায় প্রতিনিয়ত কিশোরগঞ্জের সঙ্গীত অঙ্গনকে সমৃদ্ধ ও ঋদ্ধ করে গেছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গাইটাল এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেনের দারুন প্রতিভাবান পুত্র সুমন আহম্মেদ রঞ্জন ওস্তাদ অমর চন্দ্রশীল, ওস্তাদ অখিল ঠাকুর, ওস্তাদ পরেশ ভট্টাচার্য, মনাই মিয়া ও ওস্তাদ মিথুন দে প্রমুখের নিকট সঙ্গীত শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। সঙ্গীত পরিচালনা বিষয়ে ওস্তাদ জমিদার বিরাজ মোহন রায়ের নিকট তালিম গ্রহণ করেছিলেন। প্রায় তিন যুগ অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে সঙ্গীত চর্চা করে গেছেন। ১৯৮৫/১৯৮৬ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ বেতার সঙ্গীত পরিবেশন করে গেছেন। তার লেখা ও সুর করা গান বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের অনেক শিল্পী গেয়ে সুনাম অর্জন করেছেন।

কন্ঠযোদ্ধা বিপুল ভট্টাচার্য্য ওস্তাদ সুমন আহম্মেদ রঞ্জনের লেখা ও সুর করা পিরীতের নাই ঘর বাড়ি, নাই পিরীতের ইষ্টিশন, কি জ্বালা হইল আমার কেন প্রাণে মানে না ও দিনে দিনে দিন চরে যায় সময় কি তর হবে না এবং মোঃ আবুল হাশেম ঘরের বাহির হইলাম আমি তর পিরীতের কারণে গেয়েছেন। ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার একমাত্র সঙ্গীত ব্যক্তি হিসেবে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে ওস্তাদ সুমন আহম্মেদ রঞ্জন ‘একক গীতিকার ও সুরকারের সঙ্গীত সন্ধ্যা’ নামে একটি একক সঙ্গীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সে সঙ্গীত সন্ধ্যায় তার লেখা ও সুর করা আধুনিক গান পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমীর বিনয় কর, ওয়ালিনেওয়াজ খান কলেজের ইংরেজী প্রভাষক আলী আকবর, প্রভাষক লুৎফর হায়দার ফয়সল, পল্লীগীতি পরিবেশন করেন জসিম উদ্দিন হিরো, মোঃ মুজিবর, গিয়াস উদ্দিন সবুজ, রফিকসহ অনেক খ্যতিমান ও উদীয়মান শিল্পী। এছাড়া তার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনবার দীলশাদ বেগম পুষ্প, জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন একবার মজিবর রহমান, জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন নাদীয়া আক্তার নুপুর। এছাড়া বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন করে আসছেন মোঃ মজিবুর রহমান, দীলশাদ বেগম পুষ্প, অষোক পাল, কামাল আহম্মদ, মকবুল হোসেন ফারুক, মাহফুজা আক্তার পুষ্প।

তার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনে যারা তালিকাভূক্ত হয়েছে তারা হলেন আব্দুর রহমান বাবুল ভূঁইয়া (সাবেক শিল্পকলা প্রশিক্ষক), জসীম উদ্দিন হীরু, আকিল রহমান ও হোসনে আরা মমতাজসহ আরও অনেকেই। এছাড়া তানজিনা নাছরিন শ্যামা ন্যাশনাল একাডেমী ফর প্রাইমারীতে স্বর্ণপদক ও নন্দিত সাহা বৃহত্তম ময়মনসিহ সাংস্কৃতিক ফোরামে পুরস্কার লাভ করেন।

জেলা পর্যায়ে প্রতিভামান শিল্পীদের মধ্যে রয়েছে চন্দন দেবনাথ, শেলী শারমিন, প্রনব সাহা বাবলু (সাবেক শিল্পকলা প্রশিক্ষক), ডাঃ রমজান মাহমুদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুন্না রানী রায় তৃনা প্রমুখ ওস্তাদ সুমন আহম্মেদ রঞ্জনের নিকট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
ওস্তাদ সুমন আহম্মেদ রঞ্জন সঙ্গীতের উচ্চতর প্রশিক্ষণ লাভ করেন, ওস্তাদ ইয়াছিন খান, ইয়াকুব আলী সুমন ও অজিত রায়। তিনি প্রথম সঙ্গীতের হাতেখড়ি নেন ওস্তাদ লাল মাহমুদের নিকট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *