নওগাঁর দুবলহাটি রাজবাড়িতের্ একুশে পরিষদের নাচ ও গান অনুষ্ঠিত

 Hostens.com - A home for your website

শহিদুল ইসলাম (জি এম মিঠন), নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

নওগাঁয় ব্যতিক্রমী সংগঠন উড়ন্তের শিল্পকর্ম বিনিময় উপলক্ষ্যে নওগাঁর একুশে পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো নাচ ও গান। (৭ ডিসেম্বর) শনিবার বিকেলে নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার দুবলহাটি রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে একুশে পরিষদ আয়োজন করে আদিবাসী নৃত্য, দেশের গান, আধুনিক গান, সাধারণ নৃত্য।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পলাশ কুমার দাশ রচিত দুবলহাটি রাজবাড়ির ইতিকথা নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। অনুষ্ঠান দেখার জন্য রাজবাড়ি প্রাঙ্গনে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে।

এছাড়াও এখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের উপদেষ্ঠা সজল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম এম রাসেল, উড়ন্তের নির্বাহী পারচিলক সাদিয়া মিজান প্রমুখ। অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ্রগহণ করেন নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একুশে পরিষদের সদস্য নওরীন আক্তার শারমিন। সঙ্গীত পরিবেশন করেন একুশে পরিষদের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপুল কুমার, রাহুল, বৃষ্টি। তবলায় সহযোগিতা করেন একুশে পরিষদ নওগাঁ-র সাংস্কৃতিক সম্পাদক রণজিৎ কুমার পাল।

নৃত্য পরিবেশনা করে সুনন্দা, চেরাগপুরের আদিবাসী সাংস্কৃতিক দল, সান্তাহারের দলিত সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক দল। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন একুশে পরিষদ নওগাঁর উপদেষ্টা বিন আলী পিন্টু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন লিটন, নাইস পারভীন ও মাগফুরুল হাসান বিদ্যুৎ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিষ্ণু দেবনাথ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক আনন্দ সরকার, আবু মুসা আল হোসাইন তারিক, নাজমিন মুন্নি, কাইয়ূম হোসেন, কলেজ শাখার সহ-সভাপতি সুমন কুমার।

নওগাঁর দুবলহাটি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের একটি স্বল্প পরিচিত জমিদারা বাড়ি। সেখানে পৃথবীর ১০টি দেশ থেকে আগত ৩১জন শিল্পী, গবেষক ও সৃজনশীল কর্মী একত্রিত হয়েছে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসব্যাপী। উড়ান্ত শিল্পীগোষ্ঠীর আবাসিক শিল্পকর্ম বিনিময় কর্মসূচি অষ্টম ও নবম পর্বের কর্মকান্ডের প্রধান মিলনস্থল হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটিকে ।

শিল্পীদের একটি ভিন্নধরণের সংগঠন ‘উড়ন্ত’। এই শিল্পীগোষ্ঠি শৈল্পিক ভাষায় গল্পের রুপে সমসাময়িক নানা বাস্তবতাকে উপস্থাপন করে। উড়ন্ত আবাসিক শৈল্পিক বিনিময় কর্মসূচি হচ্ছে, উড়ন্ত শিল্পীগোষ্ঠীর প্রধান বাৎসরিক কার্যক্রম।

সেখানে রাজধানী শহরের বাইরে অবস্থিত বাংলাদেশের বিভিন্ন অজানা পুরাতন পরিত্যাক্ত ঐতিহাসিক বাড়িকে কেন্দ্র করে এক নতুুন ধরনের মঞ্চ উপস্থাপন করা হয়। যে মঞ্চে সব শ্রেণির সব মাধ্যমের শিল্পীরা একত্রিত হয়ে নিজেদের সৃজনশীলতাকে নতুন মাত্রায় প্রসার করতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সংস্পর্শে এসে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিল্পকর্মের নতুন ধারা প্রচার করতে পারবে।

প্রতি পর্বে শিল্পীরা, অজানা কিংবা খবু নিকট সময়ে হারিয়ে যবে অথবা ভেঙ্গে ফেলা হবে এমন স্থাপনা গুলোর ইতিহাস ও জড়িয়ে থাকা স্মৃৃতি গুলোর এক বিকল্প ধারার উপস্থাপনা করে থাকেন।

অবহেলা ও অযত্নে  হারিয়ে যাওয়া পুরোনো ঐতিহাসিক রাজবাড়িগুলোর সাথে হারিয়ে যাচ্ছে অজানা ইতিহাস। এই সম্পদগুলোর সাথে পুনরায় জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক গড়ে তুলতেও ভূমিকা রেখে আসছে ‘উড়ন্ত’ এবং তাদের শিল্পীগণ। পুরোনো রাজবাড়িগুলোর পরিসীমায় বসবাসকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে সৃজনশীলতার এই কার্যক্রমে। ফলে তৈরী হয় এক নতুন ধারা যা পরবর্তীতে ঐ অঞ্চলের মানুষকে আগ্রহী করে তোলে হারানো ইতিহাসকে খুঁজে বের করার ব্যাপারে।

উড়ন্তর আসন্ন অষ্টম ও নবম পর্বের অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন : আবিদ আসলাম (পাকিস্তানি ), অর্ণব সাহা ( বাংলাদেশ ), বার্গিট্রা ভলজ (জার্মানি), চন্দ্রেয়ী দে (ভারত), ডেভিড তাগলিয়াবু (ইতালী ), দূপক কুমার ইয়াদাভ ( ভারত ), এলডি গিগনার্ড (ফ্রান্স) , ফৌজিয়া মাহিন চৌধূরী (বাংলাদেশ), হেলেনা আম্বেম্বে (সাউথ আফ্রিকা), জুয়েল চাকমা (বাংলাদেশ), কাজী তৌফিকুল ইসলাম (বাংলাদেশ), মনির মৃত্তিক (বাংলাদেশ) , মিনিনকূলে নিয়েগই (সাউথ আফ্রিকা), মোহিত প্রিয়দর্শী (ভারত), মুহাম্মদ শাফায়েত হোসেইন (বাংলাদেশ ), নবিল রহমান (বাংলাদেশ/নিউইয়র্ক), নিশা রেচেল ফিলিপ (ভারত), রাকিয়া উইলিয়ামস (স্পেন), রঙ্গজীর রয় (ভারত), রুবি কর্মকার (ভারত) , রুপানীথান পাক্কিয়ারাজা (শ্রীলংকা ), এস এম আসাদুজ্জামান রুপ (বাংলাদেশ), সর্বান চৌধুরী (ভারত), সারিয়া তাসনিম আহমেদ ( বাংলাদেশ ), সিমাঙ্গলিস (সাউথ আফ্রিকা ), সৌনক দাস ( বাংলাদেশ ), সায়েদ মুহাম্মদ জাকির (বাংলাদেশ ), তাইয়ারা ফারহানা তারেক ( বাংলাদেশ ), তানভীর আলিম ( বাংলাদেশ ), মুনা হোসেন ( বাংলাদেশ ), অমিয় রায় ( বাংলাদেশ ) ।

প্রতিবারের মতই সকল অংশগ্রহনকারী শিল্পীরা সহজলোভ্য মৌলিক উপাদান নিয়ে সকল কাজ প্রস্তুত করেন। স্থানটির পরিবর্তনশীল অস্তিত্ব ও সময়ের পারস্পারিক সম্পকের বিশ্লেষণ শিল্পকর্ম উপস্থাপন করা হয়।

২০১২ সালে হতে নয়টি কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশে উড়ন্তর হাত ধরে প্রায় ১০টি দেশের শতাধিক শিল্পী তাদের সৃজনশীল দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ১০টিরও বেশি পরিত্যাক্ত ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে কাজ করে আসছেন। এবারের কর্মসূচি কিওরেটররা আশা করছেন যে একাধিক মাধ্যমের সংমিশ্রন যথাযথভাবে সম্মিলিত হলে বেড়িয়ে আসে অসাধারণ কিছু নান্দনিক উপস্থাপনা। কাজের নির্ধারিত স্থান সমূহের পারিপার্শিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির উপাদানগুলো মিলিয়ে নতুন ধারার শিল্পকর্ম উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেছেন কিউরেটর সাদিয়া মিজান ও জিওভান্নি মরাস্যুটটি (জার্মানি ) ।

এই শৈল্পিক বিনিময় কর্মসূচির অষ্টম পর্ব চলে ১৫-২৬ নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত এবং নবম পর্ব চলে ২৭ নভেম্বর থেকে ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত। তিনটি ভিন্নধমী কর্মশালা ২০ নভেম্বর ২৮-২৯ নভেম্বর এবং ৪-৬ ডিসেম্বর যথাক্রমে একটি মালাকারদে সাথে শোলার জিনিষ তৈরীর কর্মশালা পরিচালনা করেন শিরিষ চন্দ্র মালাকার, অরিগামি কর্মশালা পরিচালন করেন আসাদুজ্জামান রুপ এবং অপ্রচালিত বস্তু থেকে নান্দনিক জিনিস তৈরির কর্মশালা পরিচালনা করেন অর্ণব সাহা ।

প্রত্যেকটি পর্বের শেষে একটি স্থানীয় প্রদর্শনী উন্মুক্ত করে দেয়া হয় সর্বসাধারণের জন্যে ২৬ নভেম্বর এবং ৭ ডিসেম্বর ১০১৯ খ্রি.। ২৭ নভেম্বর আয়োজন করা হবে একটি বিশেষ মঞ্চনাটক, পরিচালনায় ছিলেন প্রচ্যনাট নাট্যদলের কাজী তৌফিকুর ইসলাম এবং অভিনয়ে অংশগ্রহণ করেন প্রাচ্যনাটের সদস্যসহ নওগাঁ জেলার স্থানীয় থিয়েটার কর্মীরা।

এছাড়্ওা নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী সংগঠন স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহযোগিতায় আয়োজিত হয় নানা চিত্রাঙ্কন কর্মশালা, বাউল গানের আয়োজন, চলচিত্র প্রদর্শনী।
Hostens.com - A home for your website

সময় নিউজ২৪.কম/এমএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *