কুলাউড়ার তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে সময়মতো বিদ্যালয়ে আসার কথা বলায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার শরীফপুর ইউনিয়নের তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফেরদৌসী সুলতানাকে নিয়মিত, সময়মতো বিদ্যালয়ে আসার কথা বলায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ এর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলেন সহকারী শিক্ষিকা।

রোববার সকালে স্থানীয় আমতলা বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক নিজেকে সম্পূর্ন নির্দোষ দাবী করে বলেন, ওই শিক্ষিকা স্থানীয় একটি মহলের ইন্ধনে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ তুলেছেন।
প্রধান শিক্ষক মো. নোমান আহমদ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজারের গুড়াভুঁই গ্রামের আব্দুল রহিম এর মেয়ে ফেরদৌসী সুলতানা এনটিআরসি থেকে নিয়োগ পেয়ে তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষিকা হিসাবে যোগদান করেন।

যোগদানের পর প্রথমে কিছু দিন বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসা যাওয়া করেন। এরপর থেকে মাঝে মধ্যে আসলেও ২/৩ ঘন্টা বিলম্বে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। যার ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটে। এ কারনে প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ সহকারী শিক্ষিকা ফেরদৌসী সুলতানাকে নিয়ম মেনে চাকুরী করার কথা বলেন। যে কারনে ওই শিক্ষিকা প্রধান শিক্ষকের উপর ক্ষুব্ধ হন।

পরবর্তীতে ওই শিক্ষিকা স্থানীয় কিছু লোকের প্ররোচনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে ১৭ জুলাই কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগটি তদন্তনাধীন থাকা অবস্থায় ওই শিক্ষিকা ২৫ জুলাই কুলাউড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করলে প্রধান শিক্ষক হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সহকারি শিক্ষিকা ফেরদৌসী সুলতানা কর্তৃক মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের এবং বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন পত্রিকায় প্রধান শিক্ষককে নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শরীফপুর ইউপি সদস্য, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মকদ্দুছ আলী বলেন, প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ স্থানীয় রাজনীতির বলী হচ্ছেন। কমিটি নিয়ে বিভিন্ন সময় যারা দলাদলি করেছেন তারাই এখন ফেরদৌসী সুলতানাকে দিয়ে বিদ্যালয় ও প্রধান শিক্ষকের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এলাকার প্রবীন মরুব্বী আব্দুল মজিদ, আব্দুল মালেক, আফরোজ আলী, আছাব আলী, ইউনুস আলী প্রমুখ। এ ব্যাপারে সহকারি শিক্ষিকা ফেরদৌসী সুলতানার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য সহকারী শিক্ষিকা ফেরদৌসী সুলতানা তাকে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বিয়ের প্রস্তাব দেয়াসহ, বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানীর চেষ্টার অভিযোগ তুলেন।

সময়নিউজ২৪.কম/বি এম এম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *