জম্মু-কাশ্মীরে বিষয়ে যা বলছে সৌদি আরব

অনলাইন ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার বেশ সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দিয়েছে। বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পাকিস্তান ও ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতীয় সংবিধান থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে সৌদি। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা অনুযায়ী উপত্যকার শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান ওই কর্মকর্তা।


কাশ্মীর নিয়ে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান গুতেরেসের
কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। গত বৃহস্পতিবার তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতেও দেশদুটিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। গুতেরেস তার আহ্বানে সিমলা চুক্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে। ওই চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই কাশ্মীরবিরোধ মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে।


“মহাসচিব জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি উদ্বেগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনে অনুরোধ করেছেন। তিনি ১৯৭২ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ক চুক্তির কথা স্মরণ করেছেন, যে চুক্তিটি সিমলা চুক্তি নামে পরিচিত; সেখানে জাতিসংঘের সনদ অনুসারে শান্তিপূর্ণ উপায়ে জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত মর্যাদা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে,” বলেছেন গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক।
কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুতেরেস জাতিসংঘ কিংবা তার নিজের নাম প্রস্তাব করেননি।


কাশ্মীরে ভারত সরকার কর্তৃক বিপুল সেনা-সমাবেশ ঘটানোর পাশাপাশি বিধিনিষেধ আরোপের কারণে সেখানকার মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এদিকে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত সেনা। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।


ভারতের এই পদক্ষেপকে অবৈধ উল্লেখ করে পাকিস্তান জানিয়েছে বিষয়টি তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করবে। জাতিসংঘের মহাসচিব জানান, এমন কোনো পদক্ষেপ কারও নেয়া ঠিক হবে না যেখানে কাশ্মীর পরিস্থিতির অবনতি হয়। গত বৃহস্পতিবার তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, ভারত-সীমান্তবর্তী কাশ্মীরের ওপর চলা বিধিনিষেধ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গুতেরেস। ভারত সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে সেখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।


দুজারিক নির্দিষ্ট করে বলেন, ১৯৭২ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শিমলা চুক্তি হয়েছিলো। সেখানে জাতিসংঘের আইন মেনে জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে কথা বলা হয়েছিলো। জাতিসংঘ মহাসচিব কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব না দিয়ে সিমলা চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলেছেন।  তিনি বলেন, এই অঞ্চলের ব্যাপারে জাতিসংঘ তার সনদ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।


এর আগে বুধবার টুইটারে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আগের উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র। বর্তমান অচলাবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই বার্তায় বলা হয় তা কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে দেবে। জাতিসংঘের এই মুখপাত্র বলেন, এর মাধ্যমে জম্মু কাশ্মীরের ভবিষ্যত মর্যাদার প্রশ্নে কোনও গণতান্ত্রিক বিতর্কে অংশ নেয়া থেকে সেখানকার জনগণকে বিরত রাখা হবে। ভারতের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অংশ তাই এই ইস্যুটি সম্পূর্ণই তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
দুজারিক জানান, মহাসচিব ও জাতিসংঘ সচিবালয় কাশ্মীর উপত্যকার পরিস্থিতির ওপর ‘কড়া নজর’ রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *