কুমিল্লার চান্দিনায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুুতি দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

আকিবুল ইসলাম হারেছ,চান্দিনা(কুমিল্লা) প্রতিনিধি
“দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুুতি,হ্রাস করবে জীবন ও সম্পদের  ঝুঁকি” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এর নির্দেশনা মোতাবেক ১০ মার্চ (রবিবার) কুমিল্লা জেলার চান্দিনায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০১৯ পালন করা হয়।দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, ভূমিকম্প ও ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপন এবং উদ্ধার তৎপরতা বিষয়ক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়। 
 এছাড়া উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর চান্দিনা’র আয়োজনে উপজেলা চত্ত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম জাকারিয়া সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা( পিঅাইও) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ মোরছালিন ইসলাম এর সঞ্চলনায় সভায় আরও বক্তৃতা করেন উপজেলা সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার (বেনবেইস) মো. সালাউউদ্দীন,মাইজখার  ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মো সেলিম প্রধান, মহিচাইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবু মুছা মজুমদার, বাড়ের ইউপি চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলম, উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন (এম.সি) মো. এরশাদুল হক ভূইয়া, চান্দিনা মাতৃভূমি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান সরকার,দৈনিক ভোরের কাগজ ও দৈনিক রুুপসী বাংলা পত্রিকার সাংবাদিক রিপন আহমেদ ভূইঁয়া,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়  কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী সুভাষ চন্দ্র সরকার ,অফিস সহকারী লিটন কুমার রায়, সুমন চক্রবর্তী প্রমুখ।
দুর্যোগ প্রস্তুতি আলোচনা সভায় চান্দিনা উপজেলা ইউএনও এস.এম জাকারিয়া বলেন,বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০১৫-৩০-এর দুর্যোগ সম্পর্কিত ধাপগুলো বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ গ্রহণ করেছেন। দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসচেতনতা এবং মাঠপর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।গ্রাম্য স্বেচ্ছাসেবক গঠন করার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক গঠনের লক্ষ্যে সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামীতেও চান্দিনাতে যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলা ও এর ঝুঁকি হ্রাস করতে আমরা সক্ষম হবো
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম কোনো সর্তক বার্তার সুযোগ নেই, তবে বিশেষজ্ঞগণের অভিমতের ভিত্তিতে সরকার দেশব্যাপি ১০ লাখ তাল গাছ লাগানোর প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারের জন্য ২৫০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন বিভাগে সরবরাহ করা হয়েছে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে ১৯৭২ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) গঠন করেন। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে প্রাণিসম্পদ রক্ষার জন্য দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তৈরি করেছিলেন মুজিব কিল্লা। বিগত ১০ বছরে সারাদেশে ৩ হাজার ৮৫১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ২৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং ১৭ হাজার ৮৩০টি ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
দূর্যোগ প্রস্তুতি আলোচনা সভায় বাংলাদেশে মার্চ মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ হয়ে থাকে উল্লেখ করে চান্দিনা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার কমান্ডার শফিকুল আলম বলেন, ইতিমধ্যে দেশে ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী ও টর্নেডো শুরু হয়ে গেছে এবং ঘটবে বজ্রপাত ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও।এসব ক্ষেত্রে দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব উল্লেখ করে তিনি দুর্যোগ মোকাবেলার আগাম প্রস্তুতির জন্য ১০৯০ নম্বরে মোবাইল করে চান্দিনাবাসীকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে দিনের কর্মসূচি ঠিক করার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য,১৯৯৭ সাল থেকে মার্চের ১০ তারিখ সারাদেশে ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। এরপর দিবসটিকে ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত করে ২০১২ সালের ৭ নভেম্বর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এভাবে চলে আসার এক পর্যায়ে গত বছর মহান স্বাধীনতা দিবস পড়ে মার্চের শেষ সপ্তাহে। একই দিনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিবস পড়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয় সংশ্লিষ্টদের জন্য। এ কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সম্মতিতে ৩১ মার্চ জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদের ওই সম্মতিপত্রে সুবিধাজনক অন্য কোনও তারিখে দিবসটি পালন করার ব্যাপারে অনুশাসন দেওয়া হয়।
কিন্তু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাইয়ের পর জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালনের জন্য ১০ মার্চকে নির্বাচন করে। কারণ এদিন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনও দিবস নেই।
জেলা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দিবসটির তারিখ নির্ধারণে গত ৬ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হলে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১০ মার্চ ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস’ পালনের বিষয়ে একমত পোষণ করে।
সময়নিউজ২৪.কম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *