গাইবান্ধায় কৃষিশ্রমিক সংকট ।। ধানের মণ এবং শ্রমিক মজুরী সমান

সরকার লুৎফর রহমান,গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধা জেলার ৭টি উপজেলায় বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের ভরা মৌসুম চলছে। কিন্তু এ কাজে কৃষি শ্রমিকের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংকটে একজন শ্রমিক ধান কাটতে সাড়ে ৪শ’ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা মজুরী নিচ্ছে। আবার চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের দিয়ে এক বিঘা জমির ধান কাটতে খরচ লাগছে ৪ হাজার টাকা। ফলে এ জেলার বোরো চাষিরা পড়েছেন চরম বিপাকে উৎপাদিত ধান বিক্রি করেও খরচ উঠছে না। এ সংকট হতে উত্তোরণে সরাসরি কৃষকের নিকট হতে ধান ক্রয়ের দাবীতে বাম সংগঠন গুলো আন্দোলন কর্মসূচী পালন করেছেন। এরপর এখনো সাধারণ কৃষকের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা নেই সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। 

জানা গেছে, বৃষ্টি ও প্রখর রোদ থাকায় এবার জমির ধান একসাথে দ্রুত পেকে গেছে। ফলে একযোগে ধান কাটা শুরু হওয়ায় জেলাজুড়ে কৃষি শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ধান পেকে মাঠে রয়েছে শ্রমিক সংকটে ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যাপক দূর্ভোগে পড়তে হয়েছে। 

অন্যদিকে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা দরে। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি হাকানো হচ্ছে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। শ্রমিকের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। গত কয়েকদিনের ঝড়ো হাওয়া ও ঘুর্ণিঝড়ে ফণী’র কারণে মাঠের বেশির ভাগ ধান নুইয়ে পড়ায় শ্রমিক লাগছে তুলনামূলক আরও বেশী। আর ব্যয় বেড়ে গেলে ধানের বাজার বাড়েনি বলে জানায় সাধারণ কৃষকেরা।

জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে বোরো ২৮ জাতের চিকন ধান চাষ করতে শ্রমিকের মজুরী, জমি চাষ, তেল, সেচ, সার, কীটনাশকসহ মোট খরচ পড়ছে সাড়ে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে ওই ধান চাষ করে ফলন পাওয়া যাচ্ছে ২০ মণ থেকে ২৪ মণ। কিন্তু বাজারে বোরো ২৮ জাতের ধানের মূল্য এখন সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। মৌসুম সময়ে উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে দরিদ্র কৃষকের পক্ষে ধান মজুদ করে রাখা কোনক্রমেই সম্ভব হয় না। ফলে তারা এই বাজার দরেই বাধ্য হয়ে ধান বিক্রি করছে। এতে এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে সাড়ে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। যা দিয়ে সে উৎপাদন ব্যয় মেটাতে বাধ্য হচ্ছে। উদ্বৃত্ত থাকছে না কৃষকের ঘরে কোন ধান ।

সময়নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *