কিশোরগঞ্জে নবী হোসেন হত্যা মামলার রায় দুই জনের মৃত্যুদন্ড

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ:

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহিম চাঞ্চল্যকর নবী হোসেন হত্যা মামলায় ২ জনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। তাছাড়া প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।মামলার বিবরণে জানা যায়, মৃত্যুপ্রাপ্ত আসামি নজরুলের সঙ্গে সুমনা বেগমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে বিয়ে হলেও ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে ভৈরব সদরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া গ্রামের কবিরাজ নবী হোসেনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুমনার। ভৈরবের চন্ডিবেড় দক্ষিণপাড়া গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন সুমনা। নজরুল ইসলামের সঙ্গে সুমনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে এ নিয়ে নবী হোসেনের সঙ্গে সুমনার বিরোধ বাধে।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুমনা নবী হোসেনকে ফোন করে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। এদিন গভীর রাতে সুমনার বাসায় নবী হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ৬ টুকরা করে ভৈরবের কয়েকটি স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়। ২৩ ডিসেম্বর পুলিশ নিহতের মৃতদেহের আংশিক উদ্ধার করে। ২৫ ডিসেম্বর মৃতদেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিলকিছ বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এসআই মো. নজরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি চার জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

সাক্ষ্য জেরা শেষে আদালত নিহত নবী হোসেনের প্রেমিকা সুমনা বেগম ওরফে শিলা (৩০) ও সুমনার সাবেক স্বামী নজরুল ইসলাম (৩৮) কে দন্ড বিধি ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্থ করে মৃত্যুদন্ড ও তাদেরকে ২ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেন। আসামী সুমনা পলাতক থাকায় যেদিন তিনি গ্রেফতার হবেন অথবা আদালতে আত্ম সমর্পন করবেন সেদিন থেকে এ রায় কার্যকর হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামি আশরাফুল রাসেল ও মো. শরীফ মিয়াকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এপিপি আবু সাঈদ ইমাম ও আসামী পক্ষে ছিলেন এ্যাড. আব্দুর রউফ ও রাষ্ট্র নিয়োজিত এ্যাড. এ.বি.এম লুৎফর রাশিদ রানা।

সময় নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *