ধনী ধাম্ভিক এক ব্যাক্তি পুরীতে জয় জগন্নাথ

 Jetpack

উজ্জ্বল রায়ঃ

একবার এক ধনী ধাম্ভিক ব্যাক্তি পুরীতে আসলেন ভগবান জগন্নাথকে দর্শন করতে। ১৯৭২ সনের কথা। তিনি শুনেছেন পুরীর মন্দিরে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জগন্নাথরুপে অবস্থান করেন। তিনি জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করা মাত্র এক ভক্ত তাকে জগন্নাথের প্রসাদ সাধলেন। কিন্তু তিনি তা নেওয়ার আগে পকেটে হাত দিয়ে কিছু টাকা বের করে সেই ভক্তকে দিতে চাইলেন। ভক্তটি বলল, না মশাই টাকার প্রয়োজন নেই আমার, আপনি প্রসাদটুকু নিন।

ধনী ব্যাক্তিটি বলল, আমি টাকা ছাড়া কোনকিছু গ্রহন করি না। এই ব্যাপারটি মন্দিরের এক পান্ডা দেখে সব বুঝতে পারলেন। তিনি এই ধাম্ভিক ব্যাক্তিটিকে আনন্দবাজার প্রসাদের মার্কেটে যেখানে জগন্নাথের প্রসাদের অর্ডার নেওয়া হয় সেখানে নিয়ে গেলেন। ধনীব্যাক্তিটি টাকার গরিমা দিয়ে মন্দিরের পান্ডাদের সাথে তার ধনাঢ্য মহিমা প্রচার করতে চাইলেন, যেন তা সবাই জানতে পারে। যিনি প্রসাদের অর্ডার নেন তাকে বললেন, ভগবান জগন্নাথকে প্রতিদিন ৫৬টি ভোগ নিবেদন করা হয়, আমি সেই ভোগের যেকোন একটি আইটেম দিতে চাই তার দাম যেন এক লক্ষ টাকা হয়। এক লক্ষ টাকার কথা শুনে সবাই আশ্চর্যান্বিত হল কিন্তু এত টাকায় একটি আইটেম কি করে দিবে? তারা কেউ এর সমাধান করতে পারল না।

ধনী ব্যাক্তিটির এক কথা এক আইটেম যেন এক লক্ষ টাকার হয়। তখন সেই পান্ডা জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুজারীর কাছে গেলেন। সব শুনে প্রধান পুজারী তাদের বললেন, এর সমাধান স্বয়ং ভগবান জগন্নাথ দিবেন, তবে আজ নয় কাল। কারন জগন্নাথ মন্দিরের নিয়ম আছে যদি কোন সিদ্বান্ত নিতে সবাই অপারগ হন তখন প্রধান পুজারী উপবাস করে জগন্নাথের ধ্যানে বসেন এবং তখন ভগবান জগন্নাথ তার সমাধান দিয়ে দেন।

প্রতিদিন ভগবান জগন্নাথকে ৫৬টি ভোগের সাথে তিনটে পানের খিল্লি দেওয়া হয়। একটি জগন্নাথ, একটি বলরাম ও একটি সূভদ্রা মহারানীর জন্য। প্রধান পূজারী ভগবান জগন্নাথের ধ্যানে বসলে তাকে ভগবান জগন্নাথ বললেন, সে ব্যাক্তিকে বল ও যেন আমায় এক খিল্লিপান দেয়। কিন্তু পানের খিল্লিতে চূন, খয়ের ও সুপারীর পরিবর্তে মিহিমুক্তাদানা যেন দেয়। বৈকূণ্ঠলোক বাসীরা ভগবানকে ভোগের সাথে প্রতিদিন এক খিল্লিপান দেন যাতে এই মিহিমুক্তাদানা থাকে। আর এই মিহি মুক্তা দানা পাওয়া যায় গজ বা হাতীর মাথা থেকে।

পৃথিবীতে প্রবাদ আছে হাতী মরলেও লাখ টাকা, কেননা যদি সেই হাতীর মাথায় যদি মিহিমুক্তাদানা পাওয়া যায়। আজও হাতীর মাথায় সেই মিহিমুক্তাদানা পাওয়া যায় তবে লাখে একটি হাতীতে। সব শুনে সেই ধাম্ভিক ব্যাক্তিটি মাথায় হাত দিয়ে বসে পরলেন। সে টাকার অহংকার করে বুঝতে পারলেন যে ভগবান জগন্নাথকে এক খিল্লিপান দিতে তার সামর্থ্য নেই। সেই ধাম্ভিক ব্যাক্তিটি টাকার গরিমা ত্যাগ করে ভগবানের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করল। এবং জগন্নাথের একনিষ্ঠ ভক্তে রুপান্তরিত হলেন। তিনি হলেন ভারতের হায়দ্রাবাদবাসী যশোবন্ত মেহেতা।

আজও মেহেতা পরিবার জগন্নাথের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেন। দেবীপূজায় পশুবলি প্রসঙ্গ বেদে উল্লেখিত যজ্ঞে পশুবলির দোহাই দিয়ে দুর্গা, কালী, মনসা প্রভৃতি দেবীপূজায় প্রাণিহত্যা আর মদ-মাংস খাওয়ার প্রতিযোগীতা আজ তথাকথিত সনাতন সংস্কৃতির রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলিযুগের ধর্মভ্রষ্ট, উগ্র ও পিশাচগুণসম্পন্ন মানুষেরা তাদের নিজেদের তামসিকতার অনুকূলে উগ্ররূপা কালী-মূর্তির আরাধনা করে এবং মাংসলোলুপতা চরিতার্থ করতে পশুবলি দেয়। তারা কালী-দুর্গাকে বৈষ্ণবীরূপে না দেখে রক্তপায়ী রূপেই দেখে।

এ বিষয়ে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন (ভা.৫/৯/১৮-তাৎপর্য), ্য়ঁড়ঃ;আসুরিক প্রবৃত্তির মানুষেরা কিছু জাগতিক লাভের জন্য কালীপূজা করে। কিন্তু তাদের সেই পূজার নামে তারা যে পাপ করে, তা থেকে তারা অব্যাহতি পায় না। বস্তুত, প্রতিমার সম্মুখে বলি দেওয়া নিষিদ্ধ। কেননা, দেবীদুর্গা জগজ্জননী এবং কালীসহ অন্যান্য দেবীগণ সেই মাতৃস্বরূপেরই বিভিন্ন প্রতিমূর্তি।

জগতের সমস্ত জীবই তাঁর সন্তান। মাতা হয়ে এক সন্তানের দ্বারা অপর সন্তানের বধ তিনি কীভাবে গ্রহণ করতে পারেন? শিব পুরাণে উল্লেখিত আছে, মাতা পার্বতীকে শিবজী পশুবলি নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন তদোত্তরে দেবী পার্বতী বলেন–মম দ্বারে, মম যজ্ঞে যো নরা পশুধাপোকা। যে ধরা নরকাযান্তি যাবৎ চন্দ্র সূর্য দিবাকরম। অর্থাৎ, ্য়ঁড়ঃ;যে ব্যক্তি আমার মন্দির প্রান্তে ও আমার যজ্ঞে পশুবলি দেয়, সেই ব্যক্তি ততদিন নরকযন্ত্রণা ভোগ করে, যতদিন এই পৃথিবীতে চন্দ্র, সূর্য বিদ্যমান। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের, প্রকৃতি খ-ে (৬৪.৪৫- ৪৯) বলা হয়েছে-সাত্ত্বিকী তামসী চৈব ত্রিধা পূজা চ রাজসী। ভগবত্যাশ্চ বেদোক্তা চোত্তমা মধ্যমা-৪৫, সাত্ত্বিকী বৈষ্ণবানাঞ্চ শাক্তাদীনাঞ্চ রাজসী। অদীক্ষিতানামসতাং বন্যনাং তামসী স্মৃতা(৪৬) জীবহত্যাবিহীনা যা বরা পূজা বৈষ্ণবী। বষ্ণবাযান্তি গোলকং বৈষ্ণবীবরদানতঃ(৪৭),মহেশ্বরা রাজসী চ বলিদানসমন্বিতা। শাক্তা রাজসাশ্চ কৈলসং যান্তি যে ৪৮, কিরাতা নরকং যান্তি তামস্যাং পূজয় তথা ৪৯, ভগবতী দুর্গার সাত্ত্বিকী, রাজসী ও তামসী-এই তিন প্রকার উত্তমা, মধ্যমা ও অধমা পূজা আছে। এই ত্রিবিধ পূজার মধ্যে বৈষ্ণবদিগের সাত্ত্বিকী পূজা ও শাক্তদিগের রাজসী, আর অদীক্ষিত পশুতুল্য অসাধুদের পূজাকে তামসী বলা হয়। জীবহত্যাবিহীন শ্রেষ্ঠ পূজা বৈষ্ণবী: বিষ্ণুর উপাসকগণ বৈষ্ণবীয় আশীর্বাদে গোলকধামে গমন করে। আর কিরাত তথা নিম্নচেতনাসম্পন্ন ব্যক্তিরা তামসী পূজায় নরকে গমন করে।্য়ঁড়ঃ;তাই পদ্মপুরাণে পাতালখ-ে (৩৯.৩৪) বলা আছে-সৗবর্ণাং রাজতীং বাপি বিষ্ণুরূপা বলিং বিনা। হিংসাদ্বেষৌ ন কর্তব্যৌ ধর্মাত্মা।
Jetpack

সময়নিউজ২৪.কম/ বি এম এম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *