কমলগঞ্জে বন্যায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

শাহীন আহমেদ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দিন দিন বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে পৌর এলাকার রামপাশা গ্রামে ধলাই নদীতে নতুন করে আরও একটি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ধলাই নদীর ৪টি স্থানে ভাঙ্গন হয়।

এসব ভাঙ্গন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে অন্তত ১১০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যাক্রান্ত হয়েছে হাজার পরিবার। অন্যদিকে ভারি বর্ষণে লাউয়াছড়া বনে পাহাড় ধসে গাছ পড়ে এক ঘন্টা বন্ধ ছিল সিলেটের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ। রাস্তায় ঢলের পানি জমে থাকায় কমলগঞ্জ-শমশেরনগর-কুলাউড়া ও শমশেরনগর-তারাপাশা সড়ক যান চলাচলে বিঘœ ঘটে।

ফলে এ সকল সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। উজানের ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে কমলগঞ্জের ধলাই নদী ছাড়াও লাঘাটা নদী ও ক্ষিরনী ছড়ার পানি বেড়ে গত তিন দিনে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যার্তরা। সরকারীভাবে এখনো অনেক এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি।

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬২ মেঃটন চাল, নগদ ১ লক্ষ টাকা ও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে আদমপুর ইউনিয়নের হকতিয়ারখোলা ও রহিমপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে ২টি নতুন ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। ধলাই নদীর পানি বেড়ে প্রতিরক্ষা বাঁধের নতুন ও পুরাতন ভাঙ্গন দিয়ে কমলগঞ্জ পৌর এলাকা, রহিমপুর, আদমপুর, পতনঊষার, মুন্সীবাজার, শমশেরনগর ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ১১০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

অতিবৃষ্টির ফলে উজান থেকে আসা পাহাড়ীঢলে কমলগঞ্জের ঘোড়ামারা, কেওয়ালীঘাট, রুপসপুর, রাধাগোবিন্দপুর, মহেশপুর, শ্রীরামপুর, দক্ষিণ ধুপাটিলা, পালিতকোনা, রসুলপুর, বনবিষ্ণুপুর, গোপীনগর, রশিদপুর, নোয়াগাঁও, চন্দ্রপুর, কোনাগাঁও, রায়নগর, রামপুর, রামচন্দ্রপুর, হরিশ্মরন, জালালপুর, জগন্নাথপুর, প্রতাপী, কান্দিগাঁও, রামপাশা, কুমড়াকাপন, রামপুর, বিষ্ণুপুর. নারায়ণপুর, গন্ডামারা, হকতিয়ারখোলা, কেওয়ালীঘাট, জালালপুর, বন্দরগাঁও, সতিঝিরগাঁও, মারাজানের পার, রাধানগর, হরিপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভাঙছে গ্রামীণ সড়ক। সোমবার কমলগঞ্জ পৌর এলাকা, ইসলামপুর ও রহিমপুরে বন্যাক্রান্তদের মাঝে চাল বিতরন করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশেকুল হক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমলগঞ্জে ৬২ মেট্রিক টন চাল, ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও নদগ ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭ মেঃ টন চাল ও শুকনো খাবার বিতরন সম্পন্ন হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ধলাই নদীর আরও ঝুকিপুর্ণ স্থানে ভাঙ্গনের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে লাঘাটা নদীর পানি পাওয়ায় ৩ দিন থেকে পানিবন্ধী রয়েছেন আলীনগর ইউনিয়নের দিশারী আশ্রয়ন প্রকল্পবাসী, আলীনগরবস্তী ও লাংলীয়া গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার। এসব গ্রামের ফসলী জমিতে রোপিত আউশ ধান পানিতে প্লাবিতে হয়েছে। পানি উঠেছে কামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে।

সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *