নওগাঁর সীমান্তে বাংলাদেশী যুবকের আঙ্গুলের নখ প্লাসদিয়ে তুলে অমানকি নির্যাতন করেছে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী বিএসএফ

শহিদুল ইসলাম (জি এম মিঠন) নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর সীমান্তে আজিম উদ্দীন ওরফে ভুট্টু নামে (২০) নামের এক বাংলাদেশী যুবকের দুটি হাতের ১০টি আঙ্গুলের সবকটি নখ প্লাসদিয়ে উপড়ে তোলা সহ অমানবিক ও নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এঘটনাটি ঘটেছে গতরাতে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার পাতাড়ী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের রাঙ্গামাটি এলাকায়। পাতাড়ী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের রাঙ্গামাটি ৬০ বিএসএফ জোয়ানরা এ নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে বলে স্থানিয় সুত্র জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে একদল গরু ব্যাবসায়ীর সাথে সাপাহার উপজেলার দক্ষিন পাতাড়ী (তুলশীডাঙ্গা) গ্রামের কাবির উদ্দীন এর ছেলে আজিম উদ্দীন ওরফে ভুট্টু (২০) রাখাল হিসেবে ভারতের অভ্যন্তরে গরু আনতে যায়। গরু নিয়ে তারা আজ শনিবার ভোরে সীমান্তের ২৪২ নাম্বার পিলার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভারতের বামনগোলা থানার রাঙ্গামাটি ক্যাম্পের ৬০ বিএসএফের টহলরত জোয়ানরা তাদের পিছু ধাওয়া করে। এ সময় অন্যান্যরা গরু রেখে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আজিম উদ্দীন বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। পরে তারা তাকে ক্যাম্প এলাকায় নিয়ে গিয়ে জীবন্ত অবস্থায় দু’হাতের প্রত্যেকটি আঙ্গুলের উপরের অংশ (খোশা বা কুনি) উপড়ে ফেলে এবং অমানবিকভাবে শারিরীক নির্যাতন করে।

এ সময় আজিম উদ্দীন বিএসএফের অমানুষিক নির্যাতনে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অচেতন অবস্থায় তারা তাকে সীমান্তবর্তী পুর্নভবা নদীর জিরো পয়েন্টে ফেলে রেখে চলে যায়। আজ ভোর ৫টার দিকে আদাতলা ১৬ বিজিবি’র একটি টহল দল ওই এলাকায় গেলে তারা নদীর কিনারে ওই যুবককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। এরপর সকাল ১০টার দিকে আদাতলা বিজিবি সদ্যসরা আহত যুবককে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্রে ভর্তি করায়। বিএসএফের নির্যাতনের শিকার আহত আজিম উদ্দীন এখন সাপাহার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ ব্যাপারে নওগাঁস্থ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে সাপাহার থানায় একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

সময়নিউজ২৪.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *