নওগাঁর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মানুষ সংসদীয় কমিটির কাছে নিপীড়ন ও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরলেন

 Jetpack

শহিদুল ইসলাম (জি এম মিঠন) নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

নওগাঁয় গণশুনানিতে নিপীড়ন ও বৈষম্যের নানান চিত্র তুলে ধরলেন নওগাঁর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অবহেলীত মানুষেরা। দলিত ও সমতলের আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলিত ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্পর্কিত সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি) এ গণশুনানির আয়োজন করেন।

(১৯ নভেম্বর) মঙ্গলবার নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার জোয়ানপুর গ্রামে খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এ গণশুনানি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেন স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) পল্লী সহযোগী বিষয়ক সংস্থা (আরকো)।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এপিপিজির সভাপতি মনোরঞ্জন শীল গোপাল, সদস্য সচিব শিশির শীল, স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব মোঃ ছলিম উদ্দীন তরফদার সেলিম, এপিপিজির সদস্য সাংসদ বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন, সাংসদ গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, সাংসদ ফেরদৌসি ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া প্রমুখ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া গণশুনানি অনুষ্ঠানে মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে আসা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ সংসদীয় কমিটির কাছে তাদের নানান সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

আদিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া তারা বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মানুষদের অনেক জমি দখল করে নিয়েছেন। এমনকি শ্মশানঘাট পর্যন্ত দখল করে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা।

এছাড়া রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের নিজ ভাষায় পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির দাবি তুলে ধরা হয় গণশুনানিতে। গণশুনানিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কিছু অভিযোগের সমাধান করে দেন। এছাড়া কিছু কিছু পরবর্তীতে যোগাযোগ ও লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সমস্যা সমাধানের আশ^াস দেন এসময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা ।

প্রধান অতিথি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, নিজেদের আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দিতে চাইলে নিজেদের কৃষ্টি-কালচার আগে টিকিয়ে রাখতে হবে। আদিবাসীরা নৌকা দেখলেই পাগল হয়ে যায় অথচ আমরা আওয়ামী লীগ নেতারা কেউ আদিবাসীদের আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান দেই না। এজন্য আমরা জেলা আওয়ামী লীগ প্রত্যেক ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা কমিটিতে আদিবাসীদের পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, এই সরকার ই একমাত্র আদিবাসীদের খোঁজখবর রাখেন। তারপরেও আদিবাসীরা এখনও বিভিন্ন দিকদিয়ে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

বাঙালি এবং আদিবাসী হিসেবে সরকারের কাছ থেকে আমাদের বাড়তি সুবিধা আদায় করে নিতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সমতলে দেশের দুই-তৃতীংশ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। অথচ বাজেটে তাদের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয় না। এক-তৃতীংশ জনগোষ্ঠী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস সত্ত্বেও পাহাড়ী আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় করা হয়েছে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় হওয়া দরকার।

দলিত ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্পর্কিত সংসদীয় গ্রুপকে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের জন্য সুপারিশমালা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার জন্য ও এসময় আহ্বান জানান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি। এপিপিজির সভাপতি মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, আদিবাসীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। আদিবাসীদের সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অগ্রাধিক দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
Jetpack

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *