//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js


কালের বিবর্তনে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে নওগাঁর মৃৎশিল্প

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন,স্টাফ রির্পোটারঃ
কালের বিবর্তনে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে নওগাঁর মৃৎশিল্প।প্রয়োজনীয় অর্থ ও উপকরণের অভাবে নওগাঁর মৃৎশিল্প ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। মৃৎ শিল্পীরা নিজ পেশা ছেড়ে এক প্রকার বাধ্য হচ্ছে অন্য পেশায় আত্মনিয়োগ করতে। কালের বিবর্তন, প্রতিকূলতা আর প্রযুক্তির এযুগে মেলামাইন শিল্পের বিকাশে মৃৎশিল্প বিলুপ্ত প্রায়। নওগাঁর মহাদেবপুর ও পোরশার মৃৎ শিল্পীদের হাতের তৈরী মাটির হাঁড়ি পাতিল ও তৈজসপত্রের প্রশংসা ছিল পুরো রাজশাহী বিভাগ জুড়ে।
স্থানীয় কুমারদের হাতে তৈরী মাটির হাড়ি পাতিল, কলস, প্রদিপ, খেলনার তৈজসপত্র আর ঘর ছাওনির টালি ছিল মানুষের নজর কাড়া। শহর অঞ্চলে মাটির তৈরী তৈজসপত্রের ব্যবহার না থাকলেও এক সময় গ্রামঞ্চলে এগুলোর ব্যবহার ও চাহিদা ছিলো প্রচুর।গ্রামে বসবাসকারি বিভিন্ন পরিবারের মেয়েদের পয়সা সংগ্রহের জন্য মাটির তৈরী ব্যাংকের কথা সবার জানা। বিদ্যুৎ চলে গেলে গ্রামের বাড়িতে মাটির প্রদিপের চাহিদাও ছিল।যা বর্তনমানে বিরল। তবে বিভিন্ন রোগ বালাই সারতে এখনও গ্রামের মানুষরা ব্যবহার করে আসছে পিঠা তৈরীর বাসন, মাটির কলস, হাড়ি ও দই ভরানোর জন্য ছোট ছোট পাতিলসহ ইত্যাদি। আর একারনেই নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার খোর্দ্দনারায়নপুর “পালপাড়া” ও পোরশা উপজেলার নিতপুর কুমার পল্লীতে এখনও চাকা ঘুরছে। কিন্তু আগের মত জাঁকজমক আর নেই। দুর্দিন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কষ্ট হতাশায় যেন সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছে পল্লীগুলোতে।
এক সময়ের নন্দিত মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পেছনে নানাবিধ সমস্যা বিরাজ করছে। কুমারদের শ্রমের মজুরি খুবই কম। প্রয়োজনীয় মাটি ও জালানীর অভাব। সমস্যা বাজারজাতকরনেও। সর্বোপরি আধুনিক মেলামাইন শিল্পের বিকাশের জন্য মৃৎশিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত উপজেলা সদর নিতপুর পালপাড়ায় গিয়ে কথা হয় শ্রী লাল বিহারী পাল, শ্রী সাধন পাল ও মনি পালের সাথে।
তারা জানান, মাটির তৈরী জিনিসপত্রের চাহিদা কমে গেছে অনেকাংশে।প্রয়োজনীয় মাটির অভাব, দ্রব্যমূল্য সহ বিভিন্ন কারনে তারা তাদের পুরাতন ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারছেনা। তাদের এ পাড়ায় এক সময় ৩শ’ ৬৫ পরিবার ছিল, এর মধ্যে সব পরিবার ভারতে চলে গেছে। বর্তমানে ২০টি পরিবার রয়েছে। তারাই একমাত্র মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত।তারা আরো জানান, সরকার এই শিল্পের উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করলে তাদের পারিবারিক এবং এ শিল্পের চাহিদা আবারো ফিরে আসবে বলে তারা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js
%d bloggers like this: