কটিয়াদীতে মানসিক ভারসাম্যহীন ধর্ষিতা কিশোরী আট মাসের গর্ভবতী পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
নাম জানা নেই, পরিচয়ও কেউ জানে না। এক গর্ভবতী কিশোরী (১৮) কটিয়াদী বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশ এলাকায় বেশ কিছুদিন যাবত ঘুরাঘুরি করছে। পিতা মাতা থাকলে হয়তো তার কোন আশ্রয় থাকতো। সেটুকুও হয়তো হারিয়েছে মানসিক ভারসাম্যহীন এ কিশোরী। গায়ের পোশাক দেখেই বুঝা যায় গোসল নেই কত দিন! একজন হতদরিদ্র দিনমজুরের স্ত্রী হলেও গর্ভকালীন সময়ে সাধ্যমত স্বাস্থ্য সেবা জুটতো। কিন্তু কে রাখে কার খবর! বাজারে বাজারে ঘুরে বেড়ানো নাম পরিচয়হীন এ কিশোরীর স্বাস্থ্য সেবা তো দুরের কথা; থাকা, খাওয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ন্যুনতম বালাই নেই। যেখানে রাত, সেখানেই কাত। এমনি করে কেটে যাচ্ছে তার দিন। তার শারীরিক পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যের করুন অবস্থা দেখে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন রক্তদান সমিতি’র সদস্যদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। সংগঠনের সদস্যরা এগিয়ে আসে তার পাশে। অনুসন্ধান করে তার নাম পরিচয়ের। কিন্তু হায়! যে কিশোরী তার নামই বলতে পারে না, কিভাবে বলবে, কে তার অনাগত সন্তানের পিতা, কি তার ঠিকানা। কেমন করে হলো তার এ অবস্থা।  তারা বুঝে গেছে গর্ভবতী এ কিশোরী মানসিক ভারসাম্যহীন। মনের অজান্তেই বিবেক নাড়া দিয়ে উঠে। এ তো আর কিছু নয়, সমাজের বিকৃত চরিত্রের কোন নরপিশাচের ধর্ষণের শিকার।
সোমবার বিকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাকে ঘুরাফেরা করতে দেখে বদরুল আলম নাঈম ও তার সংগঠনের কয়েকজন সদস্যমিলে গর্ভবতী এ কিশোরীকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে আসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা বলেন। সদস্যগণ তাকে নিয়ে যান স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিক ভূঞা মেডিকেল সেন্টারে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের কর্মকান্ডে প্রীত হয়ে বিনে পয়সায় পরীক্ষা নিরীক্ষাগুলো করে দেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তাকে আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন এবং চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। পরে অজ্ঞাত মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী কিশোরীর বিষয়টি লিখিত পত্রের মাধ্যমে থানাকে অবহিত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন কর্তব্যরত ডাক্তার ।
রক্তদান সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক বদরুল আলম নাঈম বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী কিশোরীর স্বাস্থ্য সেবা প্রয়োজন। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি এবং তার জন্য কিছু খাবার ও ওষুধ কিনে দেই। এগুলো পেয়ে সে খুশি হয় এবং তার মানসিক অবস্থার উন্নতি লক্ষ করি। আমাদের সংগঠনের সদস্যগণ তার প্রসবকালীন সময় পর্যন্ত নিয়মিত খোঁজ খবর রাখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার তৌফিকুল ইসলাম বলেন, রিপোর্ট দেখে বুঝা যায় গর্ভকালীন ৩৪ সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়েছে। এ মুহুর্তে তার ওষুধ, খাবার এবং নার্সিং খুব বেশী প্রয়োজন। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী পর্যাপ্ত সেবা তাকে প্রদান করা হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. মুশতাকুর রহমান বলেন, রক্তদান সমিতির সদস্যরা একটি ভাল কাজ করেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন গর্ভবতী কিশোরীকে চিকিৎসা প্রদানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। মেয়েটির পর্যাপ্ত নার্সিং করা হলে এবং অনাগত সন্তানের পিতাকে খোঁজে পাওয়া গেলে হয়তো সে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে।
সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *