জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ

মোসলেম উদ্দিন 
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মহীপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় গৃহবধু আরিফাকে (১৯) শুক্রবারে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বুক ও শরীরের নিচের অংশ পুড়ে গেছে।

ঘটনার পর আরিফার স্বামী জনি মিয়া (২৩)সহ পরিবারের লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। জানা গেছে, এক বছর পূর্বে উপজেলার মহীপুর গ্রামে ফেরদৌসের ছেলে জনি মিয়ার (২৩) সাথে পৌর এলাকার পোস্ট অফিস পাড়ার দরিদ্র ভ্যান চালক কামাল হোসেনের মেয়ে আরিফার বিয়ে হয়। যৌতুক হিসাবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকে আরো যৌতুকের দাবি করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন এই নিয়ে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো।

আরিফার বাবা কামাল হোসেন বলেন, মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিয়ের সময় জামাই জনি মিয়াকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়। এর পরও যৌতুকের জন্য মেয়েকে চাপ দিত। এ নিয়ে পরিবারিক কলহের জের ধরে জনি মিয়া আরিফার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মেয়ের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ২ ঘন্টা পরও শ্বশুর বাড়ির লোকজন চিকিৎসার উদ্যোগ না নিয়ে বাড়িতেই ফেলে রাখেন। জামাই জনি মিয়ার চাচি মুঠোফোনে আমাকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিবের সহযোগিতাই বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আরিফার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা কখনো বলছে রাত ১০ টার দিকে ভাত রান্না করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। আবার কখনও বলছে আরিফা শুয়ে থেকে নিজেই শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

সরেজমিনে মহিপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ঘরে তালা ঝুলিয়ে জনি মিয়াসহ পরিবারের লোকজন গা ঢাকা দিয়েছে। এলাকাবাসী জানায় কালার টিভি ও ফ্যানের দাবিতে জনি মিয়া তার স্ত্রীকে প্রায় মারধর করতো। অগ্নিদগ্ধের ঘটনার পর আরিফার আত্ম চিৎকারে এলাকার লোকজন বাড়িতে গেলে কাউকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ বজলার রহমান জানান, বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *