করোনার সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সারি ক্রমাগত দীর্ঘ হয়ে চলেছে

অনলাইন ডেস্কঃ

গত বছরের ডিসেম্বরে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর বিশ্বে মৃত্যু প্রায় ১০ লাখ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, এই সংখ্যা ২০ লাখ হতে পারে। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। বেশ কিছু দেশে নতুন সংক্রমণ বাড়ায় ডব্লিউএইচও’র জরুরি বিষয়ক প্রধান মাইক রায়ান বলেছেন, আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ না নিলে মৃতের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। বিশেষ করে করোনার টিকা না আসা পর্যন্ত।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে করোনা শুরুর পর ৯ মাসে কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ৯ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি।রায়ান বলেছেন, ‘ইউরোপিয়ানরা নিজেদের প্রশ্ন করুক যে লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা এড়াতে তারা যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না?’ পরীক্ষা, রোগী শনাক্তকরণ, কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন, সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা ও হাত ধোঁয়ার মতো বিকল্প পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না তাও প্রশ্ন করেছেন এই কর্মকর্তা।

এর আগে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আরও আট জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়, শহরটির ১০ লাখ লোকের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ সিটির মার্শেইর বার ও রেস্তোরাঁর স্টাফরা তাদের কর্মক্ষেত্র বন্ধের বিরোধিতা করেছে। নতুন সংক্রমণ বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্য অধিকাংশ অঞ্চলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

করোনার সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সারি ক্রমাগত দীর্ঘ হয়ে চলেছে। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা পৃথিবীতে আরো সাড়ে ৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। একই সময়ে নতুন করে আরো প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এই বৈশ্বিক মহামারীতে মৃতের সংখ্যা ৯ লাখ ৯৩ হাজার ছাড়াল। সরকারি হিসেবে, মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি সাড়ে ২৭ লাখের বেশি।

পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার’র তথ্য মতে, আজ ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার সকাল সোয়া ৮টা পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে ৩ কোটি ২৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪১৩ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। বিপরীতে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ কোটি ৪১ লাখ ৭১ হাজার ৮৭৭ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৭৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০ জন করোনারোগী, যাদের মধ্যে ৬৩ হাজার ৭৮৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা বেড়ে ৭২ লাখ ৪৪ হাজার ১৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ভারতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯ লাখ ১ হাজার ৫৭১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ব্রাজিলে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৫৭৯ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ায় চতুর্থ সর্বোচ্চ ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮ জন ও কলম্বিয়ায় পঞ্চম সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৩১৭ জনের কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে।

শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো হলো— পেরু (৭ লাখ ৯৪ হাজার ৫৮৪ জন), স্পেন (৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৮ জন),  মেক্সিকো (৭ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ জন), আর্জেন্টিনা (৬ লাখ ৯১ হাজার ২৩৫ জন) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫২৯ জন)।

কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাণহানিতেও শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার ৭০৯ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে ব্রাজিলে। ভারতে মারা গেছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ৯৩ হাজার ৪১০ জন। এছাড়া মেক্সিকোতে চতুর্থ সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ৮৪৪ জন ও যুক্তরাজ্যে পঞ্চম সর্বোচ্চ ৪১ হাজার ৯৩৬ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা।

এ হিসেবে শীর্ষ দশে রয়েছে— ইতালি (মৃত্যু ৩৫ হাজার ৮০১ জন), পেরু (মৃত্যু ৩২ হাজার ৩৭ জন), ফ্রান্স (মৃত্যু ৩১ হাজার ৬৬১ জন), স্পেন (মৃত্যু ৩১ হাজার ২৩২ জন) ও ইরান (মৃত্যু ২৫ হাজার ২২২ জন)।

এছাড়া কলম্বিয়ায় ২৫ হাজার ১০৩ জন (১১তম), রাশিয়ায় ২০ হাজার ৫৬ জন (১২তম), দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৬ হাজার ৩১২ জন (১৩তম), আর্জেন্টিনায় ১৫ হাজার ২০৮ জন (১৪তম), চিলিতে ১২ হাজার ৫২৭ জন (১৫তম),ইকুয়েডরে ১১ হাজার ২৩৬ জন (১৬তম), ইন্দোনেশিয়ায় ১০ হাজার ২১৮ জন (১৭তম), বেলজিয়ামে ৯ হাজার ৯৬৫ জন (১৮তম), জার্মানিতে ৯ হাজার ৫৩০ জন (১৯তম), কানাডায় ৯ হাজার ২৫৫ জন (২০তম), ইরাকে ৮ হাজার ৮৬৭ জন (২১তম), বলিভিয়ায় ৭ হাজার ৮০০ জন (২২তম), তুরস্কে ৭ হাজার ৮৫৮ জন (২৩তম), পাকিস্তানে ৬ হাজার ৪৪৪ জন (২৪তম), নেদারল্যান্ডসে ৬ হাজার ৩২৮ জন (২৫তম), সুইডেনে ৫ হাজার ৮৮০ জন (২৬তম), মিসরে ৫ হাজার ৮৫৩ জন (২৭তম), ফিলিপাইনে ৫ হাজার ১৯৬ জন (২৮তম), বাংলাদেশে ৫ হাজার ৯৩ জন (২৯তম), চীনে ৪ হাজার ৬৩৪ জন (৩০তম) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *