চান্দিনায় নির্দেশনা অমান্য করে কিস্তি আদায় করছে অধিকাংশ এনজিও

আকিবুল ইসলাম হারেছঃ
নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করে কুমিল্লা চান্দিনার এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে আগামী জুন পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের বিপরীতে কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলেছে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিও। কিন্তু সে নির্দেশনা অমান্য করে চান্দিনায় কিস্তি আদায় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এনজিওগুলো।

এদিকে কাজ না থাকায় কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।একদিকে কর্মহীন অন্যদিকে এনজিওগুলোর কিস্তি পরিশোধের তাগাদায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে,চান্দিনায় আশা, গণউন্নয়ন কেন্দ্র, জাকস, ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংকসহ ১৫টির মতো এনজিও ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের অধিকাংশ গ্রাহকই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী।বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর বাংলাদেশে এর বিস্তার ঠেকাতে দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

এ পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় সব জেলায়ই ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়।

একই সঙ্গে আগামী জুন পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের বিপরীতে কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিও। কিন্তু এসব নির্দেশনা না মেনে চান্দিনায় গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তি আদায় করছেন এনজিও কর্মীর।

মহিচাইল বাজারের খাদেমুল ইসলাম ও জোরপুকুরিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা বাজারে ছোটখাটো দোকান করে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করতাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সরকারিভাবে গতকাল থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১২ দিন সব দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। এজন্য সকাল থেকেই আমাদের দোকান বন্ধ রয়েছে। দোকানের বাইরে আমাদের কোনো আয়ও নেই।

এ অবস্থায় এনজিওগুলোর মাঠকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকব, তা-ই ভেবে পাচ্ছি না; তার ওপর কিস্তির চাপ।

গ্রামীণ ব্যাংকের মহিচাইল শাখার মাঠকর্মী সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, আমরা বকেয়া আদায়ের জন্য গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। মূলত যেসব গ্রাহকের কিস্তি পরিশোধের সময় এরই মধ্যে অতিবাহিত হয়ে গেছে, তাদের কাছে আমরা গিয়েছিলাম।

তারা বলেন, কিস্তি আদায় বন্ধের কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। অফিস থেকেই কিস্তি আদায়ের জন্য বলা হয়েছিল। এজন্য আমরা গ্রাহকের বাড়িতে গিয়েছিলাম।

এসব বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশ বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বিকাল পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত ৩৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন চারজন। এ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনগণকে বাড়িতে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।এতে কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীদের উপার্জন ব্যাহত হচ্ছে, তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধের জন্য এনজিওগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এরপরও এনজিও কর্মীরা গ্রাহকদের বাড়িতে কিস্তি আদায়ের জন্য গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এ সময় তারা (এনজিও) জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিস্তি আদায় বন্ধের বিষয়ে তাদের কিছু জানায়নি। এজন্য তারা কিস্তি আদায় অব্যাহত রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, আশা করছি নির্দেশনা অমান্য করে তারা আর কিস্তি আদায় কার্যক্রম চালাবেন না। তার পরও কেউ যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সময়নিউজ২৪.কম/বি এম এম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *