কেন শতভাগ পাশের তালিকায় নেই শহরের বাঘা বাঘা সরকারি কলেজগুলো; যা জানালেন অধ্যক্ষরা

আবু সুফিয়ান রাসেল:


১৭ জুলাই প্রকাশ হলো উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। পাশের হারে এ বছর দেশ সেরা হয়েছে কুমিল্লা জেলা। তারপরও আলোচনায় নেই কুমিল্লা শহরের নামি দামি কলেজগুলো। অথচ ভর্তিযুদ্ধে বৃহত্তর কুমিল্লার ছাত্র-ছাত্রীদের পছন্দের প্রথম তালিকায় থাকে কুমিল্লা শহরের ৫টি কলেজ। এ বছরের ফলাফলে দেকা গেছে কুমিল্লা বোর্ডে শতভাগ পাশ করা কলেজ ৩১টি যার বেশীর ভাগই গ্রামের । আর শতভাগ পাশের তালিকায় মাত্র একটি সরকারি কলেজ রয়েছে। তা হলো বি.পাড়া বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ।

পয়েন্ট ভিত্তিক একাদশ শ্রেণির ভর্তি কাযক্রমে দেখা যায়, শহরের সরকারি কলেজগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হবে গোল্ডেন এ প্লাস বা এ প্লাস ছাড়া ভার্তি হওয়া যায় না। ব্যবসা শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে এ গ্রেড ছাড়া ভার্তি হওয়া যায় না। মোসা. নাছরিন বেগম নামে একজন অভিবাবক জানান, গ্রামের স্কুল থেকে মাধ্যমিকে যে পয়েন্ট নিয়ে এসে শহরের কলেজে ভর্তি হয়, দেখা যায় উচ্চ মাধ্যমিকে পয়েন্ট আরো কমে যায়। এ অভিবাবক আরো বলেন, শহরের সরকারি কলেজ সমূহ সার্বিক সুযোগ সুবিদা পেয়ে থাকে। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের আরো সচেতন হতে হবে। শিক্ষকদের প্রাইভেট /কোচিং কারানোর চিন্তা মাথা থেকে ফেলে দিতে হবে। ছেলে-মেয়েদের ও পড়ার প্রতি আরো মনোনিবেশ করতে হবে। কারণ এইসএসসি ফলের উপর তার ভবিষ্যত নির্ভর করে ।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ নবাগত অধ্যক্ষ প্রফেসর রুহুল আমিন বলেন, গত বছরের থেকে রেজল্ট ভালো হয়েছে। ১৫৪৪ জন অংশ গ্রহণ করেছে, ২৯৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাশের হার ৯২.১৮%। আশা করি আগামীতে রেজাল্ট আরো ভালো হবে। বেশী খারাপ হয়েছে ইংরেজি বিষয়ে, এ বিষয়ে শিক্ষকদের বিশেষ কর্মশালা করানো হবে। মূল কারণ হলো উপস্থিতি কম, শতভাগ উপস্থিতির প্রতি চাপ সৃষ্টি করা হবে। ভিক্টোরিয়াতে পাশের হার কম থাকার আরেকটি কারণ হলো প্রাইভেট পরীক্ষার্থী। প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক প্রভাব থেকে যায় ফলাফলে। অতীত অভিজ্ঞতা বিনিময় করে কুমিল্লা বোর্ডের সাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, বোর্ডে থাকা অবস্থায় জেএসসি, এসএসসি ও এইসএসসি’র ফল খারাপের নানা কারণ বিশ্লেষণ করে যথাযথ প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, বোর্ডের ফল ভালো হয়েছে। আশা করি সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারবো। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অভিবাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা লাগবে।

কুমিল্লা সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দা বিলকিস আরা বেগম জানান, ১০৭২ জন পরিক্ষায় অংশ ২৯ জন জিপিএ-৫সহ ৭৯২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এক. আমরা প্রথম শ্রেণির মেধাবী বা পরিশ্রমি শিক্ষার্থী কম পাই। দুই. ২০১৯ সালের পরিক্ষার্থীদের মধ্যে কলেজের পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছে এমন ৩৮ জন শিক্ষার্থী টিসি নিয়ে অন্য কলেজে চলে গেছে। তাদের রাখার জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। নানা অজুহাত, সমস্যা, রাজনৈতিক সুপারিশ নিয়ে পরীক্ষার ৪-৫ মাস আগে স্টুডেন্টগুলো চলে গেলো। টেষ্টের আগে পরে চলে যায়, সুনাম হয় অন্য কলেজের। ভালো ভালাফলের জন্য আমাদের ধারাবাহিক ভাবে নানা পদক্ষেপ আছে। শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। আমাদের এখানে এ বছর এমন ছাত্র ও এ প্লাস পেয়েছে। যাদের আমরা বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছি। বই-খাতা কলেজ ফান্ড থেকে দেওয়া হয়েছে। যেটা না বুঝে শিক্ষকরা ক্লাসের বাহিরে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ প্রধান সহকারি মোঃ মাহমুদ জানান, প্রায় দেড় হাজার ছাত্রী অংশ গ্রহণ করে এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষায়। এর মধ্যে ২০জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাশের হার ৭৯%। তবে পাশের হার বৃদ্ধির জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এবং এ নিয়ে কতৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এমদাদুল হক জানান, আলহামদুলিল্লাহ। গত ২ বছর থেকে ফলাফল ভালো হয়েছে। পাশের হার ৯৮%, ২৯৪ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৮৮ জন পাশ করেছে। শহরের সকল সরকারি কলেজ থেকে আমাদের কলেজের ফল ভালো হয়েছে। অনেক অভিবাবক মনে করেন, ভালো কলেজে ভর্তি করালেই দায়িত্ব শেষ। ফলাফল ভলো হয়ে যাবে তা নয়। তাই শিক্ষক-অভিবাবক মতবিনিময় সভার প্রতি গুরুত্বারোপ করবো। মনিটরিং সিষ্টেমে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। বিষয় ভিত্তিক গুরুত্বারোপ করা হবে।

কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদ ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, এ বছর পাশের হার ৭৩.১৪% । মোট পরিক্ষার্থী ৫৯৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। কলেজটি ২০১৬ সালে সরকারি হয়েছে। প্রথম দিকে শিক্ষক কিছুট সংকট ছিলো, এ সমস্যা সমাধান হয়েছে। এখন ভবন সহ অবকাঠানোর দিক থেকে কিছুটা অপূর্ণতা রয়েছে। শহরের প্রতিষ্ঠান হলেও এ সকল কারণে তুলনামূলক ভাবে ভালো ছাত্রছাত্রী কম ভর্তি হয়। তাদের আমরা পরিচর্যা করে, তুলতে হয়।

কুমিল্লা বোর্ড কলেজ পরিদর্শক মো. জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারি বলেন, সরকারি কলেজ সমূহের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ শতভাগ পাশ করেছে। কুমিল্লা শহরে যে পাঁচটা সরকারি কলেজ আছে কোনটাতে শতভাগ পাশ নেই। এ বছর আমাদের ফলাফলে আইসিটি ও ইংরেজির ফল বেশী খারাপ হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। জিপিএ-৫ আরো বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *