কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে পড়ল পার্বতীপুরের স্কুলের ছাদ

বিশেষ প্রতিনিধি

নির্মান কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে পড়ল একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের ছাদ। নি¤œ মানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করায় এ ঘটনা ঘটেছে।বিষয়টি ধামা চাপা দিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তড়িঘড়ি করে ভেঙ্গে পড়া ছাদের মালামাল দ্রত সরিয়ে নিয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলার ১০ নং হরিরামপুর ইউনিয়নের দক্ষিন মধ্যপাড়া কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মানাধীন তৃতীয় তলা ভবনে ঘটনা টি ঘটেছে।

গত সোমবার ভোর বেলায় ঐ ভবনের ছাদ ভেঙ্গে পড়ে। ঠিকাদার নিম্মানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করায় ছাদ ভেঙ্গে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এলজিইডি অফিস সূত্রে জানাগেছে দক্ষিন মধ্যপাড়া কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্ধমূখী ভবন নির্মানের জন্য দর পত্র আহব্বান করা হয়। নির্মানের শর্তানুযায়ী মেসার্স মুকুল ট্রেডার্স ফুলবাড়ী নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে দ্বিতল ও তৃতীয় তলা ভবনের কাজ শুরু করে ইতি মধ্যে এক তৃতীয়াংশের কাজ শেষ করেছে। সংশ্লষ্টি বিদ্যালয়ের নিকটস্থ লোকজন এবং বিদ্যালয়ের জমি দাতা সদস্য জয়নাল আবেদীন মাষ্ঠার জানায়, নির্মান কাজে নিয়োজিত থাকা তদারকি কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনুপ কুমার পোদ্দার ঐ বিদ্যালয়ের কাজ দ্বায় সারা ভাবে দেখা শুনা করেন এবং ঠিকাদারের নিকট হতে মোটা অংকের সুবিধা আদায়ে ব্যস্ত থাকায় কাঙ্খত কাজ পাওয়া যায় নি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মাওঃ আব্দুর জব্বার জানান, বিদ্যালয় নির্মান কাজে শুরু থেকেই নিম্ন মানের রড, ইট, সমিন্টে সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে মর্মে খবর পাওয়া গিয়েছিল। দুঃখের বিষয় ঠিকাদার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কোন সদস্যের সঙ্গে কখনও কোন রুপ যোগাযোগ করে নি কিংবা আমাদের কে দেখভালের জন্য সৌজন্য মূলক ভাবেও ডাকা হয় নি। সংশিষ্ট প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, ঠিকাদার মুকুল কখনই আমাদের শিক্ষক মন্ডলী ও ম্যানেজিং কমিটিকে গুরুত্ব দেয় নি।

বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার মুকুলের সঙ্গে মুঠো ফোনে ০১৭১৩৬৬**** এ কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা যায় নি।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনুপ কুমার পোদ্দারের সঙ্গে কথা হলে তিনি ভেঙ্গে পড়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তৃতীয় তলার চিলা কোঠা ভেঙ্গে পড়েছে। ছাদের নতুন কাজ শুরু করা হবে। কনস্ট্রাকশন কাজের ভুল এ্রুটি হতেই পারে এটি কোন ব্যপার নয়। ভুল হলে তা ঠিকাদার সমাধান করবে। ইতি মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী শামিম আক্তার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন।

সময়নিউজ২৪.কম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *