কৃষকের বসতভিটা দখলের অভিযোগ

বাগমারা প্রতিনিধি:

বাগমারা উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের কাতিলা গ্রামের দুই সহদর কৃষকের পৈত্রিক বসতভিটা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিপক্ষরা দুই কৃষকের বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।এ ঘটনায় কৃষক ইউনুছ আলী মৃধা ও তার ছোট ভাই রহিদুল ইসলাম মৃধা যোগিপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।তবে অভিযোগ দায়েরের পর থেকে বাদীর তিন চাচাত ভাই প্রতিপক্ষ সেকেন্দার আলী মৃধা, শাহাজাহান আলী মৃধা ও আব্দুল মালেক মৃধা বাদীকে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাদী রহিদুল ইসলাম মৃধা ও ইউনুছ আলী ও প্রতিপক্ষ সেকেন্দার আলী মৃধা, শাহাজাহান আলী মৃধা ও আব্দুল মালেক মৃধা পরস্পর চাচাত ভাই। বাদীর পিতা আফজাল হোসেন মৃধা ও প্রতিপক্ষের পিতা শুকচান আলী মৃধা বিগত প্রায় একযুগ আগে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় দুই ভাই নখোপাড়া বাজার সংলগ্ন পাকারাস্তার পশ্চিম পাশে বসতবাড়ি সহ ৩০ শতক জমি রেখে যান। এ জমির মাত্র ৮ শতক বাদী ইউসুফ আলী মৃধা ও রহিদুল ইসলাম মৃধার দখলে, অবশিষ্ট ২২ শতক জমি দখলে রেখেছেন প্রতিপক্ষ তিন ভাই সেকেন্দার আলী মৃধা, শাহাজাহান আলী মৃধা ও আব্দুল মালেক মৃধা।

বর্তমানে প্রতিপক্ষ তিন ভাই তাদের দখলে থাকা ২২ শতক জমির উপর নির্মাণাধীন মাটির পুরাতন ঘর ভেঙ্গে সেখানে পাকা ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এসময় ঘর নির্মাণে বাধা প্রদান করলে প্রতিপক্ষরা ইউসুছ আলী মৃধা ও রহিদুল ইসলাম মৃধাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলেছে। তাদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এ জায়গায় তাদের কোন জমি দেওয়া হবে না।
ইউসুছ আলী ও রহিদুল জানান, ১৫ শতকের স্থলে তাদের মাত্র ৮ শতক জমি দেওয়া হয়েছে তাও আবার পিছনের দিকে। তারা পাকা রাস্তা সংলগ্ন ২২ শতক জমি জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার শালীস দরবার বসলেও তারা কাউকেও পরোয়া করছে না।

তারা সন্ত্রাসীর ভয় দেখাচ্ছে এবং আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলেছে। এমনকি তারা আমাদের চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে রেখেছে। আমরা বাস্তুভিটার এক কোনায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। সামান্য কিছু বললেই তারা হাসুয়া ও দা ছুরি দিয়ে আমাদের ধাওয়া করছে এবং মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ আব্দুল মালেক মৃধা মাটির ঘর ভেঙ্গে পাকা ঘর নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ওই ঘরটি আমার বড় ভাই শাহাজাহান মৃধা করার উদ্যোগে নিয়েছে। তবে এখানে জমির পরিমান নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব নেই দাবী করে তিনি বলেন, এর আগের চেয়ারম্যান (সাইফুল ইসলাম) সহ তদন্ত কেন্দ্রের আইসিকে নিয়ে বিষয়টির মিমাংসা করা হয়েছে। আমরা সেই মত ভোগ দখল করে আছি। তবে পজিশনগত ভাবে পাকা রাস্তার সাথে তাদের দখলীয় জমির পরিমান বেশি রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন তবে অন্যান্য হুমকির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছন।একই গ্রামের কৃষক মোবারক হোসেন আফজাল হোসেন ও স্থানীয় নখোপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান, তাদের এ বসত ভিটার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে এর আগে একাধিক বার শালিসী বৈঠক হয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেকেন্দার গং রায় না মানায় সমস্যার নিরসন হয়নি।

ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানার বাইরে। তবে দুই পক্ষই আমার পরিচিত। তাদের লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে দেখব।
এ বিষয়ে যোগিপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য এসআই শহিদুলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শহিদুল জানান, আমি ছুটিতে আছি। দুই একদিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে পৃথক অভিযোগ করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর। বর্তমানে নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান।তিনি বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়। কাগজপত্র দেখে ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *