টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলন

শামছউদ্দিন সায়েম,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর আত্মীয় স্বজন কর্তৃক হাসপাতাল ভাংচুর, স্টাফদের মারধর ও হত্যার হুমকি সহ নানাবিধ অনাকাঙ্খিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.নারায়ন চন্দ্র সাহা।

তিনি বলেন, গতবৃহস্পতিবার বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার মৃত তালু হোসেন আকন্দের ছেলে মুকুল আকন্দ (৬০) হৃদরোগ, মস্তিস্ক ও ফুসফুসের নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ তাৎক্ষণিক মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রোগীকে জরুরী বিভাগ থেকে মেডিসিন ওয়ার্ডে নেয়ার পর রোগীর অবস্থা দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন এবং রোগীর অবস্থা সম্পর্কে রোগীর স্বজনদেরকে বুঝিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন এবং রোগীর স্বজনদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝিয়ে দেন।

রোগীর স্বজনরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপরগতা প্রকাশ করেন। তারা রোগীর অবস্থা আশংকাজনক জেনেও রোগীকে অত্র হাসপাতালে চিকিৎসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ভর্তির প্রায় ৪ঘন্টা আনুমানিক রাত ৮টার দিকে রোগীর স্বজনরা রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে সম্মত হন। রোগীকে হাসপাতাল থেকে নিচে নামানোর সময় রোগীর অবস্থার অবনতি হলে রোগীকে পুনরায় জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে মৃত ঘোষনা করলে রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্টাফদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে রোগীর সাথে থাকা ছোট ভাই হুমায়ন রশীদ আকন্দ সোনার নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালের ওয়ার্ডে গিয়ে ভাংচুর চালায় এবং কর্তব্যরত নার্সদের উপর হামলা করেন। এবং কর্তব্যরত ইন্টার্নীদেরকে হত্যার হুমকি প্রদান করেন।

তিনি আরো বলেন, এঘটনায় হাসপাতালে চাকুরীরত সকল স্টাফ তথা চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিতেছি। কর্তব্যরত অবস্থায় আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করে উপরোক্ত অনাকাঙ্খিত ঘটনায় দোষী নিহতের ছোট ভাই হুমায়ন রশিদ আকন্দ সোনা ও গং
সহ দোষী সকলকে আইনের আওতায় এনে তাদের উপযুক্ত বিচার দাবী করছি।

উল্লেখ্য,নিহত মুকুল আকন্দ হার্ট এ্যাটাক, স্ট্রোকসহ শরীরের ডান পাশ অবশ ও ফুসফুসে সংক্রমনসহ মারাত্বক ধরনের রোগে দীর্ঘদিন যাবত ভুগিতেছিলেন। এসময় টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা.মো.নূরুল আমীন মিঞা, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) জেলা শাখার সভাপতি ডা.সৈয়দ ইবনে সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক
ডা.মো.শহীদুল্লাহ কায়সার, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) মো.রাশেদুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত ডা.শফিকুল ইসলাম সজীব জানান, এঘটনায় তাকে নিয়ে কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা যে সংবাদ প্রকাশ করছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, রোগী মৃত্যুও সময় তিনি হাসপাতালে নয় বাসায় ছিলেন। পরবর্তীতে এ অনাকাঙ্খিত ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন।

সময়নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *