থমকে দাঁড়ায় ম্মৃতি

আব্দুল কাদির,হোসেনপুর :

জমিদারি প্রথা উঠে গেলেও গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িটি প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন হিসাবে এখনো পুরাতন জরাজীর্ণ স্থাপনার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে । জমিদার বাড়ির ভেতরের অট্টালিকা চমৎকার নৈপুণ্যে কারুকাজে ভরা থাকলেও বাড়ির সামনে রয়েছে সু-বিশাল পুকুর ও বিস্তীর্ন মাঠ । যা দেখে পথিকরা এখনো থমকে দাঁড়ায় । জমিদার বাড়ির নহবতখানা, দরবারগৃহ ও মন্দির বিশেষ স্থাপত্যের নিদর্শন আজো কালের সাক্ষী । বলছি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নে অবস্থিত গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির কথা, যা দেখতে প্রতিনিয়ত দূর-দূরান্ত থেকে দেশি বিদেশি পর্যটক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী,সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ ভিড় করে । জমিদার বাড়িটি সংস্কার করে দৃষ্টি নন্দন করতে পারলে এটিও হতে পারে পর্যটকদের দর্শনীয় স্থানের একটি বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন ।

সূত্রমতে,খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর দিকে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বংশের পূর্ব পুরুষেরা রাঢ়ীয় ব্রাহ্মণ গোত্রের জনৈক শাস্ত্রীয় পন্ডিত ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে এসে এদেশে বসতি স্থাপন করেন । তৎকালীন সময় গৌড়ীয় রীতি অনুযায়ী বাড়ির পতিত ভিটায় পূজা অর্চনার জন্য একটি শিব মন্দির তৈরি করেন ।  শিব মন্দিরটিই এখনো এই বংশের প্রথম নির্মিত মন্দির বলে এখনো দন্ডায়মান ।  ব্রাহ্মণ্য ধ্যান- ধারণা, পূজা-পার্বন,আচার অনুষ্ঠানে জমিদার পরিবার এ অঞ্চলে এক সময় বিশেষ প্রভাব প্রতিপত্তি অর্জন করেন । অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে দীননাথ চক্রবর্তী হোসেনশাহী পরগণার এক ত্রিতিয়াংশ ক্রয় করে প্রথমে এ অঞ্চলে জমিদারি প্রথার সূচনা করেন । এরই ধারাবাহিকতায় বাবু অতুলচন্দ্র চক্রবর্তী পত্তনি সূত্রে আঠার বাড়ির জমিদার জ্ঞানদা সুন্দরী চৌধুরাণীর কাছ থেকে আঠারো দুই আনা অংশ গাঙ্গাটিয়া জমিদারির সাথে যুক্ত করেন । জমিদার অতুল বাবুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইংরেজ আমলে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহ্যিত ব্যাপক প্রসার লাভ করে । তাদের পরবর্তী বংশধর খ্যাতিমান সাহিত্যিক, গবেষক ও হাইকোর্টের জজ ধারনাথ চক্রবর্তী এ জমিদার পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমৃত্যু নিরলস চেষ্টা করেন । ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পরও অদ্যবধ্যি এ বাড়িতে জমিদারের বংশধর মানবেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী এখনো বসবাস করছেন । তাই পর্যটকরা জমিদারের ছেলের সাথে করে কৌতুহল মেটানোর পাশাপাশি প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন দৃষ্টিনদন গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িটি দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ।

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *