করোনাকালে রাবি শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

লাবু হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়:

পৃথিবীজুরে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত জনজীবন। যা থেকে রেহাই পায় নি বাংলাদেশেও। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীদের ঈদ আনন্দে। প্রতিবছর পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপনের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে বাস ও ট্র্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে নিজ ঘরে ফিরতো শিক্ষার্থীরা। তবে এবারে মহামারি ভাইরাসের কারণে দুই মাস আগে থেকেই ঘরবন্দী শিক্ষার্থীরা। প্রতিবছর ঈদকে ঘিরে নানা আয়োজন, পরিকল্পনা থাকলেও এবার সকল আয়োজন, পরিকল্পনায় হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। করোনাকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের ভিন্নধর্মী ঈদ ভাবনাগুলো তুলে ধরা হলো।

ওয়াসিফ রিয়াদ
নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সাথে ঈদ উদযাদপন করার সৌভাগ্য হয়েছে। প্রতিবছরই ইদের দিন নামাজ শেষে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশির বাড়িতে ঘুরতে যেতাম। আর বিকেলে নতুন জামা পড়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা না দিলেই নয়। তবে এবারের ঈদ পরিকল্পনার রয়েছে কিছুটা পরিবর্তন।সারাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে লকডাউনরত অবস্থায় রয়েছে সবাই। এতে করে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করে শুধুমাত্র পরিবারের সাথেই ইদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেব। যেহেতু করোনা মহামারিতে সংকটে রয়েছে অনেক পরিবার। তাই এই ইদে কেনাকাটা করার ইচ্ছে নেই। কেনাকাটার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ করবো। পরস্পরের মাঝে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবার মাধ্যমেই ইদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার চেষ্টা করবো।একদিন করোনা দূর হবে, পৃথিবী আবারও সুস্থ হয়ে উঠবে সেই কামনাই করছি।

এম কে আজাদ
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ

প্রতিবারের মতো এবার ঈদ নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। যদিও বা প্রতি বছর এই বিষয় টি নিয়ে অনেক পরিকল্পনা থাকে। ঈদের সকালে গোসল করে বাবার সাথে সালাত আদায় ও পড়ন্ত বিকেলে বড় ভাই ও বন্ধুদের সাথে আড্ডা হতো। তবে এবারে তা হবে না। প্রতি বছর যেমন ঈদের কেনাকাটা নিয়ে একটা মনের মধ্যে অনুভূতি কাজ করতো সেটা এবার নেই, প্রতি বছর ঈদের দিন কই যাবো সেটা নিয়ে যে বিশাল পরিকল্পনা এবা বের হওয়ার কথাও কল্পনা করি না। ভেবেছি বাসা হতে যদি কেনাকাটার টাকা দেয় এলাকার কারো উপকারে লাগাবো।

আছিয়া খাতুন

চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগ, প্রথম বর্ষ

ঈদ শব্দটির মধ্যে এক পৃথিবী আনন্দ খুঁজে পাই আমি। প্রত্যেকটি রোজা যেন ঈদের এক একটি পদ চিহ্ন! ঈদ গুটি গুটি পায়ে এক অদৃশ্য দরজার প্রায় কাছাকাছি, অপেক্ষা শুধু কড়া নাড়ানোর। ঈদে সাধারণত অনেক পরিকল্পনা থাকে, সবাই একসাথে ঘোরাঘুরি, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়াসহ আরো কত কি! কিন্তু এবারের ঈদ যেন এক অসাধারণ ঈদ! কেননা, অতি ক্ষুদ্র এক ভাইরাস (কোভিড-১৯) সারা বিশ্বে যেখানে মহামারি আকার ধারণ করেছে, সেই অসুস্থ পরিবেশে সুস্থ থাকাটাই আমাদের কঠিন চ্যালেজ্ঞ। এই পরিস্থিতিতে অনিচ্ছা সত্বেও বাঁচার তাগিদে আজ আমরা গৃহবন্দী। যাহোক, বাস্তব জগতে এবারের ঈদ একান্ত পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু ভার্চুয়াল জগতে আমরা একসাথেই আছি।পরিস্থিতির স্বীকারে ই-বৈশাখের মতো না হয় এবারের ঈদটাকেও ই-ঈদ   হিসেবেই পালন করি।এযাত্রায় বেঁচে গেলে সময়ের স্রোতে ভাসতে ভাসতে ঈদ আবারো আসবে, কড়া নাড়বে আপনার দরজায়। ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। সুস্থ হয়ে উঠুক পৃথিবী।

ফজলে রাব্বী
ফার্মেসী বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ

ঈদ মানে আনন্দ, হাসি খুশি। প্রতিবারের ন্যায় এবারও ঈদ উদযাপন করব, তবে এবারের মহামারি করনার কারনে ঈদ উদযাপন ভিন্ন রকম। এ বছর সারা পৃথিবীতে যে অবস্থা বিরাজ করছে, ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়া হবে না। বিষয়টি অনেক কষ্টের।প্রতিবার ঈদে অনেক জায়গায় ঘুরতে যাই। তবে এবার তা সম্ভব নয়। এ বছর ঈদে বাড়িতে সবার সাথে বেশি সময় কাটিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে চাই।আমি জানি আমার মতো এবার সবার একই অবস্থা। তাই সবাই বাড়িতে থাকুন, সুস্থ থাকুন আর ভালো ভাবে ঈদ উদযাপন করুন।সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ঈদ মোবারক।

রায়হান ইসলাম
দর্শন বিভাগ, প্রথম বর্ষ

করোনায় যেন স্তব্ধ চারপাশ। মানুষ প্রাণ ভরে একটা নিঃশ্বাস নিতেও যেন আজ সন্দিহান হয়ে পড়েছে। এর মাঝেই মুসলীম জাতির প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর অতি নিকটে। প্রতি বছর কতোই না মজা করে উদযাপন করতাম দিনটা। মাস ব্যাপী বাড়িতে পরিকল্পনা হতো, এবার ঈদে কি কিনব? কোথায় ঘুরবো? আর ঈদের দিনে সকাল সকাল নতুন জামায় খুশবু লাগিয়ে হাসি মাখা মুখে চলে যেতাম ঈদগাহ ময়দানে। নামায শেষে কোলাকোলি করতাম, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হতাম। কিন্তু এবার করোনা যেন আনন্দের মাঝে হানা দিল। না পারছি বাইরে যেতে, না মার্কেটে। এক অদৃশ্য শঙ্কায় যেন বিচলিত করে প্রতিনিয়ত। তবুও করোনা তোরে বলে রাখি- ঘরে বসেই ভালবাসার মধ্য দিয়েই হবে ঈদ উদযাপন-ইনশাআল্লাহ।

সময়নিউজ২৪.কম/ বি এ ম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *