টাঙ্গাইলে শুশুর পুত্রবধূর অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় ছেলেকে হত্যা

 managed wordpress hosting

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ঃ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে পিতার সঙ্গে  অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় নিজের ছেলেকে মেরে ফেলায় লোমহর্ষক ঘঠনা ঘঠেছে।

উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের মূলবাড়ি গ্রামের আবু জাফরের ছেলে  হাবিবুল্লাহ (২৫) আট মাস আগে কালিহাতী উপজেলার বেলটিয়া গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে ছবুরাকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শ্বশুর আবু জাফরের সঙ্গে পুত্রবধূ ছবুরার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পিতা আবু জাফর নানা কৌশলে নব বিবাহিত ছেলে হাবিবুল্লাকে রাতে বাড়ির পাশের বাজারে দোকানে রাত্রিযাপনের জন্য পাঠিয়ে দিত। বিষয়টি হাবিবুল্লাহর  নিকট সন্দেহ হয়।

এ অবস্থায় একরাতে পিতার সঙ্গে স্ত্রীর মেলামেশার দৃশ্য দেখে ফেলেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার মনমালিন্য হয়। এরপরও শ্বশুর ও পুত্রবধূর অনৈতিক সম্পর্ক চলতেই থাকে। এ নিয়ে নিরব দুঃখ কষ্ট নিয়ে জীবন কাটায় হাবিবুল্লাহ।

পুত্রবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ধরে রাখতে বাবা আবু জাফর নিজ পুত্র হাবিবুল্লাহকেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী গেল ২৬শে ডিসেম্বর রাতে ভাড়াটে খুনিদের কাছে হাবিবুল্লাহকে তুলে দেয়। কিন্তু তাদের পরিচয় বলতে পারেনি ছবুরা। সে রাত থেকেই নিখোঁজ হয় হাবিবুল্লাহ। নিখোঁজের চারদিন পর গেল ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের বগা গ্রামের আব্দুল লতিফের বাড়ির পাশে বাশঝাঁড়ে শরীরে জখম ও এক চোখ উপড়ে ফেলা অবস্থায় হাবিবুল্লাহর লাশ পাওয়া যায়।

পরে নিহতের বাবা আবু জাফর অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ নিহতের স্ত্রী ছাফুরাকে আটক করলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করে। পরে সোমবার আদালতে তাকে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শ্বশুরের সঙ্গে তার অবৈধ মেলামেশা দেখে ফেলায় স্বামী হাবিবুল্লাহকে হত্যা করা হয় বলে জানান ছফুরা। পরে পুলিশ ছফুরার দেয়া তথ্যমতে গেল ৬  জানুয়ারি হাবিবুল্লাহর বাবা আবু জাফর স্বপনকে  গ্রেপ্তার করেন।

ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদুল আলম জানান, শ্বশুর ও পুত্রবধূর অনৈতিক সম্পর্কের সূত্র ধরেই হাবিবুল্লাহ খুনের ঘটনা ঘটেছে। হাবিবুল্লাহর স্ত্রী ছবুরা এ ব্যাপারে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। শ্বশুর আবু জাফরকে আটক করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
managed wordpress hosting

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *