দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

পরিচিতিঃ

বাঙ্গালি জাতির জনক স্বাধীন বাংলার মহান স্থাপতি অবিসাংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গি পাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার যিনি আদালতের হিসাব সংরক্ষণ করেছিলেন এবং মা‍‌’র নাম সায়েরা খাতুন। চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান। তার বড় বোনের নাম ফাতেমা বেগম, মেজ বোন আছিয়া বেগম, সেজো বোন হেলেন ও ছোট বোন লাইলী; তার ছোট ভাইয়ের নাম শেখ আবু নাসের। শৈশবজীবনে তিনি ছিলেন উদার মনের মানুষ তিনি তার স্কুল জীবনে সহপাঠিদের সাথে
সুন্দর ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের সহযোগিতা করতেন।

দারিদ্র্য বিমোচনে বঙ্গবন্ধুর অবদানঃ

বাংলাদেশ সৃষ্টির পূর্বেই এদেশের জনগন নিম্ন দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করত। ১৯৭৪ সালে ভারত বিভক্তির পরেও পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্রর সৃষ্টি হলে এদেশের (পূর্ব পাকিস্তানের) জনগন পশ্চিম পাকিস্তানের জনগনের চেয়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে অনেক পিছিয়ে ছিল। যার প্রেক্ষাপটে রক্তক্ষয়ী নয় মাস যুদ্ধের পরে ১৯৭১ সালে ২৬শে মার্চ বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের অবহেলিত জনগনকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন।

তিনি তার কঠোর পরিশ্রম ও বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরনে এশিয়া মহাদেশের সাথে কাজ শুরু করন। জাতীসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফও) কতৃক ১৯৭২ সালে এশিয়া অঞ্চলের কতিপয় দেশের ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমিহীনদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের জীবন মান উন্নয়নে সুপারিশ মালা প্রনয়নের উদ্দেশ্যে “ Asian Survey on Agraian Reforms and Rural Development (ASARRD)”শীর্ষক একটি স্টাডি প্রজেক্ট গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ সহ আটটি দেশে পর্যবেক্ষণ শেষে ১৯৭৪ সালে সংশ্লিষ্ট দেশ সমূহের সরকারের নিকট একটি প্রতিবেদন পেশ করা হয়। প্রতিবেদনে গ্রাম পর্যায়ে দারিদ্র্যদের নিয়ে একটি গ্রহণকারী ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ‘প্রদানকারী ব্যবস্থা’ কে ঢেলে সাজানো হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে উল্লেখিত সুপারিশ অনুসারে ১৯৭৫-৭৬ সালের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় “ Action Research on Small Farmers and Landless labourers Development Project (SFDP)” শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড), কুমিল্লা; বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইউ), ময়মনসিংহ এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া-এর মাধ্যমে কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও বগুড়া জেলার সদর উপজেলাসমূহে বাস্তবায়ন শুরু হয়। এ প্রকল্পটির মাধ্যমেই বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সরকারি খাতে ‘জামানত বিহীন ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির’র সূচনা হয়।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতায় পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম আওয়ামীলীগ সারকারের আমলে ১৯৯৯-২০০৪ পর্যায়ের মেয়াদ শেষে একটি ফাউন্ডেশনে রুপান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ১৭৪টি উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সারা দেশেব্যাপি কার্যক্রম পরিচালনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ধরনের আরও অনেক পদক্ষেপ বঙ্গবন্ধু গ্রহণ করেছিলেন। যার মধ্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমাবায় বিভাগ,পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) বগুড়া, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের গ্রাম উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের গ্রাম পর্যায়ে হত দারিদ্র্য মানুষের আর্থিক উন্নয়ন ও সামাজিক মুল্যবোধ সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর গ্রহণ কৃত পদক্ষেপ গুলোর ভুমিকা অপরিসীম। গ্রামীণ দারিদ্র্য জনগোষ্টি উল্লেখিত প্রতিষ্টান সমূহের নিকট হতে জামানত বিহীত ও সল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এবং তাদের নিজেস্ব ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে পুঁজি গঠন করে তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের এসকল প্রতিষ্ঠান তাদের সুফলভোগি সদস্যদের এখনো বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ সহ নানামুখী উৎপাদনে তাদেরকে উদ্ভদ্ধকরে যাচ্ছে। যার ফলে বর্তমান বাংলাদেশে দারিদ্র্যের সংখ্যা নেই বললেই চলে। বর্তমান বাংলাদেশ খাদ্য সয়ংসম্পূর্ণ এবং মাথা পিছু আয় ও অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমান বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

পরিশেষে বলাযায় যে বর্তমান বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশের উন্নয়নে জনগনের কর্মক্ষমের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পিত পদক্ষেপ গুলোর ভুমিকা অপরীসিম।

লেখকঃ—- 

মো: আমিরুল ইসলাম
উপজেলা ব্যবস্থাপক
এসএফডিএফ
রংপুর সদর, রংপুর।

সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *