নওগাঁর নওহাটামোড় ফাঁড়ি এলাকায় একের পর এক দুঃসাহসীক চুরি সংঘঠিত-ফাঁড়ি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

শহিদুল ইসলাম (জি এম মিঠন) নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মহাদেবপুর থানাধীন নওহাটামোড় (চৌমাশিয়া) পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় হঠাৎ করেই ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে দুঃসাহসীক চুরির ঘটনা। আনুমানিক আড়াই মাস পূর্বে থেকে হঠাৎ করেই একের পর এক দুঃসাহসীক চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতি মধ্যেই ব্যবসায়ী মহল সহ সাধারন মানুষজন আতংকের মধ্যেদিয়ে জীবন-যাপন করছেন।

এলাকার লোকজন জানান, আজ থেকে আড়াই বা ৩ মাস পূর্বে ও এলাকা এক প্রকার শান্তই ছিলো। চুরি সহ এমনকি এলাকার মাদকের স্পট গুলোতে মাদক পর্যন্ত কেনাবেচা বন্ধ হয়ে পড়েছিল পুলিশী অভিযানে। কিন্তু মাত্র আড়াই বা ৩ মাসের ব্যবধানে নওহাটামোড় চৌমাশিয়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় হঠাৎ করেই বেশ কয়েকটি গ্রামে ফের মাদকদ্রব্য কেনাবেচা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই চুরির ঘটনা ও ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ চুরির ঘটনাটি ঘটেছে গতরাত অর্থাৎ শুক্রবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় । নওহাটামোড় (চৌমাশিয়া) বাজারের দুটি ওয়েল্ডিং ওয়ার্কসপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে (লেদ কারখানায়) এ চুরির ঘটনা ঘটে।

সষ্ঠি ওয়েল্ডিং এন্ড ওয়ার্কসপ এর মালিক শ্রী সষ্ঠি চন্দ্র জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের দোকানে কর্মচারীর কাজ করে উপার্জিত অর্থদিয়ে ঘড় ভাড়ানিয়ে এক মাস এখনো হয়নি সষ্ঠি ওয়েল্ডিং এন্ড ওয়ার্কসপ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছি। প্রতিদিনের মতোই শুক্রবার রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালাদিয়ে বাড়িতে চলে যায়। আজ শনিবার সকালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে এসে দেখি ঝাপের তালা ভাঙ্গা , ভেতরে প্রবেশ করে দেখি আমার কেনা নতুন ঝালাই মেশিন সহ কাজের প্রায় সব যন্ত্রপাতী নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা।সষ্ঠি ওয়েল্ডিং এন্ড ওয়ার্কসপ এর পার্শ্বের হযরত শাহসুলতান মেকানিক্যাল এ্যান্ড ওয়েল্ডিং ওয়ার্কসপ নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও ঝাপের তালাভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটে একই রাতেই।

হযরত শাহসুলতান মেকানিক্যাল এ্যান্ড ওয়েল্ডিং ওয়ার্কসপ এর মালিক রাজু আহম্মেদ সুলতান জানান, গত রাতের কোন এক সময় চোরেরা আমার দোকানের ঝাপের তালাভেঙ্গে ঘড়ে প্রবেশ করে ঘড়ে থাকা গিয়ার বক্স ও পিনিয়াম সহ সর্ব নি¤œ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়েগেছে।

সংবাদ লেখার সময় পর্যন্ত এ দুটি চুরির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ্য ব্যবসায়ীরা বলেন, মামলার পস্তুতি নেয়ার চিন্তা ভাবনা করছি আমরা।

উল্লেখ্য- গত বুধবার দিবাগত রাতেই নওহাটামোড় (চৌমাশিয়া) গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ও কৃষক শ্রী প্রবীর চন্দ্র মন্ডল এর ইটের তৈরী গোয়াল ঘড়ে সীদ কেটে আনুমানিক সোয়া লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাভী ও বাছুর মোট ৪ টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে অজ্ঞাত চোরের দল।

একই রাতে ফাঁড়ি এলাকার সরস্বতীপুর বাজারের আল-আকসা ট্রেডার্স নামক ধানের আড়ৎ থেকে ভ্যানগাড়ী যোগে ধান চুরি করার ঘটনায় দু যুবককে বাজারের ব্যবসায়ীরা আটক করে ফাঁড়ি
পুলিশে সোর্পদ করলেও পুলিশ চুরি মামলা না নিয়ে আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করেন। ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক বিচার শেষে একজনকে ছেড়ে দেন ও একজনকে ৩ মাসের জেল দেন বলে পুলিশ সুত্রে জানাগেছে।

এঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আসামী ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে সরস্বতীপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে পুলিশের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সরস্বতীপুর বাজারের আল-আকসা ট্রেডার্স এর মালিক সানোয়ার জানান, এচুরি ঘটনার আগে ১২ মে তার আড়ৎ ঘড়ের তালা ভেঙ্গে নগদ সারে ৯ হাজার টাকা, একটি কম্পিউটার ও টার্স মোবাইল
ফোন চুরি ঘটনা ও ঘটেছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা চোরকে ধরে পুলিশে সোর্পদ করলেও পুলিশ চুরি মামলা না নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে চোরদের বিচার করছে । জানিয়ে তিনি আরো
বলেন, বাজারের সব ব্যবসায়ীরা চরম আতংকের মধ্যেদিয়ে দিবারাত্রী পার করছি।

এ চুরির মাত্র ৫/৬ দিন পূর্বে সাবেক পুলিশ ফাঁড়ি ভবনের সামনেই ইদ্রিস আলী নামের এক মুদি দোকান ব্যবসায়ীর সাটারিং ঝাপের তালাভেঙ্গে দুঃসাহসীকভাবে মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল।

এছাড়া আড়াই মাসেই মহাদেবপুর থানাধীন নওহাটামোড় (চৌমাশিয়া) পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার, নওহাটামোড় বাজার, পিড়া মোড় ও বটতলী মোড় বাজারের মোট ৫ টি কিটনাশকের দোকানে ৭
বার ঝাপের তালা ভেঙ্গে দুঃসাহসীক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

আর এসব একের পর এক চুরি ঘটনায় আনুমানিক প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল চুরি করে নিয়েগেছে অঙ্গাত চোরের দল বলেই জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ্য ব্যবসায়ীরা।
একের পর এক দুঃসাহসীক চুরির ঘটনায় নওহাটামোড় চৌমাশিয়া ফাঁড়ি এলাকার ব্যবসায়ী সহ সাধারন মানুষরা ও চরম আতঙ্কের মধ্যেদিয়ে দিবারাত্রী পার করছেন। এছাড়া ফাঁড়ি পুলিশের দ্বায়িত্ব পালন নিয়ে ও জন-সাধারনের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চৃষ্টি হয়েছে।

মোবাইল ফোনে নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ইন্সপেক্টর হুমায়ন বক্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের মূল প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, কোথায় কোন লেদ এর দোকানে চুরি হয়েছে এখবর রাখিনা, তবে গতকাল ভ্রাম্যমান আদালত এসেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, কোন লেদ কারখানা দোকানীরা সড়কের ধারে সরকারী জায়গাঁয় কোন প্রকার মালামাল রেখে কাজ করতে পারবেনা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বাজারে নাইট গার্ড না রাখার কারনে ই চুরি হচ্ছে।

সময়নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *