“টাংকির নিচে পলায়ন”—সামি আহমেদ

তখন সবে মাত্র ফার্স্ট প্রফের রেজাল্ট দিয়েছে৷ পাশ করে যাওয়ায় আমার মেডিকেল ৩য় বর্ষের দিন গুলো ভালোই  কাটছিল।একদিন রাতে ভাল ঘুম না হওয়ায় পরদিন সকালে সিদ্ধান্ত নিলাম, ৮টার ক্লাস শেষ করে রুমে ঘুমাব।তখন সবে মাত্র সার্জারি ওয়ার্ড শেষ হয়েছে। পরের জন্য ৪দিন বিরতি। তাই ভাবলাম, ৯টা থেকে ১১টা ভালই ঘুম হবে।রুমে এসে ঘুমাতে যাব, এমন সময় সাগর আমার রুমে এসে বলল, “তাড়াতাড়ি ছাদে পালাই,  স্যাররা হোস্টল রেইডে  আসতেছে”।
“ওয়ার্ড টাইমে হলে থাকা মানা, প্রিন্সিপাল স্যারের অফিসে নিশ্চিত ডাক পড়া।” যেই ভাবা সেই কাজ। সাগর আর সোহানের সাথে ছাদে উঠা পড়লাম। একেবারে পানির টাংকির নিচে গিয়ে লুকালাম। এর মধ্যে রাসেল আর বায়জিদ দৌড়াতে দৌড়াতে ছাদে উঠে এসে হাপাতে হাপাতে বলল ” তারেক খাটের তলায়, মিলন সানসেটে, মিশকাত বাথরুমে আর সাজিদ ডাইনিংয়ে লুঙি পড়া অবস্থায় ধরা পড়ছে।” পাশের হোস্টেলে ছাদ থেকেও কয়েকজন সিনিয়র ধরা পড়ছে।এটা শুনে আমাদের প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগ। কোনমত লুঙি পড়ে টাংকির নিচে আমরা পাচজন লুকিয়ে রইলাম।
অবশেষে ৪৫মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর স্যারেরা হোস্টল ত্যাগ করলেন।এরপর আমাদের তিনজনের বিজয়ের আনন্দ আর কে দেখে। বিজয়ের বেশে ছাদ থেকে নেমে আবার ১১টার ক্লাসে চলে গেলাম।  এই অনুভূতি কখনোই ভুলার নয়।
লেখক: শিক্ষার্থী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ।
সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *