কুমিল্লার চান্দিনায় আমের মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে মুখরিত

আকিবুল ইসলাম হারেছ,চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ওমা, ফাগুনে তোর আমের বনে, ঘ্রানে পাগল করে……জাতীয় সঙ্গীতের এই লাইনটি গেয়েছি আমরা সবাই। কিন্তু আমের বনে ঘ্রানে পাগল হয়েছি ক’জন।গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সেই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি হচ্ছে মৌ মৌ ঘ্রাণ। যে ঘ্রাণ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। প্রকৃতির পালাবদলে শীতের শেষে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটেছে। কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতানে উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দোলা দিয়ে নানা ফুলের সঙ্গে আমের মুকুলও সৌরভ ছড়াচ্ছে।
ফাল্গুনি হাওয়ায় থোকায় থোকায় দুলছে আমের মুকুল। শীতের শেষে আম গাছের কচি ডগা ভেদ করে সবুজ পাতার ফাঁকে হলদেটে মুকুলগুচ্ছ যেনো উঁকি দিয়ে হাসছে।বাগানের সুনসান নীরবতা চিরে একটানা গান শোনাচ্ছে মৌমাছি। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখরিত আম বাগান ও উঠানের চারীপাশ।
শহর কিংবা গ্রামে সর্বত্র আমগাছ তার মুকুল নিয়ে হলদে রঙ ধারণ করে সেজেছে এক অপরূপ সাজে।কয়েক দিনের মধ্যে আমের মুকুল পরিণত হবে এক পরিপূর্ণ দানায়। আমের মুকুলে কৃষকের আগামীর স্বপ্ন দোল খাচ্ছে। সেই সোনালি স্বপ্নকে বুকে ধারণ করেই বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত চান্দিনার আম বাগান চাষীরা।
চান্দিনার সর্বত্র আমের মুকুল শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে প্রজেক্টপাড় ও পুকুরপাড়ের গাছগুলো। প্রায় ৮০ শতাংশ গাছেই এসেছে মুকুল।খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এরমধ্যে চান্দিনার বিভিন্ন গ্রামের আম গাছগুলোতে মুকুল এসেছে।আমের মুকুলের মিষ্টি সুবাসে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। সেই সুমিষ্ট ঘ্রাণ আন্দোলিত করে তুলছে মানুষের মন। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষীরা।
আর এ কারণেই বুকভরা আশা নিয়ে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।চান্দিনার কৃষকরা জানান, লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই আম গাছের সংখ্যা বাড়ছে। বারি আম-৪, বারি আম-৫, আমরুপালি, ফজলি, খিড়সা, ল্যাংড়া, রাজভোগম গোপালভোগ, মোহনভোগ ও মল্লিকাসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আমের বাগান করছে অনেকে। এছাড়া গেল কয়েক বছরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাড়ীভাঙ্গা নামে এক জাতের আম। এ আম আশবিহীন ও বেশ সুস্বাদু। এ জাতের আম সর্ব প্রথম রংপুরে উৎপন্ন হলে সারাদেশে সারা ফেলে এখন চান্দিনাতেও এ আমের চাষ হচ্ছে।
অনেকে আবার ছোট পরিত্যাক্ত জমি এবং বাড়ীর আশেপাশের জায়গাগুলোতে স্বল্প পরিসরে গড়ে তুলছেন আম বাগান।উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের হোসেন মিয়া জানান, এরই মধ্যে অনেক গাছে মুকুল এসেছে। আশা করা হচ্ছে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের বাম্পার ফলন হবে। তিনি আরো বলেন, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শে গাছে মুকুল আসার ১৫-২০ দিন আগেই পুরো গাছ সাইপারম্যাক্সিন ও কার্বারিল গ্রুপের কীটনাশক দিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করে গাছ ধুয়ে দিয়েছি। 
এতে গাছে বাস করা হপার বা শোষক জাতীয় পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যদি সঠিক সময়ে হপার বা শোষক পোকা দমন করা না যায় তাহলে আমের ফলন কমে যায়।
উপজেলার আম চাষী মোসলেম জানান, সেও পুকুর পাড়ে আম বাগান লাগিয়েছেন ভালো মুকুল দেখা যাচ্ছে।এ মুকুলের পর্যাপ্ত পরিচর্যা সে করছে।
’এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের পরিচালক এহতেসাম রাসুলে হায়দার জানান, আম চাষে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। আম গাছে মুকুল আসার আগে এবং আমের গুটি হবার পর নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জৈব বালাইনাশক ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে আমসহ অন্যান্য ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। তবে ছত্রাকজনিত রোগে আমের মুকুল-ফুল-গুটি আক্রান্ত হতে পারে।এ জন্য তিনি কৃষকদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন,‘এক্ষেত্রে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক দুই গ্রাম অথবা ইমিডাক্লোরিড গ্রুপের দানাদার প্রতি লিটার পানিতে দশমিক দুই গ্রাম, তরল দশমিক ২৫ মিলিলিটার ও সাইপারম্যাক্সিন গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।’
এই কৃষিবিদ আরো বলেন, ‘আবার মুকুল গুটিতে রূপান্তর হলে একই মাত্রায় দ্বিতীয়বার স্প্রে করতে হবে। এছাড়া পাউডারি মিলডিউ নামের এক প্রকার ছত্রাকজনিত রোগেও আমের ফলনের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। গাছে ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ দেখা দিলে অবশ্যই সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর দুইবার স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সময়নিউজ২৪.কম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *