গ্রাম বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্যময় কুপি বাতি বিলুপ্তি

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা

নড়াইলে আধুনিক বৈদ্যুতিক যুগে বর্তমানে আবহমান গ্রাম বাংলার এক সময়ের কুপি বাতি এখন শুধুই স্মৃতি। মাত্র ৩/৪ বছর আগেও গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে অতি প্রয়োজনীয় কুপি বাতি আজ বিলুপ্তির পথে। সন্ধা হলেই নড়াইলে কুপির মিটমিটে আলোও চেনা যেত হাট বাজারসহ গ্রামের সেই চির চেনা রুপ। শুধু তাই নয় সেকালের রাজ প্রাসাদেও ছিল বাহারী রকমের কুপি বাতি। নড়াইলে এখন তা শুধুই স্মৃতি। হয়তো এমনও সময় আসছে যখন ছেলে মেয়েদের কুপি বাতি চেনানের জন্য যাদু ঘরে নিয়ে যেতে হতে পারে। আগের দিনের মানুষের ছিল নানা ধরনের বাহারি কুপি আর সেই কুপিই ছিল মানুষের অন্ধকার নিবারনের একমাত্র অবলম্বন।

কিন্তু কালের আবর্তে নড়াইলে আধুনিক বৈদ্যুতিক যুগে বর্তমানে সেই কুপি বাতির স্থান দখল করে নিয়েছে বাহারী বৈদ্যতিক বাল্ব, চার্জার লাইট, টর্চ লাইট, মোবাইল লাইটসহ আরো অনেক কিছু। ফলে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় এই নিদর্শনটি।

নড়াইলে একটা সময় ছিল যখন গ্রাম বাংলার আপামর জনসাধারনের অন্ধকারে আলোকবর্তীকার কাজ করত কুপি নড়াইলের পৌর সভায় আলোর জন্য ব্যবহার হতো বাহারি ডিজাইন ও রংয়ের এই কুপি বাতি। নড়াইলে তৎকালিন সময়ে মানুষ মাটি, বাঁশ, লোহা, কাঁচ আবার কোনটি তৈরী করতো পিতল দিয়ে। সামর্থ অনুযায়ী লোকজন কুপি কিনে সেগুলো ব্যবহার করত। নড়াইলের বাজারে সাধারনত বিভিন্ন ধরনের কুপি পাওয়া যেত। কুপি হতে বেশি আলো পাওয়ার জন্য ছোট কুপি গুলোর জন্য কাঠ, মাটি বা কাঁচের তৈরি গজা বা স্ট্যান্ড ব্যবহার করা হতো। এই গজা বা স্ট্যান্ড গুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের।

কিন্তু নড়াইলে বর্তমানে গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতের ছোঁয়ায় সেই কুপি বাতি হারিয়ে গেছে। বিদ্যুত না থাকলেও অবশিষ্ট সময় মানুষ ব্যবহার করছে বিভিন্ন ধরনের চার্জার লাইট ও মোমবাতি। নড়াইল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ খান, নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায়কে জানান, এক সময় নড়াইলের গ্রামের অধিকাংশ লোকের কাছে কুপির কদর হারিয়ে গেলেও এখনও অনেক লোক আছেন যারা আঁকড়ে ধরে আছেন কুপির সেই স্মৃতি। আজও গ্রামের সৌখিন গৃহস্ত বাড়িতে আবার অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ সযতে কুপি বাতি সংরক্ষন করে রেখেছেন নিদর্শন হিসেবে। 

সময়নিউজ২৪.কম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *