কিশোরগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল এর বাল্যবিয়ে নিয়ে তোলপাড়

 

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ:

কিশোরগঞ্জে কমর্রত পুলিশ কনস্টেবল জানে আলম (৩৬) বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলায়। পূর্বের স্ত্রী এবং দুই বাচ্চা থাকা সত্বেও তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জের হারুয়া এলাকার আমির হোসেনের মেয়ে দশম শ্রেনিতে পড়ুয়া মাইশাকে বিয়ে করেছেন।

জানা যায় মাইশা কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর নিয়মিত ছাত্রী। এ নিয়ে পুলিশ মহলে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ কেউ কেউ করছেন মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জানে আলমের এটা তৃতীয় বিয়ে, খোঁজ নিয়ে জানা যায় এর আগেও কনস্টেবল জানে আমল আরো দুইটি বিয়ে করেছিলেন এর মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রী চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলায় বসবাসকারী দুই সন্তানের জননী নার্গিস আক্তার পপি। জানা যায় বর্তমান স্ত্রীকে না জানিয়ে বা অনুমতি না নিয়ে তিনি কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে দশম শ্রেনীতে পড়ুয়া হারুয়া এলাকার মাইশাকে বিয়ে করেন।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জে কমর্রত জানে আলমের স্ত্রী নার্গিস আক্তার পপির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান আমার স্বামী আমাকে না জানিয়েই তৃতীয় বিয়ে করেছে এর আগে আমাকে যখন বিয়ে করেছিলো তখনও আমি জানতাম না সে বিবাহিত, বিয়ের কিছুদিন পর জানতে পারি। এখন আবার মাইশাকে বিয়ে করেছে শুনেছি ও ক্লাস টেন এ পড়ে সেতো আমার মেয়ের বয়সী।

আমার স্বামী এ কাজটা কিভাবে করলো! এক পর্যায়ে তার কাছে জানতে চাইলে যে আপনার স্বামীর এই অপকর্মের জন্য আপনি ওনার কি শাস্তি চান? এমন প্রশ্নের জবাবে নার্গিস আক্তার
পপি বলেন আমি চাই সে মাইশাকে তালাক দিক আমি চাইনা আমার সোনার সংসারটা ভেঙে চুরমার হয়ে যাক, আমি চাই আমার দুই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাদের নামে আমার স্বামীর পেনশন এর টাকা করে দেওয়া হোক।

এক পর্যায়ে তিনি এটিও বলেন যে আমাকে কারোর কাছে এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নিষেধ করেছে জানে আলম, এইসব ব্যাপারে আলোচনা করলে নাকি ওর চাকরি চলে যাবে। তাছাড়া জানে আলম আমাকে নানানভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সে বলছে মাইশাকে মেনে নিতে।

কনস্টেবল জানে আলমের স্ত্রী নার্গিস আক্তার পপি আরো জানান আমি কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে খুব শিঘ্রই এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেব। গুরুতর এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ কনস্টেবল নং- ২৫৬ জানে আলম সম্পূর্ণ অভিযোগ স্বীকার করে বলেন ক্লাস টেনে পরে তাতে কি হয়েছে এইটা ল কভার করে, কিভাবে ল কভার করে জানতে চাইলে জানে আলম বলেন এটা অভিভাকের সম্মতিতে ধর্মীয় রীতি মেনেই হয়েছে আর একটা মেয়ে ক্লাস টেনে পরে তো কি হইছে বয়স ১৬ হলেই ল কভার করে বিয়ে করা যায়। যদিও এ কারণে তাকে সদর থানা থেকে তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।

বাল্যবিয়ে করার ক্ষেত্রে পুলিশের শাস্তি কি হতে পারে এসব বিষয়ে কথা হয় কিশোরগঞ্জ এর পাবলিক প্রসিকিউট (পিপি) শাহ আজিজুল হকের সাথে তিনি বলেন কোন মেয়ের বয়স যদি ১৮ না হয় তবে কোনভাবেই তার বিয়ে দেওয়া যাবেনা, যদি বিয়ে হয় তাহলে সেটা বাল্যবিবাহ বলে বিবেচিত হবে। সেক্ষেত্রে জানে আলম যেটি করেছে সেটি অবশ্যই বাল্যবিয়ে। এই অপরাধে যদি মামলা হয় তাহলে আদালতের রায়ের পর তার চাকুরিচ্যুত হতে পারে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে গেলে কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আনোয়ার বলেন কনস্টেবল জানে আলমের বিষয়টি আমি শুনেছি, সে যেই কাজটি করেছে এর জন্য ইতিমধ্যেই তাকে আমরা কিশোরগঞ্জ মডেল থানা থেকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছি। তিনি আরো বলেন কনস্টেবল জানে আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *