জীবনের ঝুকি নিয়ে চলছে ২৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান

সিরাজুল ইসলাম, গলাচিপা (পটুয়াখালী )
ভবনের ছাদের কোন অংশে পলেস্তারা নেই।কোন অংশে আবার পিলারের ভেতরের লোহার রড দেখা যাচ্ছে।আবার কোথাও বড় বড় ফাটল। এ চিত্র গলাচিপা উপজেলার ছয় আনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৯৯টি। এর মধ্যে ২৮টি বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ১২টি বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয় প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি বিদ্যালয় হলোঃ ছয় আনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলাচিপা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোলখালী হালিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর গোলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোট গাবুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড় গাবুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প: চর কাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য চর বিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালাই কিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পানপট্টি কাজিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে শ্রেনী কক্ষ সংকটের কারনে পাশে টিনের ছাউনি দিয়ে পাঠদান চলে কোমল মতী ছাত্র-ছাত্রীদের।
আটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা ইসরাত জাহান বলেন,শ্রেনীকক্ষের সংকট ও একটু বৃষ্টি হলে প্রতি শ্রেনীর কক্ষের ভিতরে পানি পরে।এই বিদ্যালয়ে ২১৫ জন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সব সময় চিন্তার মধ্যে থাকি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এসব বিদ্যালয় ভবনের ছাদের পলেস্তার খসে রড বেরিয়ে গেছে। দরজা-জানালা অনেক আগেই খুলে পড়ে গেছে, কোথাও কোথাও ছাদের বিমেও দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। বর্ষায় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। যেকোনো মুহূর্তে ভবন ধসে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এদিকে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত উদয়ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের জন্য নেই কোনো ঘর। বর্তমানে পাঠদান চলছে ধার করা উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কক্ষ গুলোতে। টিনশেড কক্ষগুলোর ছাউনি এতটাই নিচে যে তীব্র রোদে পাঠদান একেবারই অসম্ভব। ঐ প্রতিষ্ঠানের ৩য় শ্রেণির ছাত্র মোঃ মুসা ও ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ও অরন্য জানায়, অত্যধিক গরমে ক্লাশ করা খুব কষ্টদায়ক। এছাড়া প্রথম শ্রেণির ছাত্র ওয়ালিদের বাবা কবির হোসেন জানান, ‘ছাউনি খুব নিচে হওয়ায় বাচ্চাদের প্রচন্ড গরম পোহাতে হচ্ছে। নেই কোনো ফ্যানের ব্যবস্থাও। এভাবে কয়েকদিন ক্লাশ চালানো হলে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই নিজ উদ্দোগ্যে বাচ্চার জন্য ফ্যানের ব্যবস্থা করবে বলে জানান তিনি।’
রতনদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ বারী খান জানান, তার বিদ্যালয়ের আধা পাকা ভবনটি অধিক ঝুকিপূর্ণ। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য ১০টি কক্ষ প্রয়োজন হলেও আছে মাত্র ৬টি। এছাড়া ১শিফটের বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় আড়াইশ’র কাছাকাছি। এতে কক্ষ সংকটে বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
ছয়আনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, প্রায় সাত বছর আগেই বিদ্যালয়টি মৌখিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখনো ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। বৃষ্টি এলে অলিখিত ছুটি হয়ে যায় বিদ্যালয়।
পানপট্টি কাজিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা ঝুকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে ভয় পায়, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে আমাদের পাঠদান করতে হচ্ছে।
প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম। এতে আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাই বিদ্যালয়গুলোতে ছেলে-মেয়েদের পাঠাতে সাহস হারাচ্ছেন অভিভাবকরা। এমনকি ঘর বিহীন বিদ্যালয়ও রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে।

সময়নিউজ২৪.কম/ এ এস আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *