কিশোরগঞ্জে গোরস্থানে মাটি ভরাট ও উন্নয়নে স্বার্থান্বেষী মহলের বাধা ॥ এলাকায় উত্তেজনা

 

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জঃ

কিশোরগঞ্জে গোরস্থানের মাটি ভরাট ও উন্নয়নে স্বার্থান্বেষী মহলের বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাটি সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে। অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির হোতা হিসেবে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল ও মল্লিকপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ প্রধান শিক্ষক জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় লোকজনরা জানান, চলতি বছরে বড়ভাগ ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মুসলমানদের মৃতদেহ দাফনের জন্যে সামাজিক উদ্যোগে এ গ্রামেই “৪২ শতাংশ জায়গার মাঝে বড়ভাগ জান্নাতুল বাকী গোরস্থান” নামে একটি গোরস্থান প্রতিষ্ঠা করা হয়। এলাকার সমন্বিত উদ্যোগে গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি গ্রামীণ রাস্তার পাশের গাছগুলো দিয়ে গোরস্থানের মাটি ভরাট ও উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাছগুলো কাটা হলেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় চিহ্নিত কুচক্রী মহলের লোকজন এবং নিজেদের পকেট ভারী করতে তাদের সাথে আতাঁত করে মল্লিকপুর সরকারী স্কুলের সংশ্লিষ্টরা।

এলাকায় পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে স্কুল কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক কেটে ফেলা গাছগুলোকে স্কুলের দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে স্থানীয় মল্লিকপুর সরকারী স্কুলটি বড়ভাগ মৌজায় এসএ খতিয়ান- ৮৯৭, এ.এস দাগ- ৬৬৬ বিমলা চরন সাহা গং নামে এবং আরএস খতিয়ান-৫, আর.এস দাগ- ৭৫০ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে মাত্র ২৩ শতাংশ ভূমি রেকর্ড রয়েছে।

তাই দালিলিক প্রমান অনুযায়ী কেটে ফেলা গাছগুলো স্কুলের দখলের ২৩ শতাংশ ভূমির বাইরে। এ ছাড়া যে রাস্তা থেকে গোরস্থানের মাটি ভরাট ও উন্নয়নের জন্যে গাছ কাটা হয়েছে সেই গ্রামীণ রাস্তাটিও সরকারের খাস কিংবা কোন দপ্তরের অধিগ্রহণকৃত রাস্তা নয়।

এলাকার বয়োবৃদ্ধ সাধারণ মানুষ ও স্কুল কমিটির একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ (শুক্কুর মেম্বার) জানান তার সময়ে কোন দিন কেটে ফেলা গাছকে স্কুলের দাবি করা হয়নি। তিনি এও জানান মৃত ওসমান গনি নামে বড়বাগ গ্রামের এক ব্যক্তি গ্রামীণ রাস্তায় উক্ত গাছগুলো রোপন করে ছিলেন। তার মৃত্যর আগে স্বজনদের কাছে বলে যাওয়া শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাকে নব প্রতিষ্ঠিত এই বড়ভাগ জান্নাতুল বাকী গোরস্থানেই দাফন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্কুল কমিটির সভাপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে, তিনি জানান গাছগুলোর অবস্থান স্কুলের নির্ধারিত জায়গার ভেতরে নয়, তবে আমরা গাছগুলোকে স্কুলের দাবি করছি। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা আফিসার মো. এনামুল হক খান বলেন অভিযোগ পেয়েছি। তৎপ্রেক্ষিতে সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করে যদি দেখা যায় গাছগুলোর অবস্থান স্কুলের জায়গায়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদির মিয়া জানান অভিযোগটি আমি এখনও দেখি নাই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে, তবে অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *