চাঁদপুরে মাসব্যাপী উদ্বোধন হলো গৌরবের ২৮তম মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা-২০১৯

চাঁদপুর প্রতিনিধি :

 

উদ্বোধন করা হলো গৌরবের ২৮তম মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা।চাঁদপুরের কৃতী সন্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি চাঁদপুরে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর শহরে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, অনেকে নিরপেক্ষতার কথা বলেন। তারা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে পারেন না। তারা এই মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতাকামী মানুষগুলোর সাথে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের একসাথ করে ফেলেন। তাই সেসব তথাকথিত নিরপেক্ষতাকে আমাদের ছুড়ে ফেলতে হবে। তিনি বেশ দৃঢ়তার সাথে বলেন, দেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার শুধুমাত্র স্বাধীনতার পক্ষের মানুষের। ওইসব তথাকথিত নিরপেক্ষদের বা স্বাধীনতাবিরোধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের দেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো অধিকার নেই।

তিনি আরো বলেন, আজকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বে খাদ্য, বস্ত্রসহ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর দিক থেকে স্বনির্ভরশীল জাতি। দীপু মনি বলেন, আপনাদের রায়ে আপনাদের মেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়ে আজ শিক্ষামন্ত্রী। অচিরেই বিশ্বে শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ হবে রোল মডেল। যার গৌরবের অংশীদার চাঁদপুরবাসী।

 

তিনি বলেন, সেদিন যাঁরা জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো তারা ভাবেননি আবার ফিরে আসবেন। আজ জাতির সেই বীর সন্তানরা আমাদের সামনে বসে আছেন। তাঁদের নিয়ে আমরা গর্ব করি।

ডা. দীপু মনি এমপি নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছরে আমরা ধীরে ধীরে মুক্তিযোদ্ধাদের হারিয়ে ফেলছি। আসুন, আমাদের সামনে আজ যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা আছেন তাঁদের সামনে শপথ করি তাদের রেখে যাওয়া এদেশকে আমরা বিশ্বে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও সকল ক্ষেত্রে স্বনির্ভরশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

 

তিনি বিজয়মেলার আয়োজক কমিটির উদ্দেশ্যে বলেন, এ মাঠ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত, আবার এ মাঠটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান যেমনি আবেগের, তেমনি বাস্তবতার বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। তাই আগামীতে এ মেলা আরো বড় পরিসরে অন্য কোথাও স্থানান্তরের বিষয়টি ভাবার আহ্বান জানান তিনি।

 

বিজয়মেলার উপদেষ্টা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলালের সভাপ্রধানে ও মেলা উদ্যাপন কমিটির মহাসচিব হারুন আল রশীদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন ‘৬০-এর দশকের ছাত্রনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মুনির আহমেদ।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেলার চেয়ারম্যান অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরণ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) বার এবং পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ।

 

উদ্বোধকের বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুনির আহমেদ বলেন, আমি দীর্ঘ ৪৮ বছরে কোনোদিন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আমার নাম উত্তোলনের জন্যে যাইনি। আমি এ বিজয়মেলায়ও কখনো আসিনি। আমাকে পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল উপর্যুপরি অনুরোধ করেছেন। এরপর আমার সন্তানরা আমাকে বলে বাবা কেনো যাবে না? তুমি না গেলে তুমি যে একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমরা যে জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানের ছেলে সে পরিচয় কীভাবে দেবো। তাই তাদের সে কথাগুলো ভেবে আমি এখানে এসেছি। আজ এখানে এসে বুঝলাম আরো আগে আমার এখানে আসা দরকার ছিলো। আমার ভুল হয়েছে। আজ এখানে এসে দীর্ঘ ৪৮ বছর পর রণাঙ্গনের আমার কিছু সহযোদ্ধাকে দেখতে পাচ্ছি। এখানে না আসলে তাদের দেখতে পেতাম না।

 

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা ও বিজয়মেলার পতাকা অঙ্গীকারের সামনে উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর মহান স্বাধীনতা-সংগ্রামের সকল শহীদের স্মরণে নির্মিত অঙ্গীকার পাদদেশে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। তারপর মেলার মূল ফটকে ফুলের মালা কাটা হয়। এরপর অতিথিবৃন্দ মঞ্চে আসন গ্রহণ করার পূর্বে স্বাধীনতা-সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা দেয়া সংগীত ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ সংগীত শতকণ্ঠে পরিবেশন করা হয়। পরে অতিথিবৃন্দ মঞ্চে আসন গ্রহণ করার পর প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি ও মেলার উদ্বোধক মুনির আহমেদকে মেলার আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে সকল অতিথিকেও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

 

 

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *