গৌরবের ২০ বছরে রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির পদার্পণ

লাবু হক, রাবিঃ

ক্যাম্পাসের মেইন গেইট থেকে সামনে হাঁটতেই জোহা চত্বর। জোহা চত্বর পেরিয়ে হাতের ডানে তাঁকাতেই দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। শহিদ মিনারের পেছনে অবস্থিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার মাঝেই ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটির অবস্থান। এ ভবনের কক্ষগুলোতে অবস্থান করছে কয়েকটি সাংস্কৃতিক ও একটি সাংবাদিক সংগঠন। সাংবাদিক সংগঠনটি হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু)।

আজ ২৪ অক্টোবর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি’র ১৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর পূর্ণ করে ২০ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী এই সাংবাদিক সংগঠনটি। ২০০১ সালের এদিন ‘চিত্ত মোদের সত্যে ভরা’ স্লোগানে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীলতার চেতনাকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত হয় এই সংগঠনটি।

শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরসহ বিভিন্ন চত্বরের গাছতলায় বসে সংবাদ লিখলেও পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৪ জুন সংগঠনটির জন্য রাকসু ভবনের ২০১ নম্বর কক্ষটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ২৭ তারিখ থেকে কক্ষটি ব্যবহার করা শুরু করেন সংগঠনটির তৎকালীন কর্মীরা।

শুরু থেকে নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে বীরের বেশে চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের কর্মযুদ্ধ। সংগঠনটি থেকে ইতিমধ্যেই তৈরী হয়েছেন খ্যাতনামা অনেক সাংবাদিক। যারা এখনও সংবাদিকতার অঙ্গনে যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিদিনের সংবাদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরীতে কাজ করছেন সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান কর্মীরা।

জানতে চাইলে সংগঠনের ১০-১১ মেয়াদের সভাপতি এবং যমুনা টিভির বগুড়া ব্যুরো প্রধান মেহেরুল সুজন বলেন, মূলত ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা যখন বস্তুনিষ্ঠতা ভুলে গিয়ে প্রশাসনের সাফাই গাইতে শুরু করলো ঠিক তখনই বস্তুনিষ্ঠতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষেই ২০০১ সালে কয়েকজন বড় ভাইয়ের হাত ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এভাবে চলতে চলতে ২০১০ সালে আমরা লক্ষ করি ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ প্রশাসনের অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিখতে পারছে না, সমালোচনা করতে পারছে না, মোটাদাগে প্রশাসনকে অন্ধ সমর্থন করে যাচ্ছে। যেহেতু ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমাদের শেখার জায়গা, এখানে যদি সুষ্ঠু ধারার সাংবাদিকতা বা বস্তুনিষ্ঠতা চর্চা না করতে পারি তাহলে সেটা আমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাড়াবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতাকে পবিত্র রাখার জন্যই মূলত রিপোর্টার্স ইউনিটিকে পুনঃগঠন করতে বাধ্য হয়েছিলাম।

সংগঠনের কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় অনীহা দেখা যায়। তাদের ভুল ধারণাগুলো দূর করে তাদের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করাতে হবে। এবং সংগঠন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেকে বুকে ধারণ করে কোন ধরণের স্বার্থ ও বাধাকে উপেক্ষা করে সত্য সংবাদ তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষার আহ্বান জানান।

করোনা সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অন্যান্য বারের মতো জাঁকজমকপূর্ণ হবে না বলে জানান সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি ও দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরাফাত রহমান। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে থেকে এই দিনটি উদযাপন করতে পারলে অনেক ভালো লাগতো সবার। তবে করোনা মহামারীর ফলে এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এই বিশেষ দিনটি অনলাইনে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দিনটি উপলক্ষে অনলাইনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

এবারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন না হওয়াতে দিনটি নিরানন্দে কেটে যাবে বলে জানান সংগঠনটির সদস্য রায়া রামিসা রীতি। তিনি বলেন, অন্যান্য সময়ে এই দিনটিকে ঘিরে থাকতো নানা আয়োজন। আগে থেকেই আলপনা ও রঙ-বেরঙের কাগজ কেটে ফুল বানিয়ে সাজানো হতো কক্ষটি। সকালে শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, দুপুরে পিকনিক, বিকেলে ঘুরোঘুরি আর রাতে সাবেক-বর্তমান মিলে আড্ডা দিতেই কেটে যেতো পুরোটা দিন। এবারে অনেক মিস করবো প্রিয় সংগঠনের জন্ম দিবসটি।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *